চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: দক্ষিণবঙ্গর এক ইতিহাস প্রসিদ্ধ জায়গা হল হুগলির প্রাচীন জনপদ আঁটপুর। স্বামী বিবেকানন্দ ও তাঁর গুরুভাইদের স্মৃতিবিজরিত গ্রাম আঁটপুর৷ স্বামীজীর গুরুভাই স্বামী প্রেমানন্দের জন্মস্থান আঁটপুর৷ আঁটপুর গ্রাম মন্দিরময়৷ বহতা নদীর ধারে অবস্থিত আঁটপুর গ্রামটি ৮টি গ্রাম নিয়ে তৈরি। ৮টি গ্রাম হল তড়া, বোমনগর, কোমরবাজার, ধরমপুর, আনারবাটি, রানিরবাজার, বিলাড়া ও লোহাগাছি৷ আঁটপুরে আসলে দেখা যায় প্রাচীন রাধাগোবিন্দ জিউয়ের মন্দির, ঘোষেদের লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, প্রাচীন বকুলগাছ, চণ্ডীমণ্ডপ, জলেশ্বর, ফুলেশ্বর, বাণেশ্বর ও রামেশ্বর মন্দির।

১৭০৮ সালে তৈরী মিত্রদের রাধাগোবিন্দের আটচালা শৈলীর মন্দিরের টেরাকোটার অপূর্ব কারুকাজ দেখা যায়৷ বাংলার প্রাচীন কাঠ খোদাইয়ের অন্যতম নিদর্শন মেলে কাছের চণ্ডীমণ্ডপে৷ বর্ধমান রাজা তিলোকচন্দ্র বাহাদুরের দেওয়ান কৃষ্ণরাম মিত্র বৈদ্যবাটির নিমাইতীর্থের ঘাট থেকে গঙ্গাজল, গঙ্গামাটি এনে সেই মাটি পুড়িয়ে তাতে ইট তৈরি করে রাধাগোবিন্দের মন্দির নির্মান করেন৷ টেরাকোটার কাজের জন্য তিনি বিষ্ণুপুর থেকে মৃৎশিল্পী আনান ৷ মন্দিরটি প্রায় ১০০ ফুট উঁচু৷ মন্দিরের সামনের ও ২ পাশের দেওয়ালে অজস্র টেরাকোটার প্যানেল আছে৷ সামাজিক দৃশ্য থেকে পৌরাণিক দৃশ্য সবই খোদাই করা হয়েছে টেরাকোটার প্যানেলে৷ এছাড়াও রয়েছে টেরাকোটার তৈরি পাঁচটি শিব মন্দির—গঙ্গাধর, ফুলেশ্বর, জলেশ্বর, বাণেশ্বর ও রামেশ্বর৷ বিপরীতে রয়েছে সারদা ভবন৷ কাছাকাছি রয়েছে রামকৃষ্ণ মিশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রেমানন্দ অর্থাৎ বাবুরাম ঘোষের দূর্গা বাড়ি৷

এই বাড়িতেই স্বামী বিবেকানন্দ- সহ ৯ জন গুরুভাই ধুনি জ্বালিয়ে সন্ন্যাস গ্রহণের সংকল্প নেন৷ এই দিনটিতে স্মরণ করে প্রতিবছর এখানে অনুষ্ঠান হয়৷ যেখানে ধুনি জ্বালানো হয়েছিল সেই মণ্ডপে স্বামী বিবেকানন্দ-সহ ৯ জনের প্রতিকৃতি রাখা হয়েছে। এর কাছাকাছি রয়েছে একটি দিঘি। স্বামীজী সেই দিঘিতে স্নান করতেন তাই দিঘির নাম ‘নরেন্দ্র সরোবর’। এছাড়াও ৩০০ বছরের প্রাচীন বকুল গাছটিও দর্শনীয়৷ এখানকার রামকৃষ্ণ মিশনের দূর্গাপুজোও বিখ্যাত। আঁটপুর থেকে ঘুরে আসা যায় রাজবলহাট। এখানে রাজবল্লভী মন্দির রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে আটচালা ও খিলানযুক্ত প্রাচীন রাধাকান্ত মন্দির।

কীভাবে যাবেন এবং কোথায় থাকবেন
কলকাতা থেকে সরাসরি আঁটপুর যাওয়ার বাস আছে৷ গাড়িতে এলে সড়ক পথে ৪৮ কিলোমিটার৷ এছাড়াও হাওড়া-তারকেশ্বর লোকালে গিয়ে হরিপাল স্টেশনে নেমে বাসে আঁটপুর আসা যায়৷ ১২টা থেকে ৩টে পর্যন্ত মন্দির বন্ধ থাকে৷ থাকার জন্য রয়েছে রামকৃষ্ণ মিশনের অতিথিশালা।