চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: প্রেমের সংজ্ঞায় কি তবে এবার বদল আসছে? বর্তমান প্রজন্মের জেন জ়ি তরুণ-তরুণীরা অন্তত তেমনটাই মনে করছেন। একসময় ডেটিং মানেই ছিল শহরের কোনো নামী রেস্তোরাঁ বা ক্যাফেতে বসে খাওয়া এবং গল্প করা। কিন্তু সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, রেস্তোরাঁর বিলাসবহুল ডিনার নয়, বরং প্রিয়জনের সাথে রান্নাঘরের সময় কাটানোই এখন সম্পর্কের গভীরতা মাপার নতুন মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, একসঙ্গে রান্না করা এখন প্রেমের নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানের প্রায় ৬৩ শতাংশ সিঙ্গল মানুষ এমন কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চান যিনি রান্না করতে জানেন। জেন জ়ি-র ভাষায়, রান্না জানাটা এখন একটা বড় গ্রিন ফ্ল্যাগ বা ইতিবাচক চারিত্রিক গুণ। প্রায় ৫৬ শতাংশ মানুষের বিশ্বাস, সঙ্গী যদি নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ান তবে বুঝতে হবে তিনি অত্যন্ত যত্নশীল। এ ছাড়া ৫৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, রান্না জানা মানেই সেই ব্যক্তি স্বাধীন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে নিতে সক্ষম। মজার বিষয় হল, প্রথম ডেট রেস্তোরাঁতে হলেও প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চান তাদের দ্বিতীয় ডেটটি হোক রান্নাঘরে। কিন্তু কেন এই রান্নার প্রতি এত ঝোঁক? সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, একসঙ্গে রান্না করলে একে অপরকে চেনার সুযোগ অনেক বেশি থাকে। রেস্তোরাঁতে শুধু পছন্দের খাবারের অর্ডার দেওয়া যায়, কিন্তু রান্নাঘরে মশলার পরিমাণ থেকে শুরু করে খাবারের ধরন—সবকিছু নিয়েই আলাপ-আলোচনা চলে। এতে সঙ্গীর রুচি, পছন্দ-অপছন্দ এমনকি কোনো খাবারে অ্যালার্জি আছে কি না, তা-ও সহজে জানা যায়। রান্নার ফাঁকে চলে জীবনের ছোটখাটো গল্প, যা সম্পর্ককে আরও সহজ করে তোলে।
এ ছাড়া রান্নাঘর এখন সম্পর্কের রসায়ন বা কম্পাটিবিলিটি বোঝার বড় ক্ষেত্র। একা রান্না করা যতটা সহজ, দুজনে মিলে একটি পদ তৈরি করা ততটাই চ্যালেঞ্জিং। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক বোঝাপড়া এবং টিমওয়ার্ক। যারা একসঙ্গে রান্নাঘর সামলাতে পারেন, তারা জীবনের বড় সিদ্ধান্তগুলোও মিলেমিশে নিতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। ব্যস্ত সপ্তাহের শেষে ছুটির দিনে কিচেন রোম্যান্স বা রান্নার ফাঁকে কিছুটা একান্ত সময় কাটানো সম্পর্কের একঘেয়েমি দূর করতে দারুণ কাজ করে। ফলে জেন জ়ি-র হাত ধরে আধুনিক প্রেমে এখন ডিনার টেবিলের চেয়েও রান্নাঘরের গুরুত্ব বাড়ছে বহুগুণ।