ad
ad

Breaking News

Acne Treatment

ত্বকের যত্নে ‘less is more’, ব্রণ থেকে মুক্তি কীভাবে? রইল চিকিৎসকের পরামর্শ

ব্রণ মূলত বয়ঃসন্ধিকালীন একটি সমস্যা। তবে বিভিন্ন বয়সেই তা হতে পারে।ব্রণ নিয়ে নাজেহাল অনেকেই।

Acne Treatment: Dermatologist Answers Questions About Pimples

চিত্র : সংগৃহীত

অর্পিতা বসু: ত্বকের যত্নে ‘less is more’। তাই ত্বকের পরিচর্যায় ভরসা রাখুন CTM-এর উপর। অর্থাৎ ক্লিনজার, টোনার ও ময়েশ্চরাইজারের ব্যবহার মাস্ট। এই তিনটি ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ করলেই ত্বক থাকবে সুস্থ ও সতেজ। ব্রণ মূলত বয়ঃসন্ধিকালীন একটি সমস্যা। তবে বিভিন্ন বয়সেই তা হতে পারে।ব্রণ নিয়ে নাজেহাল অনেকেই। কমবেশি ভুগছেন সকলেই । ব্রণ কমাতে চেষ্টার কমতিও রাখছেন না। বাজার চলতি প্রসাধনী থেকে ঘরোয়া টোটকা বাদ নেই কিছুই। তা সত্ত্বেও মিলছে না তেমন কোনও সুরাহা। ব্রণ মুক্ত ত্বক রাখার উপায় কী? ব্রণ হলেই বা কী করনীয়? জানালেন বিশিষ্ট ডার্মাটোলজিস্ট ডক্টর সৌম্য কান্তী দত্ত (Acne Treatment)। 

প্রশ্ন : ব্রন আসলে কি? এবং কেন হয়?
উত্তর : ব্রণ হল ত্বকের এমন একটি অবস্থা যখন ত্বকের ছিদ্রগুলি ঘাম বা সিবামের কারণে ব্লক হয়ে যায় তখন ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস এবং অন্যান্য ধরণের ব্রণ হয়। চিকিৎসা পরিভাষা একে আমরা ‘অ্যাকনে ভালগারিস’বলি। এছাড়া Propionibacterium acnes নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে ব্রণের প্রবণতা বেড়ে যায়। ধুলো এবং ময়লা ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দেয় ,যা ব্রণ হওয়ার একটি প্রধান কারণ। মাথার ত্বকে খুশকি থাকলে ব্রণের প্রবণতা বাড়ে। চিনি এবং উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার ব্রণের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।ব্রণর সমস্যা প্রায় সব ত্বকেই হয়। বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ব্রণ বেশি দেখা যায়। এছাড়াও, বংশগত কারণ, কিছু প্রসাধনী এবং কিছু ঔষধপত্রও ব্রণের জন্য দায়ী হতে পারে।

প্রশ্ন : কাদের মধ্যে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে?

উত্তর : বয়ঃসন্ধিকালে সাধারণত হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ব্রণের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।যদি পরিবারের কারো ব্রণ হওয়ার ইতিহাস থাকে, তবে অন্যদের তুলনায় তাদের ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। হরমোনের ওঠানামা, বিশেষ করে পিরিয়ডের আগে মহিলাদের ব্রণ হতে পারে। কিছু প্রসাধনী ও ওষুধ এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবার ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয় (Acne Treatment)।

প্রশ্ন : ব্রণ হলে কি কি করা উচিত নয়?

উত্তর : ১)ব্রণ হলে অনেকেরই হাত দিয়ে ব্রণ খোঁটাখুঁটি করার অভ্যাস থাকে,যা করা উচিত নয়।এতে সংক্রমণ হতে পারে,যা প্রদাহ বাড়িয়ে দেয় এবং ব্রণের চারপাশে থাকা স্বাস্থ্যকর টিস্যুর ক্ষতি করে। ফলে ত্বকে গর্ত বা ক্ষতও হতে পারে, যা সহজে যেতে চায় না।
২)ত্বক বেশি ঘষা বা স্ক্রাব করা উচিত নয়,এতে ত্বক আরও রুক্ষ ও সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে।
৩)ব্রণের ওপর কখনোই ডেটল বা স্যাভলন, কোনো তেল ব্যবহার করা উচিত নয়।
৪)ঘরোয়া উপাদান যেমন বেকিং সোডা, লেবুর রস, টক দই বা টুথপেস্ট ব্রণের ওপর ব্যবহার করা ক্ষতিকর।
৫)নিজের থেকে কোনও ওষুধ বা ক্রিম ব্যবহার না করে শুরুতেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এবং নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা উচিত।

প্রশ্ন : ব্রনের কি নানান প্রকারভেদ হয়?

