চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পুজো দোরগোড়ায় তাই শপিং চলছে জোরকদমে। কিন্তু ত্বক মলিন নিষ্প্রাণ দেখালে পুজোর সময় সব সাজই মাটি। কোরিয়ান বিউটি প্রোডাক্টের খ্যাতি বিশ্ব জুড়ে। কিন্তু নামি-দামি রাসায়নিক মেশানো বিউটি প্রোডাক্টস নয় পুজোর আগে ঝকঝকে উজ্জ্বল ত্বক পেতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চায় ভরসা থাকুক রান্নাঘরে থাকা সহজ উপাদানের ওপরই (Glowing Skin)।
১) গ্রিন টি: উজ্জ্বল ত্বক পেতে ভরসা রাখুন গ্রিন টি’র ওপর। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ গ্রিন টি ত্বককে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালসের হাত থেকে রক্ষা করে। চা ছাঁকার পর গ্রিন টি ব্যাগ না ফেলে দিয়ে ঠান্ডা করে মুখে কম্প্রেস করার জন্য ব্যবহার লাগান। ত্বকের লালচে ও ফোলা ভাব দূর করে।
২) টমেটো: উজ্জ্বল ত্বক পেতে মুখে, গলায়, হাতে পায়ে ঘষুন টমেটোর টুকরো। টমেটোতে পাওয়া যায় ভিটামিন সি যা প্রাকৃতিক ভাবে ত্বক উজ্জ্বল করে। ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব শুষে নেয় টমেটো। তাই টমেটোর পেস্ট বা রস আলতো ভাবে মুখে গোলাকার পদ্ধতিতে ঘষুন। ত্বকের বন্ধ হয়ে যাওয়া ছিদ্র খুলে দেয় টমেটোর রস। ব্ল্যাক আর হোয়াইট হেডসের সমস্যা দূর করে। ফ্রি র্যডিকেলের কারণে ত্বকের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টমেটোতে থাকা লাইকোপিন ত্বককে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। বলিরেখা, ফাইন লাইন্স দূর করে। ত্বকের অকালে বুড়িয়ে যাওয়া আটকায়। মনের পাশাপাশি আমাদের ত্বকও কখনোসখনো স্ট্রেস বা উদ্বেগে থাকে। টমেটো ত্বকের যাবতীয় স্ট্রেস কমায়। ঝকঝকে উজ্জ্বল লাগে ত্বক। রোদে পুড়ে গিয়ে ত্বক কালো হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মলিনও হয়ে যায়। ভিটামিন সি আর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর টমেটো ত্বকের ট্যান দূর করে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ত্বক ড্রাই হয়ে যায়। টমেটোর রস রোদের পুড়ে শুষ্ক হয়ে যাওয়ার থেকে ত্বককে বাঁচায় (Glowing Skin)।
আরও পড়ুনঃ Kashmir Infiltration: জম্মু-কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বানচাল, সেনার গুলিতে পিছু হটল জঙ্গিরা
৩) বেকিং পাউডার: হেঁশেলে ছোট্ট কৌটোতে সাদা রঙের পাউডার থাকে। কেক তৈরি হোক কিংবা লুচি, পরোটা মুচমুচে করতে ময়দার সঙ্গে অল্প পরিমাণে মেশানো হয় ওই পাউডার। মুচমুচে তেলেভাজা তৈরি করতেও বেসনের সঙ্গে মেশানো হয় ওই পাউডার। সাদা রঙের পাউডারের পোশাকি নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট। যাকে আমরা বেকিং পাউডার হিসাবে চিনি। জানেন কি রান্না ছাড়াও জেল্লাদার ত্বক পেতে বিউটি সিক্রেট হিসাবেও ব্যবহার করা হয় বেকিং সোডা। বেকিং সোডা ত্বকের ডেড সেল বা মরা কোষ দূর করে এক্সফোলিয়েটরের কাজ করে। ঝকঝকে মসৃণ ত্বক পেতে অল্প পরিমাণে বেকিং সোডা আর জল মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করে মুখে, গলায় আর গায়ে, হাতপায়ে লাগিয়ে সার্কুলার মোশনে ঘষুন। জল দিয়ে ধুয়ে নিন। রোদে পুড়ে ত্বক কালো হয়ে গেলে বেকিং সোডা পাউডারের মিশ্রণ লাগান। ত্বকের ফোলাভাব ও লালচেভাব দূর হবে। বেকিং সোডা পাউডারে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ আছে। তাই ব্রণ, ফুসকুড়ির ওপর বেকিং সোডা পাউডারের মিশ্রণ লাগালে উপকার হবে। বেকিং সোডা পাউডার ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ভারসাম্য বজায় রাখে তাই ব্রণ, ফুসকুড়ির সমস্যা হয় না বেকিং সোডা পাউডারের মিশ্রণ নিয়মিত মুখে লাগালে। ১-২ মিনিট মুখে লাগিয়ে রেখে দিয়ে ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিন। প্রথমে ২-৩ দিন রোজ করুন। তারপর সপ্তাহে ১-২ বার করুন (Glowing Skin)।
