ad
ad

Breaking News

#BengalWeather

নতুন রেকর্ড শীতের! ১০ ডিগ্রির ঘরে কলকাতার তাপমাত্রা , হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কাঁপছে গোটা বঙ্গ

দিনের তাপমাত্রাও থাকবে নিম্নমুখী, ফলে সূর্য ওঠার পরেও এবং সন্ধ্যার পর ঠান্ডার অনুভূতি বজায় থাকবে।

west-bengal-cold-wave

চিত্র: সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: বঙ্গের আবহাওয়ায় এখন শীতের দাপুটে উপস্থিতি স্পষ্ট। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলিতে বরাবরই শীতের প্রভাব বেশি থাকলেও, এবার সেই ঠান্ডার পাল্লা দিচ্ছে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি শীতের সঙ্গে। কলকাতাতেও টানা শীতের আমেজ বজায় থাকায় রাজ্যজুড়েই শীতপ্রেমীরা উপভোগ করছেন হাড়কাঁপানো ঠান্ডা।

চলতি মরশুমে এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শীতল দিন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছ’টায় আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের থেকে ৩.৭ ডিগ্রি কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৬.৭ ডিগ্রি কম। চলতি শীতের মরশুমে এই প্রথম কলকাতায় পারদ নামল ১০ ডিগ্রির ঘরে, যা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল বলেই মনে করা হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী সাতদিন রাজ্যজুড়ে শীতের দাপট বজায় থাকবে। ঘন কুয়াশা, হালকা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি এলাকায় তুষারপাত—সব মিলিয়েই এবারের শীত বেশ সক্রিয়। উত্তরবঙ্গের মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।

দক্ষিণবঙ্গে কোথাও কোথাও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রাও থাকবে নিম্নমুখী, ফলে সূর্য ওঠার পরেও এবং সন্ধ্যার পর ঠান্ডার অনুভূতি বজায় থাকবে। মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ভোর ও সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ থাকলেও বেলা বাড়লে তা ধীরে ধীরে পরিষ্কার হবে। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ ও ১১ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করতে পারে।

উত্তরবঙ্গে শীতের দাপট আরও বেশি। ইতিমধ্যেই সিকিম ও দার্জিলিংয়ে তুষারপাত শুরু হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি কম থাকতে পারে। এর সঙ্গে রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনাও। মঙ্গলবার দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ি জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি সান্দাকফু, ঘুম, ধোত্রে ও চটকপুরের মতো উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর জেলায় ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা বেশি। কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা নেমে আসতে পারে মাত্র ৫০ মিটারে। সোমবার কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ছিল ৯৪ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ছিল ৬৮ শতাংশ। সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে এখন শীতের দাপটে নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় পড়েছে স্পষ্ট প্রভাব।