ad
ad

Breaking News

Supreme Court Bans Stem Cell Therapy

গবেষণা ছাড়া স্টেম সেল থেরাপি ‘অপরাধ’! অটিজম চিকিৎসায় ভুয়ো কারবার রুখতে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

এই অপ্রমাণিত পদ্ধতিটি বাজারজাত করার অভিযোগ উঠছিল, যার প্রেক্ষিতেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছে আদালত।

Supreme Court Bans Stem Cell Therapy

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার বা এএসডি-র চিকিৎসায় স্টেম সেল থেরাপির ব্যবহার নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, অটিজমের ক্লিনিক্যাল ট্রিটমেন্ট বা নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে স্টেম সেল থেরাপি ব্যবহার করা যাবে না। অনুমোদিত এবং নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা গবেষণার কাঠামো ছাড়া এই পদ্ধতিকে চিকিৎসা হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া কেবল অনৈতিকই নয়, বরং এটি চিকিৎসাক্ষেত্রে একটি চরম অপরাধ বা মেডিক্যাল ম্যালপ্র্যাকটিস হিসেবে গণ্য হবে। অটিজম মূলত একটি জটিল স্নায়বিক পরিস্থিতি, যার কোনও নির্দিষ্ট নিরাময় বা কিউরেটিভ ট্রিটমেন্ট বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নেই। স্টেম সেল নিয়ে গবেষণা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আশার আলো দেখালেও, অটিজমের ক্ষেত্রে এটি কতটা নিরাপদ বা কার্যকরী, তার কোনও জোরালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পর্যন্ত মেলেনি। অনেক সময় অসহায় পরিবারগুলিকে বিভ্রান্ত করে এই অপ্রমাণিত পদ্ধতিটি বাজারজাত করার অভিযোগ উঠছিল, যার প্রেক্ষিতেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছে আদালত।

বিচারপতি পারদিওয়ালা তাঁর রায়ে স্পষ্ট করেছেন যে, ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট অনুযায়ী স্টেম সেল ওষুধের সংজ্ঞায় পড়ে ঠিকই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে এটিকে সাধারণ পরিষেবার মতো রোগীদের দেওয়া যাবে। শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুমোদিত এবং কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকা গবেষণার স্বার্থেই এই পদ্ধতির প্রয়োগ করা যেতে পারে। আদালতের মতে, রোগীদের কাছে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে তাঁদের সম্মতি নেওয়া আইনত বৈধ নয়। যখন কোনও চিকিৎসার নিরাপত্তা বা কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়, তখন সেই বিষয়ে রোগীদের দেওয়া তথ্যের কোনও ভিত্তি থাকে না। আদালত এই রায়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নজর দিয়েছে। যেসব রোগী ইতিমধ্যেই অটিজমের জন্য স্টেম সেল থেরাপি নিচ্ছেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে, হুট করে তাঁদের চিকিৎসা বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। তবে এই চিকিৎসা নিয়মিত ক্লিনিক্যাল সার্ভিস হিসেবে চালানো যাবে না। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি), এইমস এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এই রোগীদের অনুমোদিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা গবেষণা প্রক্রিয়ার অধীনে নিয়ে আসা হয়।

চিকিৎসকদের পেশাগত মানদণ্ড এবং গাফিলতি নিয়েও আদালত কঠোর বার্তা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যদি কোনও চিকিৎসক উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া বা স্বীকৃত চিকিৎসা সংস্থাগুলির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনও পরীক্ষামূলক পদ্ধতি প্রয়োগ করেন, তবে তা সরাসরি অবহেলার সামিল হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) বারবার সতর্ক করেছে যে, অপরিপক্ব ভাবে স্টেম সেলের প্রয়োগ রোগীর শরীরে সংক্রমণ বা দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে অটিজম আক্রান্ত পরিবারগুলির জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদী থেরাপির গুরুত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হলো। এর ফলে পরীক্ষামূলক গবেষণার নাম করে সাধারণ মানুষের আবেগকে ব্যবহার করার পথ যেমন বন্ধ হবে, তেমনই ভবিষ্যতে এই সংক্রান্ত গবেষণার কাজ একটি স্বচ্ছ ও নৈতিক কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।