ad
ad

Breaking News

Headphone Hazards

অতিরিক্ত হেডফোন ব্যবহারে হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি! রইল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

একটানা দীর্ঘক্ষণ ইয়ারফোনের ব্যবহার কতটা বিপদজনক হতে পারে? জানালেন বিশিষ্ট চিকিৎসক, ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডক্টর দীপায়ন রায়। কথা বলেছেন আমাদের প্রতিনিধি অর্পিতা বসু।

Headphone Hazards: How Prolonged Use Impacts Your Health

চিত্র: সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: প্রতিদিন নিয়মিত হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহারের ফলে দেখা দিতে পারে নানা ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। এমনকি হারাতে পারেন শ্রবণশক্তিও। ভালো হেডফোন ব্যবহার করুন, যাতে অল্প ভলিউমেও ভাল শব্দ শোনা যায়। একটানা দীর্ঘক্ষণ ইয়ারফোনের ব্যবহার কতটা বিপদজনক হতে পারে? জানালেন বিশিষ্ট চিকিৎসক, ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডক্টর দীপায়ন রায়। কথা বলেছেন আমাদের প্রতিনিধি অর্পিতা বসু

 

প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার কতটা সুরক্ষিত?

উত্তর : অহেতুক হেডফোনের ব্যবহারে ক্ষতি হতে পারে কানের। ‌দুর্বল হতে পারে‌ শ্রবণ ক্ষমতা‌। দীর্ঘ সময় ধরে হেডফোন ব্যবহার করলে কানে ব্যথা ও অস্বস্তি হতে পারে। অল্প ভলিউমে এবং মাঝে মাঝে বিরতি নিয়ে হেডফোন ব্যবহার করা উচিত। কম দামের হেডফোনগুলিতে ভলিউম কন্ট্রোল করার ক্ষমতা সীমিত থাকে তাতে কানের ক্ষতি হতে পারে।

প্রশ্ন : সেক্ষেত্রে সাধারণ হেডফোনের তুলনায় নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন বা ইয়ারফোন কি বেশি সুরক্ষিত? নাকি সেখান থেকেও হতে পারে বিপদ ?

উত্তর : যেকোনো ধরনের হেডফোন, এমনকি নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোনও, যদি দীর্ঘ সময় ধরে এবং উচ্চ ভলিউমে ব্যবহার করা হয়, তবে তা কানের ক্ষতি করতে পারে। এই হেডফোন ব্যবহারের কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা আছে। নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন পরিবেশের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমাতে সাহায্য করে, ফলে‌ কম ভলিউমে তা ব্যবহার করার সুযোগ থাকে এবং কানের ওপর চাপ কম পড়ে। আবার যেহেতু আশেপাশের শব্দ খুব একটা কানে আসে না তাই কিছু ক্ষেত্রে‌ তা বিপজ্জনক হতে পারে, যেমন রাস্তায় হাঁটার সময়। তাই এই ধরনের হেডফোন ব্যবহারেও সচেতনতা প্রয়োজন।

[আরও পড়ুন: Medical Theft: হাসপাতাল থেকে দামি যন্ত্রাংশ চুরি! টেকনিশিয়ান পরিচয়ে অভিনব কায়দায় হাতেনাতে ধরা পড়ল চোর]

প্রশ্ন : সারাক্ষণ হেডফোন কানে গুঁজে রাখলে কানের কতটা ক্ষতি হতে পারে ?

উত্তর : নানা ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে বর্তমান সময় শুধুমাত্র গান শোনার জন্যই হেডফোনের ব্যবহার হয় তা নয়, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনেও অনেকক্ষণ কানে হেডফোন লাগিয়ে রাখতে হয়। যা প্রফেশনাল হ্যাজার্ড। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহা্রের ফলে কানে অস্বস্তি বা ব্যথা হতে পারে। মাথা যন্ত্রণা হতে পারে।মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। অনেকে টিনিটাস নামক অসুখে আক্রান্ত হন। এতে ককলিয়ারের মধ্যে থাকা হেয়ার সেলের ক্ষতি হয়। ফলে কানে সারাক্ষণ শব্দ হতে থাকে। যার দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। অনেক সময় নয়েজ ইনডিউসড হিয়ারিং লসের আশঙ্কাও থাকে।
ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে, ক্লান্তি আসতে পারে, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে কেউ কেউ আবার পেপটিক আলসারেও আক্রান্ত হয়েছেন। তাই হেডফোন ব্যবহারের সময় কিছু সতর্কতা নেওয়া দরকার।

প্রশ্ন : এর থেকে শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কতটা থাকে?