উত্তর : মূলত চার ধরনের অ্যাকনের প্রকারভেদ দেখা যায়। ১)গ্রেড ওয়ান ব্রণ অর্থাৎ ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস।২)গ্রেড টু ব্রন অর্থাৎ প্যাপুলার অ্যাকনে যেখানে ছোট, গোলাপি বা লাল রঙের ফুসকুড়ি, যা ত্বকের উপরে সামান্য উঁচু হয়ে যায়।
৩)গ্রেট থ্রি পাস্টুলার অ্যাকনে এক্ষেত্রে ফুসকুড়ির ভেতরে পুঁজ ভর্তি থাকে।
৪)গ্রেড ফোর অর্থাৎ নডিউলোসিস্টিক অ্যাকনে যা ত্বকের গভীরে বড়, শক্ত, বেদনাদায়ক নডিউল এবং সিস্ট তৈরি করে।

প্রশ্ন : ব্রনের সমস্যা কতটা বংশগত?

উত্তর : ব্রণ হওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, তার মধ্যে বংশগত কারণে ব্রণের প্রবণতা বাড়তে পারে। যদি পরিবারের সদস্যদের ব্রণ হওয়ার ইতিহাস থাকে তাহলে আপনারও ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

প্রশ্ন : মাথার ত্বকের খুশকি বা বেশি রাসায়নিক প্রসাধনীর ব্যবহার ব্রণের সমস্যা কতটা বাড়ায়?

উত্তর : মাথার ত্বকের খুশকি এবং অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে ব্রণের সমস্যা বাড়ে। খুশকি সাধারণত মাথার ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণের কারণে হয়, যা ব্রণর কারণ হতে পারে। এছাড়াও, কিছু প্রসাধনী যেমন তেল, হেয়ার স্টাইলিং পণ্য চুলের ফলিকলগুলি বন্ধ করে দিতে পারে এবং এর ফলে ব্রণ হতে পারে।

প্রশ্ন : চিকিৎসার মাধ্যমে ব্রণ কি সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব?

উত্তর : সম্পূর্ণভাবে নিরাময় সম্ভব না হলেও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।টপিকাল বা ওরাল ওষুধের ব্যবহার ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মাথার ত্বক খুশকি মুক্ত রাখতে হবে। ফাস্টফুড, তৈলাক্ত মশলাদার খাবার এবং যে সমস্ত খাবারে সুগারের পরিমাণ বেশি থাকে তা এড়িয়ে চলতে হবে (Acne Treatment)।

প্রশ্ন : ২৫ বা ৩০ বছর হয়ে যাওয়ার পরেও নতুন করে অনেকেরই ব্রণের সমস্যা হয় এটা কেন?

উত্তর : ২৫ বা ৩০ বছর পরেও ব্রণের সমস্যা দেখা যেতে পারে। যাকে অ্যাডাল্ট অ্যাকনে বা হরমোনাল অ্যাকনে বলা হয়।সেক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তন একটা প্রধান কারণ। পিসিওডি বা পিসিওএস হরমোনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে, যা অতিরিক্ত সিবাম (তেল) উৎপাদনে সাহায্য করে, যার ফলে পিরিয়ডের ঠিক আগে বা পরে ব্রণ হতে পারে। অতিরিক্ত প্রসাধনীর ব্যবহার , অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সিরাম ব্যবহার করে থাকেন, যা ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা ” কসমেটিক অ্যাকনে” নামে পরিচিত। এছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুমও একটা কারণ হতে পারে।

প্রশ্ন : হরমোনাল ব্রণের জন্য চিকিৎসা কি ? শুধুমাত্র স্কিন কেয়ার বা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে ঠিক করা সম্ভব, নাকি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

উত্তর : অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। যদি
পিসিওএস বা পিসিওডির সমস্যা থাকে তার সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন। পাশাপাশি ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। মুখ ভালো করে পরিষ্কার রাখতে হবে, টপিকাল অ্যান্টিবায়োটিক, ওরাল অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার এই সমস্যাকে কমাতে সাহায্য করে।

প্রশ্ন : অনেক সময় আপনারা বলেন শরীরে ‘কর্টিজল’ হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে ব্রণর প্রবণতা বাড়তে পারে, ঠিক কি কারণ?

