চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: শুধু প্রবীণ নাগরিকরাই নয় এখন কমবয়সি ভারতীয়দেরও হচ্ছে স্ট্রোক। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল স্ট্রোক রেজিস্ট্রি প্রোগ্রাম নামক গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে এখন ৪৫ বছরের কম বয়স এমন প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজনের স্ট্রোক হয়েছে (Stroke Risk)।
২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৩০টি হাসপাতালে ভর্তি ৩৫ হাজারের বেশি রোগীর মেডিক্যাল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন গবেষকরা। আইসিএমআরের গবেষণায় কমবয়সিদের মধ্যে স্ট্রোকের প্রধান কারণ হিসাবে উচ্চ রক্তচাপকে দায়ী করা হয়েছে। সিংহভাগ অসুস্থর স্ট্রোক হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হল উচ্চ রক্তচাপ। এছাড়াও ডায়াবেটিস, তামাক সেবন, মদ্যপান, রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকেও দায়ী করা হয়েছে। শহুরে নাগরিক জীবনযাপন, মানসিক উদ্বেগ, অলস জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও দেরিতে ঘুমোতে যাওয়ার প্রবণতাকে কমবয়সিদের মধ্যে স্ট্রোক হওয়ার কারণ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। নিয়মিত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তের শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করা, শারীরিক কসরত, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও তামাক ও মদ্যপানকে পুরোপুরি বর্জন করার কথা বলা হয়েছে আইসিএমআরের গবেষণা রিপোর্টে।
পাশাপাশি, সাম্প্রতিক এক গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যাঁদের অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট ইস্যু আছে, অর্থাৎ রেগে গেলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না তাঁদের ক্ষেত্রে মাত্র ৮ মিনিটের প্রচণ্ড রাগের কারণে রক্তনালি এতটাই শক্ত হয়ে সঙ্কুচিত হয়ে যায় যে তা হৃদযন্ত্রে রক্তের সরবরাহ ব্যাহত করে। মাত্র ৮ মিনিট রাগলেই রক্তনালি এতটাই শক্ত হয়ে সঙ্কুচিত হয়ে যায় যে কমপক্ষে ৪০ মিনিট লাগে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। হঠাৎ হঠাৎ আচমকা রেগে গেলেও হার্টের অসুখ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে বলে দাবি করা হয়েছে American Heart Association নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় (Stroke Risk)।
রাগের কারণে হৃদযন্ত্রের ধমনীতে খারাপ প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। ২৮০ জনের ওপর গবেষণা চালানো হয়। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, একজন ব্যক্তি যদি সারাক্ষণ রেগে থাকেন তাহলে তাঁর শরীরে হৃদযন্ত্র থেকে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। হৃদযন্ত্রের ওপর ক্রনিক প্রভাব পড়ে। নিউইয়র্কের ১৮-৭৩ বছর বয়সি ২৮০ জনের ওপর গবেষণা চালানো হয়। কারোরই হার্টের অসুখ ছিল না। এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা ছিল না। কেউই ধূমপান করতেন না (Stroke Risk)।