ad
ad

Breaking News

Speech Therapy

Speech Therapy: স্পিচ থেরাপি কী? কখন এর প্রয়োজন? জানালেন কনসালটেন্ট স্পিচ ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট

কখন আপনার সন্তানের স্পিচ থেরাপির প্রয়োজন? কী এই থেরাপি? এটি কিভাবে সাহায্য করে?

Speech Therapy for Children: When and Why It Is Needed?

চিত্র : প্রতীকী

অর্পিতা বসু: প্রতিটি শিশুর বিকাশ আলাদা, এবং কিছু শিশু অন্যদের তুলনায় দেরিতে কথা বলতে শুরু করতে পারে। তবে, সেদিকে নজর রাখা দরকার। কখন আপনার সন্তানের স্পিচ থেরাপির প্রয়োজন? কী এই থেরাপি? এটি কিভাবে সাহায্য করে? জানালেন, কনসালটেন্ট স্পিচ ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট, মৈনাক সাঁতরা (Speech Therapy)।

প্রশ্ন: স্পিচ থেরাপি কী?

উত্তর : স্পিচ থেরাপি হল এক ধরনের চিকিৎসা যা একটি শিশুর বা প্রাপ্তবয়স্কদের বাকশক্তি,ভাষা বা খাবার খেতে না পারার সমস্যাগুলির সমাধানে সাহায্য করে। যাকে স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজি বা লোগোপেডিক্স ও বলা হয়।

প্রশ্ন : কখন একজন এসএলপি অর্থাৎ স্পিচ ল্যাঙ্গোয়েজ প্যাথোলজিস্টকে দেখানো প্রয়োজন?

উত্তর: শিশু যদি দেরিতে কথা বলে বা ভাষা বিকাশে সমস্যা থাকে, এছাড়াও তোতলানো বা অস্পষ্ট উচ্চারণ, ভাষা বুঝতে সমস্যা হলে বা স্বরভঙ্গির সমস্যা হলে স্পিচ ল্যাঙ্গোয়েজ প্যাথোলজিস্টকে দেখানো প্রয়োজন।

প্রশ্ন : চিকিৎসা পরিভাষায় আমরা শুনে থাকি ‘আর্টিকুলেশন ডিজর্ডার’ বা ‘ফোনোলজিক্যাল ডিজর্ডার’। একটু যদি বুঝিয়ে বলেন।

উত্তর : আর্টিকুলেশন ডিজর্ডারে নির্দিষ্ট একটি শব্দ সঠিকভাবে উচ্চারণে সমস্যা হয়। ফলে সাধারণ উচ্চারণে ত্রুটি দেখা যায়। আমরা যখন উচ্চারণ করি তখন আমাদের জিহ্বা, ঠোঁট, চোয়াল, এমনকি মস্তিষ্ক প্রতিটি অঙ্গ সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে কাজ করে। যখন এগুলির সমন্বয়ের অভাব হয় , তখন নির্দিষ্ট একটি শব্দ সঠিকভাবে উচ্চারণে সমস্যা তৈরি হয়। যেমন ‘s’ ধ্বনির পরিবর্তে ‘th’ বলে , “sun” এর পরিবর্তে “thun” বলে ।ফোনোলজিক্যাল ডিজর্ডার হল উচ্চারণ করার ভাষা গত নিয়ম যখন একজন শিশু বুঝে উঠতে পারে না এমন একটি অবস্থা।

আরও পড়ুনঃ Bihar Elections: ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৬৫ লক্ষ নাম, বিহারে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগে চাপে বিজেপি

প্রশ্ন : স্পষ্ট ভাবে কথা বলতে না পারা, কথা জড়িয়ে যাওয়া , তোতলানো এসব কিছুই কী পরবর্তীকালে কোনো রোগের ইঙ্গিত হতে পারে?

উত্তর : কারো হয়তো জন্মগত সমস্যা রয়েছে। আবার কারো ‘নিউরোলজিক্যাল ইনসাল্ট’ যেমন স্ট্রোকের কারণে বা ‘প্রগ্রেসিভ নিউরোলজিক্যাল ডিজর্ডার’ যেমন পারকিনসনের কারণে স্পিচ বা কথা বলার সমস্যা হতে পারে, কথা জড়িয়ে যেতে পারে বা হঠাৎ করে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন , জড়তা দেখা দেয় । সেক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ নিউরোলজিস্ট এবং স্পিচ থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত (Speech Therapy)।

প্রশ্ন : স্পষ্টভাবে কথা বলার সমস্যা ছাড়া স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে আর কোন কোন অবস্থার চিকিৎসা হয়?

