চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: শরীরচর্চা বা ডায়েট নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের খাদ্যাভ্যাসে জাঁকিয়ে বসেছে ‘আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড’ (UPF) বা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। ওয়াশিংটন ভিত্তিক সংস্থা ‘স্যাপিয়েন ল্যাবস’-এর সাম্প্রতিক ‘গ্লোবাল মাইন্ড হেলথ ২০২৫’ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ধরনের খাবার কেবল স্থূলতা বা ডায়াবেটিস নয়, বরং তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে (Ultra-Processed Foods)।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
গ্লোবাল মাইন্ড প্রজেক্টের অধীনে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ৪১ শতাংশই গুরুতর মানসিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছেন। প্রবীণদের (৫৫+) তুলনায় তরুণদের কর্মক্ষমতা হ্রাসের হার প্রায় চার গুণ বেশি। গবেষণার দাবি, ফাস্ট ফুড, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং চিনিযুক্ত পানীয়র মতো অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও বৌদ্ধিক ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে (Ultra-Processed Foods)।
ভারতীয় প্রেক্ষাপট ও উদ্বেগ
ভারতের জন্য এই রিপোর্টটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ, ভারত তার বিশাল তরুণ প্রজন্মের ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে ১৮-৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৪ শতাংশই নিয়মিত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খান, যেখানে ৫৫ ঊর্ধ্বদের মধ্যে এই হার মাত্র ১১ শতাংশ। ল্যানসেট-এর এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে ভারত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে পরিণত হয়েছে।
কেবল স্থূলতা নয়, বাড়ছে অবসাদও
সাধারণত উচ্চ চর্বি, চিনি ও লবণযুক্ত (HFSS) এসব খাবারে এমন সব রাসায়নিক ও প্রিজারভেটিভ মেশানো হয় যা রান্নাঘরে ব্যবহৃত হয় না। গবেষণায় দেখা গেছে, এই খাদ্যাভ্যাস থেকে তৈরি হওয়া মানসিক বোঝা তরুণদের সামগ্রিক মানসিক সমস্যার ১৫ থেকে ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী। এর ফলে বিষণ্নতা, মনোযোগের অভাব এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলার মতো লক্ষণ প্রকট হচ্ছে (Ultra-Processed Foods)।
বিশেষজ্ঞের অভিমত ও নীতি নির্ধারণের ডাক
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. অরুণ গুপ্ত জানান, “এই রিপোর্ট আমাদের বাধ্য করছে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারকে কেবল স্থূলতার কারণ হিসেবে না দেখে তরুণ প্রজন্মের মানসিক ও বৌদ্ধিক শক্তি হ্রাসের চালিকাশক্তি হিসেবে দেখতে। যখন খাদ্যাভ্যাস মনোযোগ ও মানসিক সুস্থতাকে নষ্ট করে, তখন এটি কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় থাকে না, বরং জাতীয় মানবসম্পদের সংকট হয়ে দাঁড়ায়।”
এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ লেবেল লাগানো, শিশুদের লক্ষ্য করে করা বিজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞা এবং ক্ষতিকারক খাবারের ওপর উচ্চ হারে জিএসটি (GST) বসানোর সুপারিশ করেছেন। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও সম্প্রতি খাবারের লেবেলিং নিয়ে স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে দেশ (Ultra-Processed Foods)।