চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মঙ্গলবার মালদহের ফারাক্কা, বুধবার উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া— এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে পর পর দু’দিন অশান্তির ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। দুই জায়গাতেই বিডিও অফিসে ভাঙচুর ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ ওঠায় নির্বাচনী কাজে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সরাসরি রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে কথা বলেন। একের পর এক হামলার ঘটনায় এসআইআর-এর কাজ ব্যাহত হবে কি না, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে সিইও স্পষ্ট জানান, “কাজ বন্ধ হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যসচিব ও ডিজির সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা করা হবে বলে তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন।” নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, চাকুলিয়ার ঘটনার পর উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের ও গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের আশঙ্কা, বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ফলে এসআইআর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।ফারাক্কার ঘটনার প্রসঙ্গে সিইও জানান, সেখানে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। “পুলিশ আদালতের কাছে দায়বদ্ধ,” মন্তব্য তাঁর। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ‘হয়রানি’র অভিযোগও নাকচ করেছেন সিইও। তাঁর দাবি, শুনানি ও লিখিত আদেশ ছাড়া কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে না। কারও নাম বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিতভাবে জানানো হবে। পাশাপাশি আপত্তি জানানোর দু’টি সুযোগ থাকবে, একবার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে এবং দ্বিতীয়বার রাজ্যের সিইও-র কাছে।ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার প্রচারকে ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে সিইও বলেন, “যথাযথ নথি থাকলে কারও নাম বাদ যাবে না।” তিনি জানান, এসআইআর প্রক্রিয়া গত দু’তিন মাস ধরেই চলছে এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার নজরুল মঞ্চে নতুন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সিইও জানান, শুনানির সংখ্যা বাড়ায় আরও প্রায় ১৫০০ AERO নিয়োগ করা হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়। তাঁরা মাইক্রো অবজারভারদের সঙ্গে কাজ করবেন। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব থাকবে রাজ্য পুলিশের হাতে, মাইক্রো অবজারভাররা শুধুমাত্র প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবেন।বুধবার মালদহের ফারাক্কায় বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে শাসকদলের একাংশের বিরুদ্ধে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার চাকুলিয়ায় একই ছবি দেখা যায়। বিক্ষোভ সামলাতে গিয়ে পুলিশকর্মীরা আক্রান্ত হন। ইটের আঘাতে চাকুলিয়া থানার আইসির মাথা ফেটে যায়। অভিযোগ, বিডিও অফিসের ভিতরে ঢুকে এসআইআর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিও তছনছ করা হয়।