উত্তর : স্পষ্টভাবে কথা বলার সমস্যা ছাড়াও, স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে তোতলানো, ভাষার বিকাশ জনিত সমস্যা, স্ট্রোক বা আঘাতের কারণে ভাষার সমস্যা, স্বরভঙ্গ, কণ্ঠনালীর বিভিন্ন রোগ, যেমন ভোকাল কর্ড ডিসফাংশন বা ভোকাল কর্ড নডিউল, ভোকাল কর্ড প্যারালিসিসের চিকিৎসায় করা সম্ভব।

প্রশ্ন : কোনো শিশুর যদি স্পিচ থেরাপির প্রয়োজন হয়, কোন বয়স থেকে তা শুরু করা প্রয়োজন?

উত্তর : আমরা যখন নতুন কিছু শিখি তখন আমাদের মস্তিষ্কে সাইন্যাপটিক কানেকশন তৈরি হয়। এইভাবে নতুন কিছু কাজের সাথে আমাদের মস্তিষ্ক অভ্যস্ত হয়। যখন একটি শিশুর জন্ম হয় তখন তার মস্তিষ্কে এই সাইন্যাপটিক কানেকশন সীমাবদ্ধ থাকে। জন্ম থেকেই, মস্তিষ্কের সংযোগ তৈরি হয় শিশুর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যা প্রথম দু বছরে বাড়তে থাকে। শিশুরা ১৮ মাস বয়সের মধ্যে কিছু শব্দ বলতে শুরু করে এবং ২ বছর বয়সের মধ্যে ছোট ছোট বাক্য বলতে পারে। যদি শিশুটি তার বয়সের তুলনায় অনেক দেরিতে কথা বলতে শুরু করে, বা তার শব্দভাণ্ডার খুবই সীমিত থাকে, তাহলে স্পিচ থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। এই ধরনের সমস্যা থাকলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত এই থেরাপির শুরু করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এমন অনেক শিশু আমাদের কাছে আসে, যারা অটিজমে আক্রান্ত এবং যাদের এই থেরাপি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে দেড় বছর বা ১ বছর ৮ মাসে শুরু হয়েছে, এবং ৩ বছরের মধ্যে তারা বেশ খানিকটা সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। তাই সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরুর প্রয়োজন। শুধু শিশুদের ক্ষেত্রেই নয় , এমন অনেকে আমাদের কাছে আসেন যাদের প্রফেশনাল কারণেও স্পিচ থেরাপির প্রয়োজন হয়। এবং সঠিক থেরাপির মাধ্যমে তাঁরা উপকৃতও হন (Speech Therapy)।

প্রশ্ন : কিভাবে এই স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।

উত্তর : প্রথম কোনো শিশুকে আমাদের কাছে নিয়ে আসার পরে তাকে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন। অর্থাৎ শিশুটির কথা বলার ক্ষমতা ঠিক কোন বয়সের মতো তা জানা দরকার। যেমন ধরুন একটি ৬ বছরের শিশু সে হয়তো কথা বলছে, কিন্তু তার শব্দ ভান্ডার ১০০ থেকে ১৫০ এর বেশি নয়। যেখানে দু বছরের একটি শিশু যখন কথা বলে তখন তার শব্দ ভান্ডার অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ থাকে। অর্থাৎ শিশুটির বয়স ৬ বছর হলেও তার কথা বলার ক্ষমতা দেড় থেকে দু বছরের একটি শিশুর মতো। এই বেস লাইন নির্ধারণ করার পর যখন শিশুটির চিকিৎসা শুরু হয় তখন আমাদের লক্ষ্য থাকে ধাপে ধাপে তার বয়স অনুযায়ী শব্দভাণ্ডার তৈরি করা। এখানে আরো একটি বিষয় দেখা প্রয়োজন, কেন তার এই স্পিচ এবং ল্যাঙ্গুয়েজের সমস্যা হচ্ছে ,বা দেরি হচ্ছে। এই কারণ অনুসন্ধান করা অত্যন্ত জরুরি, তাহলে বোঝা সম্ভব এই শিশুটির ঠিক কতটা ল্যাঙ্গুয়েজ ডেভেলপমেন্ট হওয়া সম্ভব। এবং তার একটা স্পষ্ট ধারণা আমরা শিশুটির মা-বাবাকেও দিতে পারি। এই থেরাপিতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হয়, যেমন খেলা, ছবি, বই, বা গল্পের মাধ্যমে শিশুর সাথে সঠিক শব্দ এবং ব্যাকরণের পরিচয় ঘটানো হয়। এবং অনুশীলনের মাধ্যমে ভাষার দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এক একজনের সমস্যা যেহেতু এক এক রকম তাই প্রত্যেকের সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসার প্রয়োজন (Speech Therapy)।

Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial

প্রশ্ন: দিনে কতক্ষণ বা কতদিন এই স্পিচ থেরাপির প্রয়োজন?

