চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: আসন্ন সরস্বতী পুজো ও জাতীয় দিবসগুলিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের ফুলবাজারে এখন অগ্নিমূল্য দশা। বিশেষ করে শীতের মরশুমে তাপমাত্রার খামখেয়ালিপনার কারণে ফুলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জোগানে টান পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। ফুল বিশেষজ্ঞ ও চাষিদের মতে, আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় ফলন আশানুরূপ হয়নি, অথচ উৎসবের মরশুমে চাহিদালিপি আকাশছোঁয়া।
এবারের সরস্বতী পুজো ও নেতাজির জন্মদিন একই দিনে, অর্থাৎ শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি পড়েছে। এর পরপরই রয়েছে ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস। স্বাভাবিকভাবেই এই বিশেষ দিনগুলোতে গাঁদা ফুলের বিপুল চাহিদা থাকে। কিন্তু কোলাঘাট পাইকারি বাজার থেকে হাওড়ার মল্লিকঘাটে ফুল পৌঁছাতেই তার দাম এক লাফে তিনগুণ বেড়ে গিয়েছে। সাধারণত যে কমলা গাঁদা ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যায়, বর্তমানে তার দাম ঠেকেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। পুজোর প্রিয় হলুদ গাঁদার দামও কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এবছর বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অকালবৃষ্টি না হওয়ায় ফুলের গুণমান ভালোই ছিল। বাজারে জোগান থাকলেও উৎসবের মুখে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কেবল গাঁদাই নয়, রজনীগন্ধা ও চেরি ফুলের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ২০-২৫ টাকা কেজির রজনীগন্ধা এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। অন্যদিকে, চিনা গাঁদা এবং চেরি ফুলের দামও দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়েছে। ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে চেরি ফুল, যার স্বাভাবিক দাম থাকে মাত্র ৫০ টাকা। পাইকারি বাজারের এই উত্তাপ এসে লেগেছে শহর ও শহরতলির খুচরো বাজারগুলোতেও। সাধারণ ক্রেতাদের আশঙ্কা, পুজোর কয়েকদিন আগে যদি এই পরিস্থিতি হয়, তবে সরস্বতী পুজোর দিন ফুলের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে নেতাজির জন্মদিন ও পুজো একই দিনে হওয়ায় ফুলের চাহিদা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি থাকবে, ফলে দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না ফুল ব্যবসায়ীরা।