চিত্রঃ AI
Bangla Jago Desk: রাজ্যজুড়ে বহুল চর্চিত বালি পাচার মামলায় তৎপরতা বাড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ধৃত ব্যবসায়ী অরুণ শরাফসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারের ঠিক ৬০ দিনের মাথায় ব্যাংকশালের বিশেষ আদালতে চার্জশিট পেশ করল তারা। সূত্রের খবর, মোট ১৮ অভিযুক্তের নাম রয়েছে চার্জশিটে। । চার্জশিটে ১৮ অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছে ১৪টি সংস্থার নামও। শনিবার জমা দেওয়া এই চার্জশিটে জিডি মাইনিংসহ মোট ১৪টি সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইডির দাবি অনুযায়ী, এই দুর্নীতির জাল এতটাই বিস্তৃত যে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকার তছরুপ হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাখিল করা নথিতে জানানো হয়েছে, জিডি মাইনিংয়ের কর্ণধার অরুণ শরাফ বালি তোলা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি সমস্ত নিয়মাবলী লঙ্ঘন করেছেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল স্যান্ড মাইনিং অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন পলিসিকে তোয়াক্কা না করে বালি খনন ও বিক্রির মাধ্যমে তিনি বিপুল মুনাফা অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ। ইডির হিসেব অনুযায়ী, অরুণ শরাফ একাই অন্তত ৭৯ কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও বড়সড় গরমিল পাওয়া গিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ওই সংস্থার অ্যাকাউন্টে ১৩০ কোটি টাকা জমা পড়লেও, বালি বিক্রির বৈধ খতিয়ান হিসেবে মাত্র ১০৩ কোটি টাকার হিসেব মিলেছে।
বালি পাচারের এই অভিনব কৌশলের বর্ণনা দিতে গিয়ে ইডি জানিয়েছে, অভিযুক্তরা প্রশাসনের চোখে ধুলো দিতে জালিয়াতির চরম সীমা অতিক্রম করেছিলেন। বালি পরিবহণের জন্য নির্দিষ্ট লরিকে যে অনুমতিপত্র দেওয়া হতো, সেই গাড়ির নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ট্রাকে বালি পাচার করা হতো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো একটি অনুমোদিত লরিই বালি নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আদতে একই নম্বর ব্যবহার করে একাধিক অবৈধ লরি ঘুরত। এমনকি বালি তোলার অনুমতিপত্রে থাকা কিউআর কোড পর্যন্ত জাল করা হতো বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৬ নভেম্বর গ্রেফতার হওয়া অরুণ শরাফ বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংস্থার হেফাজতে রয়েছেন। ইডির দাবি, এই ১৪টি সংস্থার মাধ্যমে দুর্নীতির টাকা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই চক্রের গভীরে আর কারা জড়িত এবং পাচারের টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, তা জানতে তদন্ত জারি রেখেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে কিউআর কোড জালিয়াতি ও লরির নম্বর ব্যবহারের এই তথ্য সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।