চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সোমবার নদিয়ার কল্যাণী AIIMS-এর ভাইরাস রিসার্চ ও ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে দুইজন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের সন্দেহ ধরা পড়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, দু’জনই বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিপা ভাইরাস একটি জুনোটিক রোগ—অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষে ছড়ায়—এবং মৃত্যুহার অত্যন্ত উচ্চ। আক্রান্তদের সম্প্রতি ব্যক্তিগত কাজে পূর্ব বর্ধমানে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর প্রেক্ষিতে উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়া জেলায় জোরদার কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং শুরু করা হয়েছে।
জনসাধারণের জন্য রাজ্য সরকার তিনটি হেল্পলাইন চালু করেছে—03323330180, 9874708858 এবং 9836046212। পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় স্তরের যৌথ আউটব্রেক রেসপন্স টিমও মোতায়েন করা হয়েছে।
নিপা ভাইরাস কী?
নিপা ভাইরাসের নাম এসেছে মালয়েশিয়ার কাম্পুং সুংগাই নিপা গ্রাম থেকে, যেখানে ১৯৯৮–৯৯ সালে প্রথম শনাক্ত হয়। WHO অনুসারে, এটি হেনিপাভাইরাস গোত্রভুক্ত এবং প্রধান প্রাকৃতিক বাহক হল ফলখেকো বাদুড়, বিশেষ করে Pteropodidae পরিবারের। কিছু ক্ষেত্রে শূকরও মধ্যবর্তী বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে।
উপসর্গ:
নিপা ভাইরাসের প্রাথমিক উপসর্গ সাধারণ ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো হয়।
জ্বর
পেশি ব্যথা ও শরীরের দুর্বলতা
গলা ব্যথা
শ্বাসকষ্ট
গুরুতর সংক্রমণে আরও ভয়ঙ্কর লক্ষণ দেখা দিতে পারে—
শ্বাসনালীর মারাত্মক সমস্যা
খিঁচুনি
বিভ্রান্তি ও অচেতনতা
মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, কখনও কখনও উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে, কিন্তু সেই ব্যক্তি অন্যকে সংক্রমিত করতে পারেন।
নিপা ভাইরাস শনাক্তকরণ:
নিপা ভাইরাস BSL-4 ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়।
রক্ত পরীক্ষা করে অ্যান্টিবডি শনাক্তকরণ
টিস্যুর মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা
PCR / RT-PCR পরীক্ষায় ভাইরাল উপাদান শনাক্তকরণ
ELISA ও Serum Neutralization Test
চিকিৎসা ও প্রতিকার:
মানব বা পশুর জন্য এখনও কোন টিকা নেই। চিকিৎসার মূল ভরসা ইনটেনসিভ সাপোর্টিভ কেয়ার। আক্রান্তদের সম্পূর্ণ আইসোলেশনে রাখা হয়। কেরালার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের প্রথম সংক্রমণে মৃত্যুহার প্রায় ৯১% ছিল। তবে আধুনিক অ্যান্টিভাইরাল ও মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি প্রয়োগে তা ২০২৩ সালে প্রায় ৩৩% নামানো সম্ভব হয়েছে।
সচেতনতার বার্তা:
বাদুড়ের সংস্পর্শ এড়ানো অত্যন্ত জরুরি। কাঁচা খেজুরের রস বা আংশিক খাওয়া ফলের মাধ্যমে সংক্রমণ হতে পারে। জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। নিপা ভাইরাস বিরল হলেও মারাত্মক, তাই সচেতনতা ও তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা জীবন রক্ষা করতে পারে।