উত্তর : ‘কর্টিজলের’ মাত্রা বেড়ে গেলে সেবাম (Sebum) নামক তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসরণ বাড়ে,যা ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দেয়, ফলে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এছাড়াও, মানসিক চাপ ও ‘কর্টিজল’ নিঃসরণের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে, যা ব্রণর সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

প্রশ্ন : স্ট্রেস কতটা ব্রনের জন্য ক্ষতিকর?

উত্তর : একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ,স্ট্রেস ব্রণের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন আগেও জানালাম মানসিক চাপ, উদ্বেগ ,অবসাদ বৃদ্ধি পেলে ‘কর্টিজল’ হরমোনের মাত্রা বাড়ে ফলে ত্বকের অবস্থা খারাপ হতে পারে। তাই মানসিক চাপ কমাতে হবে, থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা সঠিক রাখতে হবে, নিয়মিত শরীর চর্চাও প্রয়োজন।

প্রশ্ন : ডায়েট কি রকম হওয়া উচিত? মিষ্টি জাতীয় খাবার, দুধ জাতীয় খাবার সত্যিই কি ব্রণের প্রবণতাকে বাড়িয়ে দেয়?

উত্তর: ব্রণ এড়াতে স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। ডায়েটে ফল, সবজি, শস্য এবং প্রোটিনের মতো পুষ্টিকর খাবার রাখুন।চিনি, ফাস্ট ফুড,অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার, মিষ্টি ও দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন (Acne Treatment)।

প্রশ্ন : স্কিন কেয়ারে অনেকেই বেশ কিছু প্রোডাক্ট একসাথে ব্যবহার করেন, কতগুলো একটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট একসাথে মুখে ব্যবহার করা যায়?

উত্তর : ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে আমরা বলে থাকি ‘lese is more’। অর্থাৎ,অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার না করে, প্রয়োজনীয় এবং সঠিক প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত। মুখে ব্রণের সমস্যা থাকলে নিয়মিত সঠিক ক্লিনজিং, ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন, ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে সেই জায়গায় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, যেখানে ব্রণ রয়েছে সেখানে টপিকাল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। মাথায় রাখতে হবে অ্যাকটিভ ব্রণের ক্ষেত্রে কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নানা ধরনের সিরাম বা রেটিনল ব্যবহার করা উচিত নয়। এছাড়া নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে ফেসওয়াশ, মশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন ব্যবহারই যথেষ্ট।

প্রশ্ন : ব্রণের প্রবণতা রুখতে এখন নানা ধরনের জেল,প্যাচ,সিরাম বাজারে পাওয়া যায়, সেগুলি কি ব্যবহার করা কি উচিত?

উত্তর : অ্যাকনে থেকে যে অ্যাকনে প্যাচ তৈরি হয় সেক্ষেত্রে বাজার চলতি কিছু ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা উচিত।

প্রশ্ন : অনেকেই এখন মুখে ঘরোয়া টোটকা,অ্যালোভেরা ব্যবহার করেন,ত্বকের জন্য বা যাদের ব্রণের সমস্যা রয়েছে,তাদের জন্য কতটা নিরাপদ ?

উত্তর : ঘরোয়া টোটকা যেমন বেসন, টক দই বা অ্যালোভেরা ব্রণের জন্য একেবারেই নিরাপদ নয়। বা যাদের ব্রণের সমস্যা নেই তাদের ক্ষেত্রেও অনেক সময় এই ধরনের উপাদান ব্যবহারের ফলে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এড়িয়ে চলাই উচিত।

প্রশ্ন : সবশেষে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চাইবেন?

উত্তর: ত্বকের যেকোনো সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের থেকে কোনও কিছু ব্যবহার করবেন না। ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। প্রতিদিন ফেসওয়াশ, মশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিনের ব্যবহার ত্বকের জন্য যথেষ্ট। ব্রণর সমস্যা থাকলে সময় নষ্ট না করে শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।স্বাস্থ্যকর খাবার খান,পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন, নিজেকে চাপমুক্ত রাখুন এবং নিয়মিত শরীর চর্চা করুন (Acne Treatment)।