উত্তর : প্রথমত এই থেরাপি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। অন্তত প্রতিদিন এক থেকে দেড় ঘন্টা থেরাপির প্রয়োজন পড়ে। এমন অনেক অভিভাবক আছেন, যারা চান শিশুটি অন্তত নিজের প্রয়োজনীয় কথা বলতে পারুক। এবং তারপর আর তারা থেরাপি চালিয়ে নিয়ে যেতে চান না। আবার এমন অনেক অভিভাবক আছেন যাঁরা চান, তাঁদের সন্তান দীর্ঘমেয়াদী থেরাপির মাধ্যমে যতটা সম্ভব সমস্যা কাটিয়ে উঠুক। তাই কতদিন এই থেরাপির প্রয়োজন তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে এক একজনের সমস্যার উপর।

প্রশ্ন : প্যারালাইসিসের কারণে কথা বলতে সমস্যা হলে, স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে সেই সমস্যা কতটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব? এই থেরাপি সত্যিই কতটা কার্যকর চিকিৎসা?

উত্তর : এক্ষেত্রে দেখা প্রয়োজন তাদের কথা বলতে ভাষাগত সমস্যা হচ্ছে, নাকি আর্টিকুলেশন ডিসঅর্ডার জনিত সমস্যা রয়েছে। সেই অনুযায়ী মাসেল ট্রেনিং , বিভিন্ন ধরনের এক্সারসাইজ, ভয়েস ট্রেনিং এবং নানান পদ্ধতির মাধ্যমে উচ্চারণ সমস্যা স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। আর যদি কারো ভাষাগত সমস্যা থাকে তাহলে একটি শিশু যেভাবে নতুন করে কথা বলতে শেখে, ঠিক সেই ভাবে তাকে কথা বলতে অভ্যস্ত করানোর চেষ্টা করা হয়। এবং এই থেরাপি তার ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করছে কত দ্রুত থেরাপি শুরু হচ্ছে তার উপর। অনেকের ক্ষেত্রে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার বেশ কয়েক মাস পর এই থেরাপি শুরু হয় সেক্ষেত্রে তাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। আবার কি ধরনের স্ট্রোক হয়েছে তার ওপরেও নির্ভর করে রোগীকে কতটা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ ড্যামেজ কম হলে দ্রুত তাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং বয়সও একটা বড় ফ্যাক্টর। এর সাথে অবশ্যই প্রয়োজন মোটিভেশনাল সাপোর্ট (Speech Therapy)।

প্রশ্ন: সবশেষে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চাইবেন?

উত্তর : স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপির ক্ষেত্রে চিকিৎসা যেমন একটা ধাপ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ শিশুদের স্ক্রিন টাইম কমানো। শিশুর বয়স ছ’ মাস হতে না হতেই ইদানীং মা-বাবারা তাদের মন ভোলানোর জন্য মোবাইলে নানা ধরনের কার্টুন চালিয়ে দিচ্ছেন, আর সে ও তাকিয়ে থাকছে স্ক্রিনের দিকে। দেখা যাচ্ছে দেড় থেকে দু বছরের বাচ্চারা প্রায় ৩ থেকে ৪:ঘন্টা মোবাইল দেখছে যা একেবারেই ঠিক নয়। এর থেকে নানা ধরনের মানসিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। শিশুটি অমনোযোগী হয়ে উঠতে পারে। তাই স্ক্রিন টাইম কমিয়ে, শিশুদের শারীরিক ভাবে সক্রিয় করে তুলতে হবে। এই বিষয়ে প্রত্যেক অভিভাবককে সচেতন থাকতে হবে, শিশুদেরকে সময় দিতে হবে, তাদের সাথে মিশতে হবে, শিশুদের সাথে কথা বলে তাদের মন বুঝতে হবে (Speech Therapy)।