চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন চাকরিপ্রার্থীরা। সোমবার হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রকাশিত ইন্টারভিউ তালিকায় একাধিক ত্রুটি রয়েছে এবং সেখানে ‘টেনটেড’ বা অযোগ্য প্রার্থীরা সুযোগ পেয়েছেন। মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন, যে ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে এমন অনেক প্রার্থীর নাম রয়েছে যাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, লিখিত পরীক্ষায় ৬০-এ ৬০ পাওয়া সত্ত্বেও অনেক যোগ্য প্রার্থীকে ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়নি, অথচ অযোগ্যদের নাম তালিকায় স্থান পেয়েছে (SSC Interview List)।
গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলির মধ্যে অন্যতম হল— বহু সেকেন্ডারি শিক্ষক পূর্ব শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বরাদ্দ অতিরিক্ত ১০ নম্বরের সুবিধা পেয়েছেন। একই সুবিধা পেয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরাও। কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর অভিযোগটি হলো, যাঁদের জন্ম ১৯৯৭ সালে, তাঁরাও অভিজ্ঞতার এই সুবিধা পেয়েছেন। এত কম বয়সে কী করে তাঁরা অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে ইন্টারভিউয়ের তালিকায় জায়গা পেলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারীরা। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, এসএসসি-র ইন্টারভিউ তালিকায় অযোগ্য প্রার্থীদের নাম থাকা এবং ১৯৯৭ সালে জন্ম নেওয়া প্রার্থীদের অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে দেখানো নিয়ে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ দাবি জানিয়েছেন, ভুল সংশোধন করে মেধা অনুযায়ী নতুন করে ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সেই দাবিই এবার আইনি পথে গেল (SSC Interview List)।
যদিও পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) সমস্ত বিতর্কের মধ্যেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কমিশন জানিয়েছে, বর্তমানে যে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তা শুধুমাত্র প্রার্থীদের দেওয়া অনলাইন তথ্যের ভিত্তিতে এবং ৬০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে তৈরি করা হয়েছে। এসএসসি আরও জানিয়েছে, এই তালিকার ভিত্তিতে তথ্য যাচাই (Verification) করা হবে এবং তার পরেই চূড়ান্ত ইন্টারভিউ তালিকা তৈরি করা হবে, যা অঞ্চলভিত্তিক প্রকাশিত হবে। যদি কোনো অযোগ্য প্রার্থী ভুলবশত তালিকায় স্থান পেয়ে থাকেন, তাহলে সার্টিফিকেট যাচাইয়ের (Certificate Verification) সময়ে তিনি অবশ্যই বাদ পড়বেন। এসএসসি আরও উল্লেখ করেছে, তারা ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশে বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীদের জন্য কিছুটা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবুও, এত সতর্কতা সত্ত্বেও কোনো ‘টেনটেড’ প্রার্থী সুযোগ পেলে ভেরিফিকেশন করার সময়ে তাঁকে বাদ দেওয়া হবে বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।
প্রসঙ্গত, এসএসসি-র ২০১৬ সালের নিয়োগের গোটা প্যানেল সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছিল, যার ফলে ১৭,২০৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা চাকরি হারিয়েছিলেন। তবে ১,৮০৪ জন ‘টেনটেড’ বা ত্রুটিপূর্ণ প্রার্থীকে বাদ দিয়ে বাকি ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিয়েছিল কমিশন। স্কুলশিক্ষা দপ্তর চলতি বছরের ৩০ মে নতুন নিয়োগ বিধিতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত পদে কর্মরত শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার জন্য সর্বোচ্চ ১০ নম্বর বরাদ্দ করেছিল (SSC Interview List)।