৪) রাইস ওয়াটার: কোরিয়ান বিউটি ট্রেন্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল রাইস ওয়াটার। ভাতের ফ্যান বা রাইস ওয়াটারে পাওয়া যায় ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি৩, ভিটামিন বি৫ আর ভিটামিন বি৬। এসব ভিটামিন ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও জেল্লা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখে, ব্রণর সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে। ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায় আর স্বাভাবিক জেল্লা বজায় রাখতে সাহায্য করে ভাতের ফ্যান। রুক্ষ ও শুষ্ক ভাব দূর করে স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অ্যান্টিইনফ্লেমটরি গুণ থাকে বলে সংক্রমণ আটকায়। ত্বক উজ্জ্বল করে রাইস ওয়াটার। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ভাতের ফ্যান ত্বকের বলিরেখা দূর করে। ফেস টোনার আর ফেস প্যাকে ব্যবহার করা যায় ভাতের ফ্যান। ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়াকে প্রতিরোধ করে ভাতের ফ্যান। অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে বলে ভাতের ফ্যান ত্বকের অকালে বুড়িয়ে যাওয়া আটকায়। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে বলে ত্বকের দাগছোপ, পিগমেন্টেশনের সমস্যা দূর করে। ভাতের ফ্যান গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে টোনার হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন।
Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial
৫) অ্যালোভেরা জেল: অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও অ্যান্টিইনফ্লেমটরি পদার্থ আছে অ্যালোভেরা জেলে যা ত্বকের লালচে ভাব ও জ্বলুনি দূর করে। ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা ফিরিয়ে আনে। রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মুখে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঈষদুষ্ণ গরম জলে মুখ পরিষ্কার করে নিন (Glowing Skin)।
৬) মধু: মধুতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ। মধু ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। দারচিনির গুঁড়োয় রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লেমটরি ও অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল গুণ। ফলে ব্রণ হলে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় এক চামচ মধু ও দারচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে মুখ পরিষ্কার করে নিন।
৭) পাতিলেবুর রস: ভিটামিন সি, সাইট্রিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ পাতিলেবুর রস ব্রণর কারণে তৈরি হওয়া দাগছোপ দূর করে।
৮) টক দই: টক দইয়ে আছে ল্যাকটিক অ্যাসিড। হলুদে রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লেমটরি ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুণ। এক টেবিল চামচ হলুদ বাটা ও ২ টেবিল চামচ টক দই ফেটিয়ে তৈরি করে নিন পেস্ট। তা মুখে লাগান। ২০ মিনিট রেখে মুখ পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ২-৩ বার করুন।
৯) আলুর রস: ভিটামিন ও ক্যাটেকোলেস নামক উৎসেচক থাকে আলুর রসে। যা ব্রণর সমস্যা দূর করে। ব্রণর কারণে তৈরি হওয়া দাগছোপ দূর করে। রোজ মুখে ১৫-২০ মিনিট আলুর রস লাগিয়ে রাখুন। পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন মুখ (Glowing Skin)।