চিত্র- নিজস্ব
Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার বড় ধরনের সংকটের মুখে টলিউড তথা বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। বুধবার বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, আগামী দিনে টলিউডের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্বে থাকবে কেবল ‘কো-ফেডারেশন’ এবং পূর্বতন ২৬টি গিল্ডের আর কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। এমনকি পুরনো গিল্ডগুলির বেশ কয়েকজন সদস্যকে ‘ব্যান’ বা বহিষ্কার করার কথাও জানান তিনি। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে টালিগঞ্জে এক প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন ক্ষুব্ধ কলাকুশলীরা। আর সেখানেই ঘটল এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনা। সমাবেশ চলাকালীন আন্দোলনকারী টেকনিশিয়ানদের লক্ষ্য করে আচমকা উড়ে এলো ডিম, ইট এবং পাথরের টুকরো। এই হামলায় বেশ কয়েকজন কলাকুশলী-সহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অল্পবিস্তর আহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে এই হামলার বিবরণ দিয়ে প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ডের সদস্য অভিজিৎ সাহা জানান, “পাপিয়াদির (পাপিয়া অধিকারী) কাছে আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভুল ও মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। আমরা ওঁর সঙ্গে মুখোমুখি বসে বৈঠক করতে চাই। সেই শান্তিপূর্ণ বার্তা দিতেই আজ সকালে টালিগঞ্জের ভরাট মাঠে ২৬টি গিল্ডের কম-বেশি দুই হাজার সদস্য জড়ো হয়েছিলাম। কিন্তু নিজেদের বক্তব্য শুরু করার আগেই একদল বহিরাগত আমাদের ঘিরে ফেলে এবং ডিম-পাথর ছুড়তে শুরু করে।”
অভিযোগ, গিল্ডের সদস্যরা যখন এই হামলার প্রতিরোধ করতে যান, তখন হামলাকারীরা পাল্টা হুমকি দিয়ে বলে, ‘আমরা পাপিয়াদির লোক!’ আন্দোলনকারীদের দাবি, যারা চড়াও হয়েছিল তাদের সঙ্গে টলিউডের কোনও সম্পর্ক নেই। এমনকি আক্রমণকারীদের মধ্যে বহু মহিলাও ছিলেন, যারা নিজেদের ‘জনতা মহিলা মোর্চা’র সদস্য বলে পরিচয় দেন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রথমে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর সামনে ‘জনতা মহিলা মোর্চা’ ও গিল্ড বহির্ভূতরা অবরোধ করায় কলাকুশলীদের অন্যত্র সমাবেশ করতে হয়। এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ডের সহ-সম্পাদক নিরুপম দে বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পাপিয়া অধিকারীর সঙ্গে কথা বলতে চাই, কিন্তু আমাদের সময় দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে এই সমাবেশে বসতে হয়েছিল। হামলায় হেয়ার ড্রেসার গিল্ডের সদস্য শ্রাবণী গুরুতর জখম হয়েছেন, তাঁকে ভাঙড় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
অভিজিৎ সাহা সতর্ক করে বলেন, “যদি সুপরিকল্পিতভাবে ফেডারেশন ও ২৬টি গিল্ড তুলে দেওয়া হয়, তবে টলিউডের প্রায় ১০ হাজার সাধারণ সদস্যের দৈনিক উপার্জন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। অনাথ হয়ে পড়বে বহু পরিবার।” এই রুটি-রুজির চরম সঙ্কটের সমাধান খুঁজতে এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের আর্জি নিয়ে এদিন বেলা ৩টে নাগাদ সমস্ত গিল্ডের প্রতিনিধিরা আবেদনপত্র হাতে নিয়ে ‘নন্দন’-এর উদ্দেশ্যে রওনা হন। স্টুডিও পাড়ার এই নজিরবিহীন রক্তক্ষয়ী কোন্দল আগামী দিনে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।