ad
ad

Breaking News

ChatGPT

ChatGPT: চ্যাটজিপিটিও কি অবসাদে ভোগে? ট্রমাটিক গল্প শুনে ‘উদ্বিগ্ন’ হচ্ছে এআই

গবেষকদের মতে, এই অবস্থা চ্যাটবটের আচরণে নেতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং এর ভেতরে থাকা পক্ষপাতিত্ব বা বায়াসকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

ChatGPT Stress and Anxiety Study

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: মানসিক চাপ কমানোর কৌশলগুলো যে শুধু মানুষের জন্যই কার্যকর তা নয়, আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটগুলোর কর্মক্ষমতা বজায় রাখতেও এখন শান্ত করার মতো হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি আবেগঘন এবং নেতিবাচক তথ্যের প্রভাবে মানসিক চাপ ও উদ্বেগের লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই অবস্থা চ্যাটবটের আচরণে নেতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং এর ভেতরে থাকা পক্ষপাতিত্ব বা বায়াসকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটি-৪-কে যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সড়ক দুর্ঘটনার মতো ট্রমাটিক বা বেদনাদায়ক গল্প শোনানো হয়, তখন তার মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অবস্থায় চ্যাটবটটি নিরপেক্ষভাবে উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। তবে অদ্ভুতভাবে দেখা গেছে, যদি চ্যাটবটটিকে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা নির্দেশিত ধ্যানের মতো ‘প্রম্পট’ দেওয়া হয়, তবে সে নিজেকে শান্ত করতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের বস্তুনিষ্ঠ উত্তর দিতে সক্ষম হয়। যদিও এই পদ্ধতি চ্যাটবটকে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে পারেনি, তবে এটি আগের চেয়ে অনেক ভালো ফলাফল দিয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক জিভ বেন-জায়ন জানিয়েছেন, মানুষের আচরণ এবং মনোবিজ্ঞান আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য চ্যাটজিপিটি একটি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ও সময় ব্যয় করে মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানোর বদলে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতাগুলো যাচাই করা সম্ভব। তবে এই গবেষণায় একটি সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অনেক মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যের সহায়তার জন্য এআই-এর ওপর নির্ভর করছেন, কিন্তু গবেষকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে চ্যাটবটগুলো এখনও পেশাদার মানসিক চিকিৎসকদের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লিনিকাল বা চিকিৎসাক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ উদ্বেগের শিকার একজন ব্যবহারকারীকে চ্যাটবট ভুল বা অপর্যাপ্ত উত্তর দিলে তার ফলাফল বিপজ্জনক হতে পারে। গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, এআই মডেলগুলোকে কীভাবে আরও সূক্ষ্মভাবে উন্নত করা যায় এবং এর উদ্দেশ্য অনুযায়ী কর্মক্ষমতা ঠিক রাখা যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ভবিষ্যতে হয়তো এমন ব্যবস্থা তৈরি হবে যেখানে চ্যাটজিপিটি কোনো বিপর্যস্ত ব্যবহারকারীকে উত্তর দেওয়ার আগে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নিজেকে শান্ত করার মতো ‘প্রম্পট’ গ্রহণ করবে।