চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাড়ি দখল এবং ভাড়া না দেওয়ার অভিযোগে আটক করা হল তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারকে। বুধবার দুপুরে সল্টলেক এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সল্টলেকের একটি বাড়ি দখল করে রাখার পাশাপাশি ভাড়া চাইতে গেলে বাড়ির মালিকপক্ষকে হুমকি দেওয়া হত। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই বুধবার দুপুরে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালে সল্টলেকের ওই ব্লকের ৩৩৭ নম্বর বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। নামমাত্র ভাড়ায় সপরিবারে সেখানে থাকতেন তিনি বলে দাবি বাড়ির মালিকপক্ষের। তাঁদের অভিযোগ, বহুবার বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে উল্টে হুমকি দেওয়া হত। এমনকি বকেয়া ভাড়া চাইতে গেলেও তৃণমূল নেতার তরফে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার ফ্ল্যাটে তালা লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে বিবাদ বাঁধে। এরপরই এলাকাবাসীরা জয়প্রকাশ মজুমদারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁর গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনাস্থলে ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠতে থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, গাড়ির ভিতরেই তাঁকে বসে থাকতে দেখা যায়। জয়প্রকাশ মৌখিকভাবে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও স্থানীয়রা তা মানতে চাননি বলে জানা গিয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। উত্তেজনা সামাল দিতে পুলিশ জয়প্রকাশ মজুমদারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বাড়ি দখল, হুমকি এবং হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাড়ির মূল মালিকের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বাড়ির মালিক তাঁর স্ত্রী। কয়েক দিন আগে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি পুনরুদ্ধার করতে গেলে বচসা বাধে। সেই সময় জয়প্রকাশ মজুমদারের স্ত্রীকে চড় মারার একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তার পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি ছিল। বুধবার সেই উত্তেজনাই প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হয়।
ঘটনাকে ঘিরে সল্টলেক এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বাড়ির মালিকপক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা হয়রানির শিকার। অন্যদিকে, ঘটনার আইনি দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে পুলিশ।