ad
ad

Breaking News

#HumanLifespan

মানুষের আয়ু কি সত্যিই ১৫০ বছর হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতামত জানুন

তাই ১৫০ বছর বাঁচার সম্ভাবনাকে একটি নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎবাণী হিসেবে না দেখে বিজ্ঞানের অগ্রগতির একটি দিশা হিসেবে দেখা উচিত।

will-humans-live-for-150-years

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: মানুষের ১৫০ বছর বেঁচে থাকা কি আদও সম্ভব? কেবল টিঁকে থাকা নয়, বরং একটি সুস্থ ও প্রাণবন্ত জীবন কাটানো, বিজ্ঞানীদের কাছে এটি একটি দীর্ঘকালীন তর্কের বিষয়। ‘নেচার’ (Nature) জার্নালের একটি নিবন্ধে এই ধারণাকে ‘অবাস্তব’ বা ‘ফ্যান্টাস্টিকাল’ বলে অভিহিত করা হলেও, অনেক গবেষক মনে করেন আমরা দীর্ঘায়ুর এক বৈপ্লবিক দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছি। বিংশ শতাব্দীতে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও একবিংশ শতাব্দীতে সেই ধারা অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে সম্প্রতি ‘এপিজেনেটিক বায়োলজিক্যাল ক্লক’ বা ‘হরভাথ ক্লক’-এর উদ্ভাবক স্টিভ হরভাথ জানিয়েছেন, অ্যান্টি-এজিং বা বার্ধক্যরোধী প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির ফলে মানুষ শীঘ্রই ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। 

স্টিভ হরভাথের এই গবেষণার মূলে রয়েছে ডিএনএ মেথিলেশন (DNA methylation) পদ্ধতি। এটি এমন একটি রাসায়নিক পরিবর্তন যা আমাদের জিন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির প্রকৃত বয়স (Chronological Age) এবং তাঁর কোষের বা জৈবিক বয়সের (Biological Age) মধ্যে পার্থক্য বোঝা সম্ভব। পুনে-ভিত্তিক স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্ম ‘iThrive’-এর প্রতিষ্ঠাতা মুগ্ধা প্রধানের মতে, ডিএনএ মেথিলেশন দীর্ঘায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হলেও এটি সামগ্রিক চিত্রের একটি অংশ মাত্র। মানুষের স্বাস্থ্য ও আয়ু মূলত অন্ত্রের স্বাস্থ্য, পুষ্টির মাত্রা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, প্রদাহ (Inflammation), পরিবেশগত টক্সিন এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে। তাই ১৫০ বছর বাঁচার সম্ভাবনাকে একটি নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎবাণী হিসেবে না দেখে বিজ্ঞানের অগ্রগতির একটি দিশা হিসেবে দেখা উচিত।

বর্তমানে আমরা জীবনে বছর যোগ করছি, নাকি বছরের মাঝে জীবনকে খুঁজে নিচ্ছি, সেই প্রশ্নটি এখন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আধুনিক চিকিৎসার বদৌলতে ডায়ালিসিস, ভেন্টিলেটর বা পেসমেকারের সাহায্যে মানুষকে দীর্ঘকাল বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেই জীবনে স্বাধীনতা বা গুণগত মান থাকছে না। অর্থাৎ মানুষের ‘লাইফস্প্যান’ (Lifespan) বা আয়ু বাড়লেও ‘হেলথস্প্যান’ (Healthspan) বা সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়কাল কমে যাচ্ছে। আর্টেমিস হাসপাতালের ক্লিনিকাল নিউট্রিশন বিভাগের টিম লিডার ডঃ অংশুল সিং-এর মতে, দীর্ঘায়ু গবেষণার মূল লক্ষ্য কেবল আয়ু বাড়ানো নয়, বরং বার্ধক্যকালেও একজন মানুষকে সক্রিয়, কর্মক্ষম এবং রোগমুক্ত রাখা।

প্রকৃত দীর্ঘায়ুর অর্থ হল জীবনের শেষ দশকগুলোতেও মানসিকভাবে তীক্ষ্ণ থাকা, আবেগগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পরনির্ভরশীল না হওয়া। মুগ্ধা প্রধান মনে করেন, ১০০ বা ১৫০ বছর বেঁচে থাকা তখনই সার্থক হবে যখন সেই জীবন শক্তি, উদ্দেশ্য এবং অবদানে ভরপুর থাকবে। দীর্ঘ জীবনের সাথে দায়িত্বও জড়িয়ে থাকে—নিজের শরীর, মন এবং গ্রহের যত্ন নেওয়া। অর্থহীন বা সমবেদনাহীন দীর্ঘ জীবন কোনো অগ্রগতি নয়। দীর্ঘায়ুর আসল সার্থকতা হলো সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং অতিরিক্ত সময়টুকুকে পৃথিবীর কল্যাণে কাজে লাগানো।

তবে এই এপিজেনেটিক ক্লকগুলো কি সত্যিই দীর্ঘ জীবনের গ্যারান্টি দেয়? এর উত্তরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো মূলত গাণিতিক মডেল বা সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে, কোনো ধ্রুবক নিশ্চয়তা দেয় না। যদি কোনো ব্যক্তির শরীরের টিস্যুগুলো সঠিকভাবে মেরামত হয়, প্রদাহ কম থাকে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো দক্ষভাবে কাজ করে, তবে তাত্ত্বিকভাবে তাঁর শরীর অকেজো হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে ১৫০ বছরের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে গেলে রিজেনারেটিভ মেডিসিন, জিন থেরাপি এবং সেলুলার রিপেয়ারের ক্ষেত্রে আরও যুগান্তকারী উদ্ভাবন প্রয়োজন। ডঃ সিং-এর মতে, এটি কোনো আকস্মিক অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং নিরবচ্ছিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমেই ভবিষ্যতে অর্জন করা সম্ভব।