Bangla Jago Desk, মৌ বসু: নানান রকম মশলার জন্য ভারতীয় রান্নার খ্যাতি বিশ্ব জোড়া। কিন্তু এসব মশলা শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না তা পুষ্টিতেও অনন্য। যেমন দারচিনি। দারচিনি হল এমন এক সুপারফুড যার একটা টুকরোতেই লুকিয়ে রয়েছে সুস্থ জীবনের জিয়নকাঠি। দারচিনি বা সিনামন (Cinnamon) হল বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মশলা। ভারত ছাড়াও প্রাচীন মিশরেও দারচিনিকে সোনার চেয়েও মূল্যবান সামগ্রী বলে মনে করা হত। প্রতি বছর সুইডেনে ৪ অক্টোবর “ন্যাশনাল সিনামন ডে” হিসাবে পালন করা হয়।
ত্বকের পরিচর্যায় কতটা উপকারী দারচিনি
দারচিনিতে অ্যান্টিসেপ্টিক গুণাবলী থাকায় অ্যাকনে, ব্রণ, ফুসকুড়ি, ব্ল্যাকহেডসের মতো ত্বকের সমস্যা দূর হয়। ১ টেবল চামচ দারচিনি গুঁড়ো ও ৩ টেবল চামচ মধু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে সপ্তাহে এক থেকে ২ দিন ব্রণর ওপর লাগিয়ে রাখুন। মিনিট ২০ এভাবে রেখে হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে নিন। তৈলাক্ত ত্বক হলে মধু মেশান, শুষ্ক ত্বক হলে নারকেল তেল। দারচিনি আছে এসেন্সিয়াল অয়েল যা ত্বকের ফাইন লাইন, রিঙ্কলস কমায়। নিয়মিত দারচিনি থেকে তৈরি এসেন্সিয়াল অয়েল, অলিভ অয়েল ও আর্গান অয়েল মিশিয়ে হালকা ভাবে ত্বকের ওপর মাসাজ করলে ত্বক টানটান থাকে। ত্বকের মলিনতা কমিয়ে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনতেও দারচিনির জুড়ি মেলা ভার।
নিয়মিত দারচিনি গুঁড়ো, টক দই, পাকা কলা চটকানো আর লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ রেখে হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে নিন। এরপরই আসল কামাল দেখুন। দারচিনির অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ত্বকের মলিনতা কমিয়ে ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনে। মধুর সঙ্গে দারচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে লাগালে কমে একজিমার মতো ত্বকের সমস্যা।
অলিভ অয়েল ও সিনামন অয়েল ঠোঁটের ওপর লাগালে ঠোঁট নরম, কোমল হওয়ার পাশাপাশি অল্প ফুলেও যায়। পার্ফেক্ট পাউটের জন্য যা খুব দরকারি। দারচিনির এক্সফোলিয়েটিং কোয়ালিটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে পা ও গোড়ালি নরম করে। দারচিনি গুঁড়ো, সমুদ্রের নুন, মধু ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে পা ও গোড়ালিতে মিনিট ১৫ লাগিয়ে রাখুন। তারপর জলে ধুয়ে নিন। নিয়মিত করলে পা ফাটার সমস্যা দূর হবে।