চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই দিকে দিকে শুরু হয়েছে বেআইনি দখলদারি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে কড়া অভিযান। আর সেই আবহেই এবার খাস সল্টলেকে এক চরম নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনার সম্মুখীন হলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার ও তাঁর পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে সল্টলেকের একটি ফ্ল্যাট জোরপূর্বক দখল করে রাখা এবং বাড়ি ছাড়তে অস্বীকার করার অভিযোগে দুই পক্ষের তুমুল বিবাদ চরম রূপ নিল। বচসা চলাকালীন আচমকাই জয়প্রকাশ মজুমদারের স্ত্রীকে সপাটে চড় মারলেন ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী! আর এই গোটা মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেক এলাকার একটি অভিজাত ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে ভাড়া থাকেন তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা। ফ্ল্যাটের মালিকের অভিযোগ, গত ১৪ বছর ধরে নামমাত্র ভাড়া দিয়ে ওই ফ্ল্যাটটি কার্যত আটকে রেখেছেন জয়প্রকাশ মজুমদার। বারংবার ফ্ল্যাট খালি করে দেওয়ার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও, নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি ঘর ছাড়ছিলেন না।
সম্প্রতি এই দখলদারি থেকে নিজেদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন ফ্ল্যাটের আসল মালিক। শনিবার তাঁর স্ত্রী বেশ কিছু লোকজন নিয়ে সরাসরি ওই ফ্ল্যাটে চড়াও হন এবং ঘর খালি করার দাবি জানান। সেই সময়ই জয়প্রকাশের পরিবারের সঙ্গে তাঁদের তুমুল বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ঘরের ভেতরের একটি সোফায় বসে রয়েছেন জয়প্রকাশ মজুমদারের স্ত্রী। সেই সময় ফ্ল্যাটের মালকিন চরম উত্তেজিত অবস্থায় বাম হাত দিয়ে সপাটে তাঁর গালে একটি চড় মারেন। এই আকস্মিক হামলায় স্তম্ভিত হয়ে যান সকলে। ঠিক তার পরের মুহূর্তেই নিজের মাকে বাঁচাতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মাঝখানে ঝাঁপিয়ে পড়েন জয়প্রকাশের পুত্র। বাড়িওয়ালার একটাই স্পষ্ট দাবি, রাজনৈতিক ক্ষমতার দিন শেষ, তাঁদের অবিলম্বে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। তবে এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও মানহানিকর ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে এখনও পর্যন্ত একটি শব্দও খরচ করতে চাননি স্বয়ং জয়প্রকাশ মজুমদার।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পর থেকেই বেআইনি নির্মাণ এবং জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বেই একাধিক জায়গায় বেআইনিভাবে দখল করে রাখা তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ও নেতা-মন্ত্রীদের অবৈধ সম্পত্তি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ দেখেই এতদিন ভয়ে সিঁটিয়ে থাকা সাধারণ বাড়ির মালিকেরা এখন নিজেদের সম্পত্তি ফেরত পেতে সাহস পাচ্ছেন। আর সেই সাহসের জেরেই সল্টলেকের এই হাইপ্রোফাইল ফ্ল্যাট পুনরুদ্ধার মামলাটি এভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় চড়-থাপ্পড়ের রূপ নিল।