ad
ad

Breaking News

Ozempic

Ozempic: ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সুখবর: এবার ভারতে এল নোভো ওজেম্পিক, কি এই ওষুধ? দাম কত?

নোভো নরডিস্ক জানিয়েছে, ওজেম্পিক পেন ফর্মে ০.২৫ মিলিগ্রাম, ০.৫ মিলিগ্রাম এবং ১ মিলিগ্রাম ডোজে পাওয়া যাবে।

Ozempic Launches in India: Novo Nordisk Brings Semaglutide

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডায়াবেটিস রোগীর দেশ ভারতে এবার পা রাখল নোভো নরডিস্কের (Novo Nordisk) বহুল আলোচিত ওষুধ ‘ওজেম্পিক’ (Ozempic)। ডায়াবেটিস এবং ক্রমবর্ধমান স্থূলতার (ওবেসিটি) বাজারকে লক্ষ্য করে শুক্রবার ভারতে ওষুধটি বিক্রি শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই দশক জুড়ে ওষুধ শিল্পের বৃদ্ধিকে এই ক্ষেত্রটিই শক্তি যোগাবে। নোভো নরডিস্ক জানিয়েছে, ওজেম্পিক পেন ফর্মে ০.২৫ মিলিগ্রাম, ০.৫ মিলিগ্রাম এবং ১ মিলিগ্রাম ডোজে পাওয়া যাবে। প্রতিটিতে চার সপ্তাহের ডোজ থাকবে।

ওজেম্পিকের সাপ্তাহিক দাম হলো: ০.২৫ মিলিগ্রাম ডোজ: প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২৪.৩৫ ডলার।

মাসিক দামের ক্ষেত্রে: ০.২৫ মিলিগ্রামের মাসিক দাম: ৮,৮০০ টাকা

০.৫ মিলিগ্রামের মাসিক দাম: ১০,১৭০ টাকা

১ মিলিগ্রামের মাসিক দাম: ১১,১৭৫ টাকা

সিস্টেমেটিক ইনস্টিটিউশনাল ইক্যুইটিজের বিশ্লেষক বিশাল মাঞ্চান্দার মতে, নোভোর এই দামটি আগামী ত্রৈমাসিকে বাজারে আসা জেনেরিক ওষুধগুলির জন্য একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। তিনি আশা করছেন, জেনেরিক ওষুধগুলি নোভোর দামের তুলনায় ৫০% কম দামে পাওয়া যেতে পারে। চীনকে বাদ দিলে ভারতে টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। একইসঙ্গে, স্থূলতার হারও দ্রুত বাড়ছে, যা ভারতকে মেটাবলিক এবং ওজন কমানোর ওষুধের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের অনুমান, এই বাজারের আকার দশকের শেষে বার্ষিক ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

ওজেম্পিক, যা সেমাগ্লুটাইড দিয়ে তৈরি, ২০১৭ সালে আমেরিকায় টাইপ ২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য অনুমোদন পেয়েছিল এবং এটি বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক বিক্রীত ওষুধের মধ্যে অন্যতম। এটি যদিও প্রাথমিকভাবে ডায়াবেটিসের ওষুধ, তবে বিশ্বজুড়ে এটি ওজন কমানোর জন্য অফ-লেবেল হিসেবেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। নোভো নরডিস্ক জানিয়েছে, এই ওষুধ হৃদরোগ এবং কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকিও কমায়। নোভো নরডিস্ক ইন্ডিয়ার প্রধান বিক্রান্ত স্রোত্রিয় বলেন, “ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ওজেম্পিক প্রায় ৮ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণের বাইরেও এই ওষুধের সুবিধা রয়েছে।” তবে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালের পরামর্শদাতা এন্ডোক্রিনোলজিস্ট শশাঙ্ক যোশী বলেন, ওজেম্পিক শুধুমাত্র এন্ডোক্রিনোলজিস্ট বা ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞরাই প্রেসক্রাইব করতে পারবেন এবং এটি কোনোভাবেই সৌন্দর্যের জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নয়।

ওজেম্পিক ভারতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বে। ইতিমধ্যেই এলি লিলির (Eli Lilly) ‘মুনজারো’ (Mounjaro) ডায়াবেটিস এবং ওজন কমানোর জন্য অনুমোদিত। অন্যদিকে, নোভোর আরেকটি জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধ ‘ওয়েগভি’ (Wegovy), যা সেমাগ্লুটাইড ব্যবহার করে তৈরি, সেটিও গত জুনে ভারতে চালু হয়েছিল। গত মাসেই সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্ট মেয়াদ মার্চ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার আগে নোভো তাদের ‘ওয়েগভি’-র দাম প্রায় ৩৭% কমিয়ে দিয়েছে। বিক্রান্ত স্রোত্রিয় এ বিষয়ে বলেন, “কয়েক মাস পরই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, সকলের কাছে সহজলভ্য করতে দাম কমানো জরুরি।”