গ্রাফিক্স: নিজস্ব
Bangla Jago Desk: ঠান্ডাই বিনা দোল বা হোলির আনন্দ মাটি। ঠান্ডাইয়ের ইতিহাস বহু পুরোনো। প্রায় খ্রিষ্টপূর্বের ১ হাজার বছর আগে প্রথম ঠান্ডাই খাওয়ার কথা জানা গেছে। বলা যায়, এদেশের তো বটেই বিশ্বেরও সবচেয়ে প্রাচীন পানীয় হল ঠান্ডাই।
ভাঙ মেশানো ঠান্ডাই শিবরাত্রিতে মহাদেবকেও অর্পণ করা হয়। উত্তর ভারতে বিশেষত হোলির দিন খাওয়া হয় ঠান্ডাই। ফাল্গুন মাস বসন্ত কাল হলেও বেশ ভালো রকম গরম অনুভত হয়। তাই এসময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও শরীর ঠান্ডা ও আর্দ্র রাখতে খাওয়া হয় ঠান্ডাই শরবত। গোটা দেশেই জনপ্রিয় ঠান্ডাই। বেনারসকে বলা হয় ‘ঠান্ডাই হাব’।
কতটা স্বাস্থ্যকর ঠান্ডাই?
বসন্তকাল হলেও এই সময় দিনের বেলায় খুবই গরম থাকে। আবহাওয়ার মরসুম পরিবর্তনের সময় তাই শরীর থাকে দুর্বল। গরমে শরীর জুড়োতে আর ঠান্ডা রাখতে তাই দোল আর হোলির দিন জমিয়ে খাওয়া হয় ঠান্ডাই। সাধারণ মিল্কশেকের থেকে ঠান্ডাইতে ক্যালরি বেশি থাকে। এটা শরীরকে চাঙ্গা রাখে, পেটের বিশেষত অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
এছাড়া ঠান্ডাই তৈরি করতে যে সব উপকরণ ব্যবহার করা হয় তার প্রতিটির আলাদা আলাদা ভাবে স্বাস্থ্যকর দিক আছে। যেমন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণের জন্য বিখ্যাত মৌরিদানা, গোলাপ ফুলের পাপড়ি গুঁড়ো বাড়ায় হজমশক্তি। ভিটামিন ই তে সমৃদ্ধ আমন্ড বাদাম কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। আমন্ড বাদাম, পোস্তর দানা, গোলমরিচ, বড়ো এলাচ, মৌরি ও কেশর মেশানো ঠান্ডাই শক্তিবর্ধক। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ফ্যাট ও খনিজ পদার্থ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও হজমশক্তি বাড়ায়।
এবার দোলেতে ঠান্ডাইতে থাকুক রঙিন ছোঁয়া-
১) গোলাপি ঠান্ডাই
পরিমাণ মতো দুধ ঘন করে ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা করার পর ব্লেন্ডারে দুধের মধ্যে ভালো করে কনডেন্সড মিল্ক, অল্প পরিমাণে চিনি ও রোজ সিরাপ মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন। বেশ কিছুক্ষণ পর ঠান্ডাইটা সুদৃশ্য সরবতের গ্লাসে ঢালুন। ওপর থেকে কাঠবাদাম ও পেস্তাবাদামকুচি, স্ট্রবেরি ও চেরিকুচি আর গুলকন্দ সামান্য ছড়িয়ে ও টাটকা ও শুকনো গোলাপ ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
২) কেশরী কুলফি ঠান্ডাই
একটা বড়ো বাটিতে ১ লিটার দুধ ঘন করে জ্বাল দিন। ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। দুধের মধ্যে ক্রিম বা মালাই মেশান, এরপর পেস্তা, কাজু ও কাঠবাদাম কুচি, চিনি ও এলাচ গুঁড়ো দিন। আগে থেকে সরিয়ে রাখা সামান্য দুধে সামান্য জাফরান ভিজিয়ে রাখুন। দুধ ঠান্ডা হতে দিন। এরপর মিশ্রণে জাফরান মেশানো দুধ দিয়ে নাড়িয়ে দিন। গ্লাসে বরফ কুচি দিন, ঠান্ডাই ঢালুন, ওপর থেকে অল্প পেস্তাকুচি, এলাচ গুঁড়ো ও জাফরান এক চিমটে ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
৩) ওয়াটার মেলন ডিলাইট
বীজ ছাড়িয়ে ছোটো করে কাটা তরমুজের টুকরো, চিনি এক টেবিল চামচ, ঠান্ডা দুধ (১ কাপ) বা প্যাকেটের লস্যি বা এক কাপ টক দই, কনডেন্সড মিল্ক ২ টেবিল চামচ, বিট নুন স্বাদমতো মিক্সিতে মিশিয়ে স্মুদি বানিয়ে নিন। মকটেল গ্লাসে বরফ কুচি দিন, স্মুদিটা ঢেলে দিন। তৈরি ওয়াটার মেলন ডিলাইট।
৪) আম্রপালি
২টো বড় কাঁচা আম খোসা ছাড়িয়ে সেদ্ধ করে নিন। একটা পাত্রে জল দিয়ে চিনি গুলে নিন। জাফরান, এলাচ গুঁড়ো, ভাজা জিরে গুঁড়ো, সোডা বা ঠান্ডা জল, সেদ্ধ আম ও চিনি গোলা জল আর সামান্য আমপোড়া সরবতের সিরাপ মিক্সিতে মিশিয়ে নিন একসঙ্গে। এবার মিশ্রণটি সরবতের গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন।