ad
ad

Breaking News

Mamata Banerjee

কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে, দেশের পাশে থাকার বার্তা মমতার

কেন্দ্রীয় গাইডলাইনে কি কি বর্ণিত আছে এবং রাজ্য সরকার কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তার পাশাপাশি রাজ্যের গোটা পরিস্থিতি নিয়ে হিন্দির সঙ্গে আলোচনা দায়িত্ব পালন করবেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ।

We have to fight shoulder to shoulder, Mamata's message to stand by the country

চিত্র: সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: জয় চক্রবর্তী: দেশকে ভালোবেসে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কেন্দ্র যে গাইডলাইন প্রকাশ করেছে তা অনুযায়ী চলবে রাজ্য সরকার। আতঙ্ক নয় বরং সতর্ক ও সংযত থেকে যারা দেশের হয়ে লড়াই করছেন তাদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিজস্ব চিত্র

বুধবার রাজ্যের মুখ্য প্রশাসনিক ভবন নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক সম্মেলনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আহবানে বিশেষ বৈঠকে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, দেশের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি অনুযায়ী রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় আধিকারিক কর্মীদের সমস্ত ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

নিজস্ব চিত্র

পাশাপাশি রাজ্যের ইংরেজি মাধ্যম ও বেসরকারি স্কুলগুলোকে আসন্ন রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন থেকে গরমের ছুটি ঘোষণা করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি অনুযায়ী এখন স্কুল ছুটি রাখা বাঞ্ছনীয়। বাচ্চারা বাড়ি থেকেই পড়াশোনা করুক সুস্থ থাকুক, ভালো থাকুক।” বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডাকে যে দশটি সীমান্তবর্তী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক হয়।

নিজস্ব চিত্র

বৈঠক শেষের পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দেশের স্বার্থে কোন বিভেদ বা প্ররোচনায় পা না দিয়ে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলতে হবে। দেশে যখন যুদ্ধ-যুদ্ধ পরিস্থিতি তখন মিডিয়ার কি করনীয় সেটাও স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সমাজ মাধ্যম হোক বা ডিজিটাল মিডিয়া অথবা মেইনস্ট্রিম মিডিয়া মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াবে অথবা বিভেদ তৈরি করবে এ ধরনের কোন সংবাদ প্রচার করা যাবে না।

নিজস্ব চিত্র

নিজে থেকে কোন খবর তৈরি না করে, না জেনে কোন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয় সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধ সংক্রান্ত যে ডিবেট বা বিতর্ক হয় সেগুলো থেকে আপাতত বিরত থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন মমতা। না জেনে বা না বুঝে অনেকে অনেক রকম মন্তব্য করলে তা নিয়ে মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ছড়ায় বা কোন গন্ডগোল সৃষ্টি হতে পারে।

নিজস্ব চিত্র

এই ধরনের কোন পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজ্য সরকার যে তার দায় নেবে না সেটাও স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই এই পরিস্থিতিতে কি করতে হবে তা নিয়ে গাইডলাইন প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন ” সমাজমাধ্যম থেকে ডিজিটাল মিডিয়া অথবা মেইন স্টিম মিডিয়ায় এই ধরনের পরিস্থিতিতে কি কি করতে হবে তা ওই গাইডলাইনে যেমন বলা আছে তেমনি এর অন্যথা হলে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটাও উল্লেখ করা আছে।”

নিজস্ব চিত্র

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই কেন্দ্রীয় গাইডলাইন যে অক্ষরে অক্ষরে মানা হবে সেটাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, ” এটি একটি বিশেষ সময়। এই সময় গোপনীয়তা রক্ষার সময়। তাই গোপনীয়তা বজায় রেখে শান্ত সংযত ও সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে দেশের স্বার্থে দেশের হয়ে যারা লড়াই করছেন তাদের পাশে থাকতে হবে।”

নিজস্ব চিত্র

দেশ রক্ষার লড়াইতে বাংলার অবদান কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ” আমরা দেশকে ভালবাসি। দেশের জন্য এই বাংলা অনেক রক্ত দিয়েছে প্রাণ বলিদান দিয়েছে। সকলে সতর্ক থাকুন, সংযত থাকুন।” দেশ ও রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগকারী বা নোডাল অফিসার হিসেবে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

নিজস্ব চিত্র

[আরও পড়ুন: মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকেও নজরকাড়া কৃতিত্ব রূপায়ণের]

কেন্দ্রীয় গাইডলাইনে কি কি বর্ণিত আছে এবং রাজ্য সরকার কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তার পাশাপাশি রাজ্যের গোটা পরিস্থিতি নিয়ে হিন্দির সঙ্গে আলোচনা দায়িত্ব পালন করবেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ।

নিজস্ব চিত্র

পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান আগামীকালই রাজ্য কৃষি বিপণন দপ্তরের সঙ্গে জরুরী বৈঠক ডাকা হয়েছে দেশে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সেই অবস্থা সুযোগ নিয়ে যাতে রাজ্যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফাটকা কারবার বা কালোবাজারি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে ওই বৈঠকে।