চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: একুশে জুলাইয়ের আগে আরও শক্তি বাড়াল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল শিবির। শুক্রবার ওই শিবিরে যোগ দিলেন বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস। তাঁর সঙ্গে রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক এবং বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তাপস চট্টোপাধ্যায়ও নতুন শিবিরে নাম লেখান। এদিন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে যান বিশ্বজিৎ দাস। সেখানে ঋতব্রতের পাশাপাশি আখরুজ্জামান আনসারির সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়েই ঋতব্রত শিবিরে বিশ্বজিতের যোগদান কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
দলবদলের রাজনীতিতে বিশ্বজিৎ দাস পরিচিত মুখ। প্রায় সাত বছর আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাগদা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। তার আগে ২০১১ ও ২০১৬ সালে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন বিশ্বজিৎ। তবে বিজেপির বিধায়ক হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের দূরত্ব বাড়ে। ২০২১ সালেই বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। পরে দল তাঁকে ফের গ্রহণ করে এবং বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাগদার বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেন বিশ্বজিৎ।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে ফের বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। যদিও বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়ার কাছে তিনি পরাজিত হন। বর্তমানে অশোক কীর্তনিয়া রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী। নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে বিশ্বজিৎকে সক্রিয় রাজনীতিতে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। শুক্রবার আচমকাই বিধানসভায় তাঁর উপস্থিতি এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে। যদিও সরাসরি দলবদলের কথা স্বীকার করেননি বিশ্বজিৎ। তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় একজন ভালো বক্তা। তাঁর বক্তব্য শুনতে আমার ভালো লাগে। তাই আজ দেখা করতে এসেছিলাম।”