ad
ad

Breaking News

Social Media

আপনি কি ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়,নিজের অজান্তে ডেকে আনছেন বিপদ

ব্যক্তিগত তথ্য সবাইকে একদমই জানাবেন না যাতে ভবিষ্যতে আপনি নিজেই বিপদে পড়েন

unknowingly exposing yourself to danger?

Bangla Jago Desk, Mou Basu : ‘গোপন কথাটি…’ গোপনেই রাখতে দিন। স্মার্টফোনশোভিত আধুনিক জীবনের অন্যতম অঙ্গ হয়ে উঠেছে এখন সোশাল মিডিয়া। যোগাযোগের নিবিড় মাধ্যম সোশাল মিডিয়ায় ব্যক্তি গোপনীয়তা আর সুরক্ষার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয় তাই সব ব্যক্তিগত তথ্য সবার সঙ্গে শেয়ার করবেন না। এমনকী, ঘনিষ্ঠ অন্তরঙ্গ বন্ধুর সঙ্গেও নয়। আজ যে বন্ধু কাল যে সে আপনার শত্রু হয়ে উঠবে না, এমন গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না। তাই সব ব্যক্তিগত তথ্য সবাইকে একদমই জানাবেন না যাতে ভবিষ্যতে আপনি নিজেই বিপদে পড়েন।

সোশ্যাল মিডিয়া কী পোস্ট করবেন না

  • সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বেড়ানোর আগাম পরিকল্পনা, তথ্য এসব শেয়ার করবেন না। যতদিন বেড়াচ্ছেন ততদিন বেড়ানোর ছবি পোস্ট করবেন না। বাড়িতে ফেরার পর বেড়ানোর ছবি পোস্ট করবেন।
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকেশন ডেটা অর্থাৎ কোথায় বেড়াতে গেছেন সে সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করবেন না। কোনো কিছু পোস্ট করার আগে স্মার্টফোনে লোকেশন ডেটা অফ করে রাখুন।
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় কখনো নিজের ফোন নম্বর, ঠিকানা, ড্রাইভার লাইসেন্স, পাসপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, পূর্ণাঙ্গ জন্ম তারিখ, এসব তথ্য শেয়ার করবেন না। এরকম প্রশ্ন অনেক সময়ই অনলাইন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার জন্য জিজ্ঞেস করা হয়। ফেসবুকে প্রায়সই ‘ফান ক্যুইজ’ নজরে আসে৷ সেখানে আপনার প্রথম স্কুল, আপনার পোষ্যর নাম ইত্যাদী জিজ্ঞেস করা হয়। তাই এসব ফান ক্যুইজ খেলবেন না তাতে ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকারদের হাতে পড়তে পারে।
  • গাড়ি, বাড়ি, গয়না, ফোন, ল্যাপটপ, টিভির মতো দামি জিনিস কিনলে সে সংক্রান্ত তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন না। এমন ব্যবহারে কম আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পায়। এমনকী যে সব ব্যক্তি নিয়মিত তাদের সম্পত্তি কত সেটা অন্যদের কাছে সর্বসমক্ষে জানায়, মনে করা হয় তাদের ব্যক্তিত্বে বা মানসিক ভাবে কোনো সমস্যা আছে। মনে করা হয়, এমন ব্যক্তির মধ্যে মানসিক ভাবে কোনো গভীরতাই নেই৷ এসব বাড়ি-গাড়ি, গয়না, টাকাপয়সাতেই তাদের মূল আকর্ষণ। অন্যের আকর্ষণ কাড়ার জন্যই তারা এমন করে।
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো খেলায় অংশ নেবেন না। এতে কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারির শিকার হতে পারেন। অজান্তে হ্যাকারদের হাতে গোপন তথ্য চলে যেতে পারে।
  • ব্যক্তিগত বা কাজের জগতের কোনো গোপনীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন না।

কোন তথ্য অন্যের সঙ্গে শেয়ার করবেন না-

  • নিজের কোনো সিক্রেট যেমন শেয়ার করবেন না তেমনই অন্যের জীবনের কোনো গোপন কথা জানতে পারলে সে কথাও অন্যদের জানাবেন না।
  • আপনি কত আয় করেন সে কথা কখনো বলবেন না। যারা শুধু টাকাপয়সা, আয় কত এসব নিয়ে কথা বলে আসলে তারা মানসিক অবসাদে ও আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগে।
  • নিজের ভবিষ্যতের লক্ষ্য কী আপনার, তা জনে জনে ঢাক পিটিয়ে বলে বেরাবেন না। নিজের সাফল্য সম্পর্কে কিছুটা তুষ্ট বা খুশি থাকা ভালো। কিন্তু নিজের আগামী লক্ষ্য কী তা সবাইকে জানাবেন না। বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যপূরণ তখনই সম্ভব যখন আপনি সেই লক্ষ্যের কথা গোপন রাখবেন। গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা যখন নিজেদের লক্ষ্যের কথা অন্যকে আগেভাগে জানিয়ে দিই তখন আমাদের মস্তিষ্কে সঙ্কেত যায় আমরা লক্ষ্যপূরণ করে ফেলেছি, যদিও বাস্তবে আমরা তা করিনি। এই মিথ্যে আবেগ কমিয়ে দেয় আমাদের ইম্পালস বা কাজে সফল হওয়ার তাগিদ।
  • অন্যকে সাহায্য করা বা অন্যের ভালো করার কথা জনে জনে বলে বেরাবেন না। আপনি কতটা সাহসী, সাহসের কী কাজ করেছেন তাও সবাইকে এত বলবেন না। নিজের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস ও চিন্তাভাবনা একান্তই ব্যক্তিগত। তা সবাইকে জানাবার নয়।
  • ঘটিবাটি একসঙ্গে থাকলে ঠোকাঠুকি লাগবেই। মনে রাখবেন সব সংসারেই কমবেশি অশান্তি, মনোমালিন্য হয়। তাই নিজের সংসারের রোজনামচা গোটা পৃথিবীকে জানাবেন না। কারণ, অন্যরা আপনার কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারবে না শুধুই গসিপ করবে। ২০% ভালো করে কান দিয়ে শুনবেই না। বাকি ৮০% মনে মনে আনন্দ পাবে আপনি বিপদে পড়েছেন দেখে।