চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মৌ বসু: ওষ্ঠের জাদুতেই কাবু সবাই। যে কোনো নারীর পোশাকের সৌন্দর্য মেলে ধরতে সাহায্য করে লিপস্টিক। গবেষণায় দেখা গেছে লিপস্টিকের রঙ বেশি করে প্রকাশ করে আপনার ব্যক্তিত্ব। সায়েন্স অফ ওপিনিয়নস অনুযায়ী, পছন্দের রঙের চেয়েও লিপস্টিকের রঙ লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে কোনো নারীর স্বভাব।
ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি করলে দেখা যায়, ১৬ শতকের আগে ইউরোপে খ্রিস্টান চার্চ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল ঠোঁট রাঙানোকে। ওষ্ঠরঞ্জনী ব্যবহারকে শয়তানের কাণ্ডকারখানা বলে মনে করা হত। রানি প্রথম এলিজাবেথের আমলে ইংল্যান্ডে উজ্জ্বল লাল রঙের লিপস্টিক ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। তবে সে সময় উচ্চ শ্রেণির মহিলারা লিপস্টিক ব্যবহার করতেন।
১৮ শতক থেকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবর্গের মহিলারা লিপস্টিক পরা শুরু করেন। ১৮৮৪ সালে ফরাসি কসমেটিক সংস্থা গুয়েরলেন প্রথম বার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে লিপস্টিকের। ১৯ শতকে ফ্যাশনেবল আমেরিকান মহিলারা দৈনন্দিন জীবনে লিপস্টিক ব্যবহার শুরু করেন। ১৯২১ সাল থেকে ইংল্যান্ডেও লিপস্টিক ব্যবহারের বহুল প্রচলন শুরু হয়। ৫ এর দশকে অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো ও এলিজাবেথ টেলরের হাত ধরে উজ্জ্বল লাল রঙের লিপস্টিক ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়।
বাজারে বিভিন্ন রকমের ও রঙের লিপস্টিক মজুত রয়েছে। কিন্তু লিপস্টিকের রকম ও রঙ ভেবেচিন্তে বাছাই করুন। কারণ, লিপস্টিক শুধু আপনার লুককেই বা দেখতে কেমন লাগছে তার ফাইনাল টাচ দেয় না পাশাপাশি সঠিক লিপস্টিক না বেছে নিলে ক্ষতি হতে পারে ঠোঁটেরও।
ম্যাট লিপস্টিক : বোল্ড শাইনিং ছাড়া লুক চাইলে ম্যাট লিপস্টিক বেছে নিন। সফিসটিকেটেড লুক আসবে। দীর্ঘ সময় ধরে ঠোঁটে থাকে ম্যাট লিপস্টিক। বারবার টাচ আপ করার প্রয়োজন হয় না। তবে কিছু কিছু ম্যাট লিপস্টিকের রঙ এত ঠোঁটকে শুষ্ক করে দেয় যে ঠোঁট ফাটা থাকলে তা দেখা যায়।
ক্রিমি লিপস্টিক: ঠোঁটকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে হাই টেক্সচার ও হাইড্রেটিং ফর্মুলাযুক্ত ক্রিমি লিপস্টিক। লাক্সারি ও ময়েশ্চারাইজিং লুক আসবে। রুক্ষ ও শুষ্ক ঠোঁট ভালো রাখতে সাহায্য করে ক্রিমি লিপস্টিক। শুষ্ক ও খসখসে ফাটা ঠোঁটের জন্য আদর্শ। দিন হোক কিংবা রাত যে কোনো সময় যে কোনো জায়গায় ব্যবহার করা যায় ক্রিমি লিপস্টিক। তবে ক্রিমের মতো টেক্সচারের জন্য মুছে যায় বলে বারবার এরকম লিপস্টিকের টাচ আপ করার প্রয়োজন হয়।
গ্লসি লিপস্টিক: ঠোঁটে গ্লসি বা চকচকে একটু আর্দ্র ভিজে ভিজে লুক দেয় গ্লসি লিপস্টিক। ঠোঁট পুরু ও কমবয়সি লাগে। হাইড্রেটিং ফর্মুলার কারণে গ্লসি লিপস্টিক লাগালে ঠোঁটকে আর্দ্র দেখায়। রুক্ষ ও শুষ্ক ভাব দেখা যায় না। তাড়াতাড়ি টাচ আপ করলেই হয়ে যায়। তবে বারবার করতে হয় টাচ আপ না হলে লিপস্টিক মুছে যায়। কমবয়সি ফ্রেশ লুক দেয় গ্লসি লিপস্টিক।
আপনার জন্য কোন শেডের লিপস্টিক পারফেক্ট
সারাদিনের ব্যস্ততার মধ্যে ক্রিমি লিপস্টিক আদর্শ। বোল্ড ও দীর্ঘ মেয়াদি লুক চাইলে ব্যবহার করুন ম্যাট লিপস্টিক। ঠোঁট পুরু ও চকচকে দেখাতে ব্যবহার করুন গ্লসি লিপস্টিক।
লিপস্টিকের শেড বেছে নেওয়ার আগে কোন কোন বিষয় মাথায় রাখবেন
ভুল শেডের লিপস্টিক ব্যবহার করলেও নিজের স্বাভাবিক বয়সের চেয়েও বেশি বয়স্ক দেখাতে পারে। লিপস্টিকের কোনো নির্দিষ্ট রঙ যতই ট্রেন্ডি হোক না কেন তা যদি আপনার ত্বকের রঙের সঙ্গে না মেলে তাহলে আপনাকে বয়স্ক লাগবে দেখতে। সুন্দর লাগতে তাই ভেবেচিন্তে লিপস্টিকের শেড বেছে নিন।