ad
ad

Breaking News

Kalighat Tmc dharna

সোনাম ওয়াংচুকের সমর্থনে এবার বিধানসভায় মমতার শিবির! আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ধরনায় কুণাল-শোভনদেবরা

ধরনা মঞ্চ থেকে ওয়াংচুকের দাবি নিয়ে নীরব থাকার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন নেতারা

Kalighat Tmc dharna TMC Leaders Stage Assembly Dharna

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে সামনে রেখে রাজ্যে কেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনের পারদ চড়াতে উদ্যোগী হল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। শুক্রবার বিধানসভা চত্বরে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে তাঁর সমর্থনে ধরনায় বসেন দলের কয়েকজন নেতা। ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, খালিফা আহমেদ, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অশোক দেব-সহ তৃণমূলের সাত-আটজন নেতা। কয়েক দিন আগেই সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সরাসরি বিধানসভা চত্বরে কর্মসূচি করল তৃণমূলের কালীঘাট শিবির। ধরনা মঞ্চ থেকে ওয়াংচুকের দাবি নিয়ে নীরব থাকার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন নেতারা।

এদিন বিধানসভার অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তুলতে চেয়েছিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বিধানসভা বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। বর্তমানে সোনম ওয়াংচুক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে লাগাতার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি এক মন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন। শোভনদেবের বক্তব্য, সোনম কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন এবং দেশের কোনও দলের সঙ্গেই তাঁর সরাসরি যোগ নেই। পরিবেশ ও শিক্ষা নিয়ে আন্দোলন করা এমন একজন মানুষের স্বাস্থ্যের কোনও বড় ক্ষতি হলে তা গোটা দেশের জন্যই দুর্ভাগ্যজনক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।কেন্দ্রকে নিশানা করে শোভনদেব বলেন, ওয়াংচুকের পাশে সাধারণ মানুষ ও বিরোধীরা দাঁড়ালেও যাদের সবার আগে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন ছিল, সেই কেন্দ্রীয় সরকার এখনও কার্যত নীরব। তাঁর দাবি, অবিলম্বে আন্দোলনকারীর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ অনশনের কারণে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই তাঁর আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং নেত্রীর নির্দেশে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছে। কুণালের দাবি, শুধু চিকিৎসকদের দল পাঠালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ওয়াংচুকের দাবি ও উত্থাপিত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার জন্য কেন্দ্রকে দ্রুত একটি সরকারি প্রতিনিধি দল পাঠাতে হবে। সমস্যার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমাধানে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার দাবিও জানান তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সোনম ওয়াংচুকের মতো অরাজনৈতিক আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে একদিকে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে জনবিরোধী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে তৃণমূল, অন্যদিকে রাজ্যের রাজনীতিতেও নতুন করে কেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনের পরিসর তৈরি করার চেষ্টা করছে কালীঘাট শিবির।