চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: আইপ্যাক (I-PAC) দফতরে এনফোর্সরমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) অভিযানের প্রতিবাদ এবার আছড়ে পড়ল দেশের রাজধানীতে। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে চরম হেনস্থার মুখে পড়লেন তৃণমূল সাংসদরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ডেরেক ও’ব্রায়েন ও মহুয়া মৈত্রদের মতো হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধিদের কার্যত চ্যাংদোলা করে সরিয়ে দেয় দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনায় সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (TMC MPs Detained)।
অভিষেক তৃণমূলের পোস্ট রিপোস্ট করে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “গণতন্ত্র আজ দণ্ডিত। অপরাধীরা পুরস্কৃত। কেন্দ্রীয় সংস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনকে করা হচ্ছে কলুষিত। বিক্ষোভকারীদের পাঠাও জেলে। ধর্ষকদের দাও জামিন। এটাই বিজেপির নয়া ভারতের রূপ। দেশের বাকি অংশকে হয়তো আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হতে পারে, কিন্তু বাংলা প্রতিরোধ গড়বেই। আমরা দাঁতে দাঁত চেপে লড়ব এবং আপনাদের পরাজিত করবই— আপনারা যত শক্তিই প্রয়োগ করুন না কেন।”
Democracy is punished.
Criminals are rewarded.
Agencies are weaponised.
Elections are manipulated.JAIL the PROTESTERS.
BAIL the RAPISTS.This is BJP’s version of New India.
Even if the rest of the country is forced to surrender,
Bengal will resist.We will fight you tooth… https://t.co/YH8oAxuUnn
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) January 9, 2026
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ দিল্লির কর্তব্য পথের ১ নম্বর গেট অর্থাৎ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রবেশপথের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন আটজন তৃণমূল সাংসদ। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র, সাকেত গোখলে ও মমতা ঠাকুরের মতো দলের প্রথম সারির নেতারা। তাঁদের হাতে থাকা পোস্টারে লেখা ছিল— ‘একদিকে ইডি-বিজেপি, অন্যদিকে বাংলার জনতা’। সাংসদদের অভিযোগ, অমিত শাহের নির্দেশেই তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল সংক্রান্ত নথি ‘চুরি’ করতে ইডি অভিযান চালিয়েছে (TMC MPs Detained)।
সাংসদরা ধরনায় বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে পৌঁছয়। নিরাপত্তার অজুহাতে তাঁদের সরে যেতে বলা হলে শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ। বচসা চলাকালীনই দিল্লি পুলিশ সাংসদদের জোর করে সরানোর চেষ্টা করে। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। মহিলা সাংসদদেরও রেয়াত করা হয়নি বলে অভিযোগ। শতাব্দী রায় ও মমতা ঠাকুরদের মতো সাংসদদের কার্যত চ্যাংদোলা করে এবং টেনে-হিঁচড়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকারী সব সাংসদকেই পুলিশ আটক করেছে।
দিল্লির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সামাজিক মাধ্যমে দলের পক্ষ থেকে সরাসরি অমিত শাহকে বিঁধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “এ কেমন অহংকার, @AmitShah? গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করতে আপনি এখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানোর জন্য দিল্লি পুলিশকে ব্যবহার করছেন? আপনার জমানার ভারতে এভাবেই কি ভিন্নমত দমন করা হয়? স্বীকার করে নিন, আপনি আতঙ্কিত! প্রথমে ইডি-র নির্লজ্জ অপব্যবহার, আর এখন আমাদের আটজন সাংসদের শান্তিপূর্ণ ধর্নার ওপর এই আক্রমণ। আপনাদের এই মরিয়া ভাবই বুঝিয়ে দিচ্ছে আপনারা কতটা ভীত। আপনি গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু বাংলা মাথা নত করবে না। আপনার এবং আপনার পুলিশের জন্য ধিক্কার! যতই করো হামলা আবার জিতবে বাংলা!”
কলকাতায় যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রাজপথে নামছেন, ঠিক সেই সময়ে দিল্লিতে সাংসদদের এই আটক হওয়ার ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতকে এক নজিরবিহীন উচ্চতায় নিয়ে গেল (TMC MPs Detained)।