ad
ad

Breaking News

Health Tips

পুজোয় বেনিয়মের মাঝে সুস্থ থাকবেন কীভাবে? জানালেন বিশিষ্ট চিকিৎসক

পুজোর সময় রাত জেগে ঠাকুর দেখার পাশাপাশি চলে দেদার খাওয়া দাওয়া। তাই শরীর সুস্থ রাখতে অনিয়মের মধ্যেও মানতে হবে কয়েকটা নিয়ম।

Health Tips to Stay Fit During Festivities

চিত্র: সংগৃহীত

অর্পিতা বসু: পুজো মানেই হুল্লোড়,রাত জেগে ঠাকুর দেখা, দেদার খাওয়া দাওয়া।প্যান্ডেল হপিং করুন, ঘুরে বেড়ান কিন্তু সময় করে নিন বিশ্রামও। সারারাত ঘোরাঘুরির ফলে শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়, তাই পান করুন পর্যাপ্ত জল, সঙ্গে রাখুন ওআরএস। শরীর ফিট না থাকলে, পুজোর আনন্দটাই মাটি। তাই পুজোয় হাজার অনিয়মের মধ্যেও নিজেকে কিভাবে সুস্থ রাখতে পারেন, জানালেন বিশিষ্ট চিকিৎসক MBBS, DCH, MD (medicine) ডক্টর কবিতা মিত্র (Health Tips)।

[আরও পড়ুন: Bidyasagar Controversy: মূর্তি ভাঙার ক্ষত এখনও টাটকা! বিদ্যাসাগর জয়ন্তীতে অমিত শাহকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়]

প্রশ্ন : পুজো মানেই রাত জেগে ঠাকুর দেখা এবং নানা ধরনের অনিয়ম কীভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব?

উত্তর : পুজোর ক’টা দিন যত খুশি আনন্দ করুন, কিন্তু শরীর সুস্থ রাখুন। পুজোর সময় রাত জেগে ঠাকুর দেখার পাশাপাশি চলে দেদার খাওয়া দাওয়া। তাই শরীর সুস্থ রাখতে অনিয়মের মধ্যেও মানতে হবে কয়েকটা নিয়ম। অনিয়ম এবং অসতর্কতায় শরীর যাতে অসুস্থ না হয় খেয়াল রাখতে হবে সেদিকে।

প্রশ্ন : পুজোয় অনিয়ম হবেই, অম্বল , বদহজম, পেট খারাপ, বমি হলে কি করনীয় ?

উত্তর : পুজোর সময় যাতে হঠাৎ করে শরীর খারাপ না হয় , তাই আনন্দের মধ্যেও কিছুটা নিয়ম মেনে চলুন। পুজো মানেই তো বেশ খানিকটা অনিয়ম, তাই গ্যাস, অম্বলের মতো সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। রাত জেগে পার্টি, ঠাকুর দেখতে দেখতে অনেক রাতে রাস্তার পাশের দোকান থেকে খাওয়া দাওয়া করার ফলে, হতে পারে পেট খারাপ বা বমির সমস্যা। তাই যেদিন রাত জেগে ঠাকুর দেখবেন, এবং বাইরের খাবার খাবেন, সেদিন চেষ্টা করুন বাড়িতে হালকা খাবার খেতে। অবশ্যই সাথে রাখুন গ্যাস, অম্বল ,বমি এবং ডায়েরিয়ার ওষুধ। মন্ডপের ভিড়ে ভ্যাপসা গরমে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে অনেকেরই গলদঘর্ম দশা হয়। শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল বেরিয়ে যায়। তাই অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন , সাথে ওআরএস রাখুন। যাতে কোনো রকম শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারেন এবং প্রয়োজনে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন (Health Tips)।

প্রশ্ন : বর্ষা এখনো পাকাপাকিভাবে বিদায় নেয়নি এবং পুজোতে বৃষ্টির অশনিসংকেত রয়েছে। ঠাকুর দেখতে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে যদি ঠান্ডা লাগে, জ্বর হয় সে ক্ষেত্রে কি করনীয়?

উত্তর : এই আবহাওয়ায় অনেকেই এখনো ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। তার সাথে বৃষ্টির পূর্বাভাস তো রয়েছেই। বৃষ্টিতে ভিজেও হতে পারে জ্বর এবং গা হাত পা ব্যথা। ভিজে গেলে চেষ্টা করুন দ্রুত ভেজা পোশাক পরিবর্তন করে ফেলতে। প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সাথে রাখুন। যাদের সর্দি কাশির সমস্যা রয়েছে, ভিড়ে গেলে ব্যবহার করুন মাস্ক। তার সাথে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। তবে এড়িয়ে চলুন রাস্তার জল , শরবত । পুজোর মধ্যে এই নিয়মগুলো মেনে চললে, অনেকটাই সুস্থ থাকতে পারবেন।

প্রশ্ন : রাত জেগে প্যান্ডেল হপিং সাথে পুজোর উপোস, কিভাবে শরীরকে সুস্থ রাখা সম্ভব (Health Tips)?

উত্তর : উপোস ভাঙার পর খেয়াল রাখুন শরীর যাতে হাইড্রেটেড থাকে।দীর্ঘক্ষণ উপোস করলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। তাই উপোস ভাঙ্গার পর এদিন প্রচুর পরিমাণে জল, ফল, সবজি, তরকারি এরকম হালকা খাবার খান। তেল, মশলাদার খাবারএড়িয়ে চলুন। উপোসের দিন রাত জেগে ঠাকুর না দেখাই ভালো, কারণ শরীর এমনিই বেশ খানিকটা ক্লান্ত থাকে এতে দুর্বলতা বাড়তে পারে। আর যদি রাত জাগার প্রোগ্রাম থাকে, তাহলে চেষ্টা করুন দুপুরে বেশ খানিকটা ঘুমিয়ে নিতে।। বাইরে বেরোলে সাথে রাখুন হালকা খাবার , জল এবং অবশ্যই ও আরএস ।

প্রশ্ন : দুর্গাপুজো বলে কথা বাঙালির বাড়িতে মিষ্টি তো থাকবেই, যারা সুগারের পেশেন্ট তাদের জন্য কী পরামর্শ ?

উত্তর : এই সময় মিষ্টি খাওয়ার মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়, তাই প্রায়শই দেখা যায় ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাঁদের জন্য একটাই পরামর্শ, এই সময় চা কফি বা রোজের রান্নায় চিনি মেশানো বন্ধ করে দিন। প্যাকেটজাত ফলের রস খাবেন না। ডায়েটে বেশি করে প্রোটিন জাতীয় খাবার খান। সুগার ফ্রি মিষ্টি খান। রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকলে অল্প মিষ্টি খেতেই পারেন, কিন্তু এর সাথে সুস্থ থাকতে এবং সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ,পুজোর সময়েও নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং নিয়ম করে ওষুধ খান (Health Tips)।

প্রশ্ন : অনেককেই নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তবে পুজোর হই হুল্লোড়ের মধ্যে অনেক সময়ই অনিয়ম করে ফেলেন, কি পরামর্শ দিতে চাইবেন?

উত্তর : যাঁদের ডায়াবিটিস বা হাইপার টেনশনের সমস্যা রয়েছে বা যাঁরা কোনো ক্রনিক রোগে আক্রান্ত, খেয়াল রাখুন কোনোভাবেই যাতে নিয়মিত ওষুধ বাদ না পড়ে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে ব্যাগে ওষুধ রাখুন, হই হুল্লোড়ের মধ্যে যাতে ভুলে না যান, প্রয়োজনে মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন, যাতে নির্দিষ্ট সময়ে আপনি আপনার নিয়মিত ওষুধ খেতে পারেন।

প্রশ্ন : বাড়ির বয়স্কদের যাঁদের কিডনি বা হার্টের সমস্যা রয়েছে, বা কোনো ক্রনিক অসুখে আক্রান্ত, এই সময় যাঁদের জন্য কি পরামর্শ?

FB POST: https://www.facebook.com/share/r/17NpSLx8nn/

উত্তর : পুজোর দিন বলে বয়স্করা নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে হেলাফেলা করবেন না। চেষ্টা করুন রাতের ভিড় এড়িয়ে সকাল-সকাল ঠাকুর দেখার। যাঁদের কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাঁরা বাড়ির থেকে অনেক দূরে ঠাকুর দেখতে না গিয়ে, বরং কাছে-পিঠে ঠাকুর দেখুন, নিজের পাড়ার মণ্ডপে বসে গল্প করুন, এতে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে। বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন, ওষুধ মিস করবেন না। যারা কিডনি, ডায়ালিসিস সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা পুজোয় বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
যাঁরা খুবই অসুস্থ যাঁদের জন্য কেয়ারগিভারের ব্যবস্থা রাখুন (Health Tips)।

প্রশ্ন : সবশেষে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চাইবেন?

উত্তর : দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ আড্ডা, রাতভর ঠাকুর দেখা কিন্তু এসব কিছুর মাঝেই মেনে চলুন কিছু নিয়ম।
১) শারীরিক এবং মানসিকভাবে নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম। রাত জেগে ঠাকুর দেখলে দিনের বেলায় কিছুটা ঘুমিয়ে নিন এতে শরীর থাকবে চাঙ্গা।
২)আগেও বলেছি সারারাত ঘুরাঘুরির সময় আমাদের শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়, তাই প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। অবশ্যই এড়িয়ে চলুন রাস্তার জল, শরবত।
৩) ডায়েটে রাখুন ডাবের জল, ফলের রস, ঘরের তৈরি শরবত।
৪)হালকা শরীরচর্চা অবশ্যই প্রয়োজন।
৫) যাঁরা নিয়মিত ওষুধ খান, খেয়াল রাখুন আনন্দের মধ্যে যাতে কোনোভাবেই ওষুধ মিস না হয়।
৬) বাড়ির বয়স্ক এবং ক্ষুদে সদস্যদের দিকে নজর রাখুন।
পুজো আনন্দে কাটান এবং সুস্থ থাকুন।