ad
ad

Breaking News

Ritabrata Banerjee

এমএলএ হস্টেলে বিদ্রোহীদের মেগা বৈঠক! শিউলি-জাভেদদের উপস্থিতিতে দল ভাঙার ব্লু-প্রিন্ট, চরম সঙ্কটে তৃণমূল

মঙ্গলবারই স্পিকারের কাছে যাচ্ছে ৫০ বিধায়কের চিঠি? তৈরি হচ্ছে ‘প্রকৃত তৃণমূল’, ভাঙন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা!

TMC Rebel MLAs Meeting Ritabrata Banerjee Shiuli Saha

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: সই জাল বিতর্কে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেও স্বস্তিতে নেই তৃণমূল কংগ্রেস। উল্টে সপ্তাহের প্রথম দিনেই দলের অন্দরে অস্বস্তির পারদ চড়ালেন জাভেদ খান ও শিউলি সাহার মতো হেভিওয়েট বিধায়কেরা। সোমবার রাতে কলকাতার এমএলএ হস্টেলে (MLA Hostel) বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের সঙ্গে শিউলি সাহাদের এক অত্যন্ত গোপন ও দীর্ঘ বৈঠক ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রায় ৫০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক আগামী কাল, মঙ্গলবারই বিধানসভার স্পিকারের কাছে এক ঐতিহাসিক চিঠি পাঠাতে চলেছেন। যেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেতা ঘোষণা করে ‘প্রকৃত তৃণমূল’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দাবি জানানো হতে পারে।

জল মাপা শুরু! বাইপাস থেকে এমএলএ হোস্টেল, টানা বৈঠক

রাজনীতির অন্দরের খবর, ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দল থেকে ছাঁটার পরেই আর সময় নষ্ট করতে রাজি নন বিক্ষুব্ধ শিবির। সোমবার প্রথমে বাইপাসের ধারের একটি গোপন আস্তানায় প্রথম দফার বৈঠক হয়। এরপর সন্ধ্যায় নতুন করে রণকৌশল স্থির করতে এমএলএ হস্টেলের একটি ঘরে বৈঠকে বসেন মালদহ, মুর্শিদাবাদের বিক্ষুব্ধ বিধায়কেরা। সেই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে হাজির ছিলেন কট্টর তৃণমূলী হিসেবে পরিচিত জাভেদ খান এবং শিউলি সাহাও। সব মিলিয়ে মোট ১৫-১৬ জন বিধায়কের উপস্থিতিতে এই বৈঠক হয়।

হোস্টেল থেকে বেরনোর সময় জল্পনা আরও উসকে দিয়ে শিউলি সাহা ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, “আমি তো হোস্টেলে নিজের ঘর দেখতে এসেছিলাম। দেখলাম ঋতব্রত-সন্দীপনরা বসে আছে, তাই একটু চা খেয়ে গেলাম। মনে রাখবেন, ওনারা কিন্তু বিধায়ক পদ থেকে বহিষ্কৃত নন, স্রেফ দল থেকে বহিষ্কৃত।” ওঁর এই এক লাইনের মন্তব্যই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, দলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন কতটা ধিকধিক করে জ্বলছে।

“১০ হাজার ঘর চুরি হয়েছে, প্রাণভয়ে মুখ খুলিনি!” বিস্ফোরক ঋতব্রত

অন্য দিকে, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিস্ফোরক বোমা ফাটাতে শুরু করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তৃণমূল জমানার অন্যতম বড় কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস করে তিনি বলেন, “দুর্নীতি নিয়ে আমি যা যা জানি, সমস্ত কিছুর তদন্ত চাইব। উলুবেড়িয়া পুরসভাতেই গরিবের ১০ হাজার ঘর চুরি করা হয়েছে! কোনও টেন্ডার ছাড়াই কোটি কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এত দিন নিজের প্রাণের ভয় ছিল, তাই সরকারে থাকাকালীন মুখ খুলতে পারিনি। এখন তৃণমূল ক্ষমতায় নেই বলেই এই সত্যিগুলো বলতে পারছি। আমি খুব শীঘ্রই নতুন সরকারকে এই সমস্ত দুর্নীতির বিষয়ে লিখিতভাবে জানাব।”

গত রবিবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা পরিষদীয় দলের বৈঠক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের অনুপস্থিতির কারণে ভেস্তে গিয়েছিল। আর সোমবার রাতের এই গোপন বৈঠক প্রমাণ করে দিল যে, তৃণমূলের ভাঙন এখন আর স্রেফ জল্পনা নয়, তা কেবল সময়ের অপেক্ষা।