চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেটে বড় চমক দিলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রীমা ভট্টাচার্য। সমাজের প্রান্তিক স্তরে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া ‘আশা’ (ASHA) এবং ‘অঙ্গনওয়াড়ি’ (ICDS) কর্মীদের জন্য একাধিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের প্রস্তাব রাখলেন তিনি। কেবল মাসিক সাম্মানিক বৃদ্ধিই নয়, তাঁদের সামাজিক সুরক্ষার দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে রাজ্য সরকার (West Bengal Budget)।
‘আশা’ কর্মীদের জন্য বড় উপহার:
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার অন্যতম স্তম্ভ হলেন আশা কর্মীরা। তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে একগুচ্ছ সুযোগ-সুবিধার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী (West Bengal Budget):
সাম্মানিক বৃদ্ধি: আগামী ১লা এপ্রিল, ২০২৬ থেকে আশা কর্মীদের মাসিক সাম্মানিক ১,০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
মাতৃত্বকালীন ছুটি: এবার থেকে অন্য মহিলা সরকারি কর্মীদের মতোই আশা কর্মীরাও ১৮০ দিনের সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন।
বিমা ও সুরক্ষা: কর্মরত অবস্থায় কোনো কর্মীর মৃত্যু হলে, তাঁর পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।
বাজেট বরাদ্দ: এই প্রকল্পের জন্য আগামী অর্থবর্ষে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য সুখবর (West Bengal Budget):
শিশুদের পুষ্টি ও প্রাক-শৈশবকালীন যত্নে আইসিডিএস (ICDS) কর্মীদের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁদের জন্য অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা:
ভাতা বৃদ্ধি: অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়কদের মাসিক সাম্মানিক এপ্রিল ২০২৬ থেকে ১,০০০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে।
পরিবারকে সুরক্ষা: কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের নিকট পরিবারকেও এককালীন ৫ লক্ষ টাকা সাহায্য দেওয়া হবে।
বাজেট বরাদ্দ: এই খাতের জন্য রাজ্য বাজেটে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বাজেট পেশের সময় চন্দ্রীমা ভট্টাচার্য বলেন, “আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা রাজ্যে প্রাথমিক শৈশবকালীন যত্ন এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত পরিষেবা দিয়ে থাকেন। তাঁদের এই অক্লান্ত পরিশ্রমকে সম্মান জানাতে এবং তাঁদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমাতে আমাদের সরকার এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে (West Bengal Budget)।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হতে চলা এই সিদ্ধান্তগুলি রাজ্যের কয়েক লক্ষ মহিলা কর্মীকে স্বস্তি দেবে। বিশেষ করে আশা কর্মীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির ঘোষণা এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।