চিত্রঃ প্রতীকী
Bangla Jago Desk: ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। হায়দরাবাদের নিজামস ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের করা সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। পুরুষদের মধ্যে যত রকমের ক্যানসার হয় তার মধ্যে ৬.৯% রোগী প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। খাবার খাওয়ার প্রবণতায় বদল, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার প্রবণতা আর আল্ট্রা প্রসেসড ভাজাভুজি খাবারের প্রতি আসক্তির কারণে বাড়ছে পুরুষদের মধ্যে প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। কম পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল খাওয়া, স্থুলতা, ডায়াবেটিসের সমস্যা, ধূমপান ও মদ্যপানের আসক্তি ক্রমশ বাড়িয়ে তুলছে সমস্যা। গবেষণায় দেখা গেছে, নিকট পরিজনদের মধ্যে কেউ প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হলে সেই পরিবারের শিশুদের মধ্যে এই মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ৪০-৪৫ বছর বয়স পেরোলেই প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন রক্তর পরীক্ষা করানো উচিত। প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ৯ জনের প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রাতে বারবার প্রস্রাব, প্রস্রাবে রক্ত বা শুক্রাণু দেখা গেলে, প্রস্রাব করতে অসুবিধা হলে বা রঙ গোলাপি বা লালচে ভাব দেখা গেলে সাবধান হন। তলপেটের যন্ত্রণা হলে গাফিলতি করবেন না। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অন্যদিকে, ভারতে ক্রমশ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা রিপোর্টে এমনই দাবি করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতে ১৪ বছরের কমবয়সি শিশুদের মধ্যে ৫০-৬০ হাজার ক্যানসারে আক্রান্ত ছিল। ২০২৩ সালে গোটা বিশ্বে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ক্যানসার আক্রান্ত শিশু ছিল। মারণ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ১ লাখ ৪৪ হাজার শিশুর। ল্যানসেটের গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় লিউকেমিয়া বা রক্তর ক্যানসারে। এরপরই আছে মেরুদণ্ডে টিউমার, হাড় ও থাইরয়েডের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা।
Global Burden of Diseases শীর্ষক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতীয় শিশুদের মধ্যে সংক্রমক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা যেখানে কমছে সেখানে ক্যানসারের মতো নন কমিউনিকেবল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা অনেক দেরিতে চিহ্নিত হয়। ফলে রোগের সঠিক চিকিৎসা করার সময়সীমা পেরিয়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর ৪ লাখ শিশু নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। মাঝারি ও নিম্ন আয়ের দেশে ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর হার ৯৪%। ধনী দেশে প্রায় ৮০% ক্যানসার সুস্থ হয়ে যায়। তবে গরিব দেশে মাত্র ৩০% শিশু ক্যানসারকে জয় করতে সক্ষম হয়। টাউন ও গ্রামে থাকা পরিবারের পক্ষে রোজ রোজ বড়ো শহরের হাসপাতালে ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আসা সম্ভব হয় না ফলে ঘাটতি থাকে চিকিৎসায়।