উত্তর : দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় ধরে হেডফোন ব্যবহার করলে ককলিয়ারের মধ্যে থাকা হেয়ার সেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ধীরে ধীরে এই ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে, এই ক্ষতি স্থায়ী হতে পারে এবং শ্রবণশক্তি সম্পূর্ণভাবে হ্রাস হতে পারে।

প্রশ্ন : দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহারের কারণে কানে কী সংক্রমণও হতে পারে?

উত্তর : হেডফোন, বিশেষ করে ইয়ারবাড, কানের ভেতরে আর্দ্রতা এবং ময়লা জমিয়ে রাখে, যেখান থেকে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

প্রশ্ন : দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কানের কোনরকম সমস্যা হলে চিকিৎসার মাধ্যমে তা কতটা সারিয়ে তোলা সম্ভব?

উত্তর : সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা প্রয়োজন। ‘সেনসরিনিউরাল’ শ্রবণশক্তি হ্রাস হলে, নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা কখনোই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই পার্মানেন্ট ড্যামেজের ক্ষেত্রে কানে হিয়ারিং এডের ব্যবহার ছাড়া উপায় থাকে না।

FB POST: https://www.facebook.com/share/r/1EQugjnVPt/

প্রশ্ন: এর ফলে মস্তিষ্কের উপরেও কি কোন প্রভাব পড়ে?

উত্তর : দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কে কিছু সমস্যা হতে পারে।হেডফোন থেকে এক ধরনের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ নির্গত হয়, যা মস্তিষ্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে, মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে, এবং স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

প্রশ্ন : দিনে সর্বাধিক কতক্ষণ হেডফোন ব্যবহার করা যেতে পারে? এবং কত ভলিউমে তা ব্যবহার করা উচিত?

উত্তর : প্রথমেই বলে রাখি একটানা দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার না করে, মাঝে মাঝে কানকে বিশ্রাম দেওয়া দরকার।
হেডফোন ব্যবহারের সময় এর মাত্রা যেন ৫০ থেকে ৬০ ডেসিবেলের বেশি না হয়। একটানা দু’ঘণ্টার বেশি হেডফোন ব্যবহার করা উচিত নয়।

[আরও পড়ুন: BSF Jawan: কাশ্মীরে জঙ্গি দমন চলাকালীন নিখোঁজ বিএসএফ জওয়ান]

প্রশ্ন : বর্তমান সময়ে হেডফোন এবং ইয়ারফোন কর্ম ক্ষেত্রে অনেককেই ব্যবহার করতে হয়, এর ফলে শ্রবণ শক্তির ক্ষতি কি কোন ভাবে এড়ানো সম্ভব ?

উত্তর : ১)প্রথমত যেকোনো ধরনের হেডফোনই কম ভলিউমে শোনা উচিত। এবং একটানা হেডফোন ব্যবহার না করে মাঝে মাঝে কানকে বিশ্রাম দেওয়া উচিত।
২)হেডফোন ব্যবহারের সময় ভলিউম সর্বোচ্চ ক্ষমতার ৬০% এর বেশি না রাখাই ভালো।
৩)ইয়ারবাডের বদলে কানের আকারের থেকে বড়ো হেডফোন ব্যবহার করা ভালো।

প্রশ্ন : সবশেষে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চাইবেন?

উত্তর: ১)কান এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল মানের হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করা উচিত। কমদামী হেডফোন ব্যবহার করলে কানের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
২)হেডফোন ব্যবহারের সময় ভলিউম কম রাখুন।
৩)একটানা হেডফোন ব্যবহারের মাঝে কানকে বিশ্রাম দিন।
৪)যদি কানে কোনরকম সমস্যা অনুভব করেন তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।