ad
ad

Breaking News

Saree

শাড়ির পরতে পরতে মিশে থাকে ভালোবাসা, ঐতিহ্য! জানুন কিভাবে যত্নে রাখবেন আপনার প্রিয় শাড়ি

শাড়ি ভালোবাসে না এমন ভারতীয় মহিলা খুঁজে পাওয়া ভার। শাড়ি শুধু একটা পোশাক নয় এর পরতে পরতে মিশে থাকে অনেকখানি ভালোবাসা, ঐতিহ্যও। কিন্তু জানেন কি আপনার প্রিয় শাড়িরও নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা প্রয়োজন হয়।

Love and tradition are intertwined in every layer of a saree! Learn how to take care of your favorite saree

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: মৌ বসু: সুতোর বুননে নানান গল্প বলে ১২ হাতের পোশাক শাড়ি। শাড়ি ভালোবাসে না এমন ভারতীয় মহিলা খুঁজে পাওয়া ভার। শাড়ি শুধু একটা পোশাক নয় এর পরতে পরতে মিশে থাকে অনেকখানি ভালোবাসা, ঐতিহ্যও। কিন্তু জানেন কি আপনার প্রিয় শাড়িরও নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা প্রয়োজন হয়। যেমন তেমন ভাবে ওয়ার্ডরোবে শাড়ি রাখলে হবে না। দেখে নিন কেমন ভাবে যত্নে রাখবেন প্রিয় শাড়ি-

★ হালকা ঢাকাই জামদানি হোক কিংবা কটন চান্দেরি, কিংবা কনট্রাস্ট পাড়ের নারায়েণপেট, এমন সুতির শাড়ি খুব দ্রুত আর্দ্রতা টেনে নেয় তাই এসব শাড়ি নিয়মিত খোলা হাওয়ায় রাখা প্রয়োজন। সুতির শাড়ি অন্য জামাকাপড়ের সঙ্গে একসঙ্গে নয় আলাদা করে কাচুন। ধোয়া, কাচা, শুকনো করার পর ইস্ত্রি করে রাখুন। প্রয়োজনে মাড় দিন শাড়িতে।

★ হালকা রঙের সুতির শাড়ির সঙ্গে একসঙ্গে ডিপ কালারের শাড়ি রাখবেন না। যদি কোনো ভাবে ডিপ কালারের শাড়ি আর্দ্রতাকে টেনে নেয় তা’হলে সেই রঙের ছোপ হালকা রঙের শাড়ির ওপর পড়ে যাবে।

★ চান্দেরি শাড়ি বাড়িতে পরিষ্কার করবেন না, শুধু ড্রাই ক্লিন করুন। সূর্যের আলোয় রাখবেন না। মাহেশ্বরী বা চান্দেরির মতো শাড়ি হালকা মসলিন বা পুরনো সুতির শাড়িতে মুড়ে রাখুন। এসব শাড়ি টাঙিয়ে রাখবেন না। প্রতি ২ মাস অন্তর ভাঁজ বদলান।

★ জরি বুটি ও জরি পাড়ের ভারী এমব্রয়ডারি কাজের শাড়ি কখনো আলমারিতে একদম নিচে রাখবেন না। ওই সব শাড়ির ওপর অন্য কোনো শাড়ি চাপাবেন না। বিশেষ করে ওই সব শাড়ির ওপর অন্য কোনো ভারী শাড়ি চাপাবেন না।

★ শিফন, জর্জেট শাড়িও বেশি দিন ঝুলিয়ে রাখবেন না। বেশি পিন আপ করবেন না। শাড়ি ফেঁসে যেতে পারে।

★ তাঞ্চোই, কাঞ্জিভরম, ধর্মাভরম, সিল্ক জামদানি, উপ্পাড়ার মতো সিল্ক শাড়ি কখনো সুতি ও শিফন শাড়ির সঙ্গে রাখবেন না। সিল্ক শাড়ির ভাঁজ নিয়মিত বদলান। নাহলে পিঁজে যেতে পারে কাপড়। সরাসরি সূর্যের আলোয় রাখবেন না। ভারী কাজের জরির সিল্ক শাড়ি আর সিল্কের হালকা শাড়ি আলাদা করে রাখুন। প্লাস্টিক দিয়ে কখনো শাড়ি মুড়ে রাখবেন না।

★ ভারী সিল্কের শাড়ি পুরনো দোপাট্টা দিয়ে মুড়ে রাখুন। প্রতি ৬ মাস অন্তর রোদ খাওয়ান শাড়িকে। তবে আলমারিতে পুড়ে ফেলার আগে কিছুক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় রাখুন।

★ বেশি দিন শাড়িকে টেকসই রাখতে মেটালের ওয়ার্ডরোব বা আলমারিতে না রেখে কাঠের আলমারিতে রাখুন। বিশুদ্ধ বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারবে আপনার শাড়ি।

★যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে তার জন্য সুতি বা মসলিন কাপড়ে মুড়ে রাখুন সিল্ক শাড়ি। প্রয়োজনে নরম তোয়ালেতে মুড়ে রাখুন সিল্ক শাড়ি। বাজারচলতি প্লাস্টিক ব্যাগে নয় সুতির ব্যাগে ভরে রাখুন সিল্ক শাড়ি। এতে কালো হয়ে যাবে না জরি। পোকামাকড়ের হাত থেকেও ভালো থাকবে শাড়ি।

★শাড়িতে প্রচুর সুতো বা জরির কাজ থাকলে নেটের লাইনিং ব্যবহার করুন। ভেতর থেকে মুড়ুন শাড়ি।

★ হ্যাঙারে টাঙিয়ে রাখুন সিল্ক শাড়ি। এতে কুঁচকে যাবে না শাড়ি। তবে ধাতুর হ্যাঙার ব্যবহার করবেন না। কারণ শাড়িতে জং ধরার দাগ লাগতে পারে।

★ সিল্কের শাড়ি পরার পর ইস্ত্রি করে আলমারিতে তুলে রাখুন। তাতে শাড়ির ফল ভালো থাকবে।

★ ২-৩টি প্লাই সিল্কের সুতো দিয়ে তৈরি হয় সিল্কের শাড়ি। প্রাকৃতিক ফেব্রিক সিল্ক আদতে একটি প্রোটিন। তাই সিল্ক শাড়ির প্রধান শত্রু আর্দ্রতা, সূর্যের আলো, পোকামাকড় আর ধুলো। ভুল ভাঁজে শাড়ি রাখার কারণে নষ্ট হয়ে যায় শাড়ি। আর্দ্রতা আর দূষণেও নষ্ট হয় সিল্কের ফেব্রিক।

★ এমব্রয়েডারি করা শাড়ি উলটো ভাঁজ করে রাখুন। তাতে ফেঁসে যাবে না শাড়ি। সম্ভব হলে জরি বা সুতোর কাজ যেদিকে আছে সেদিকে প্রতিটি স্তরে বাটার পেপার রাখুন। চাইলে সুতির কাপড়ও রাখতে পারেন।

★ সিল্কের শাড়ির চকচকে ভাব বজায় রাখতে সমান ভাবে টাঙিয়ে রাখুন হ্যাঙারে।

★ দামি শাড়ি ইস্ত্রি করার সময় বিশেষ যত্ন নিন। সরাসরি শাড়িতে ঠেকাবেন না গরম ইস্ত্রি। অন্য কাপড়ে মুড়ে শাড়ি ইস্ত্রি করুন। এমব্রয়ডারি করা শাড়ি উলটো দিক থেকে ইস্ত্রি করুন।