চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই কলকাতা পুরসভার (KMC) একের পর এক জোড়াফুল শিবিরের কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন। বুধবার রাতে বড়বাজার থানার পুলিশের হাতে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহেশ কুমার শর্মার গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই, বৃহস্পতিবার ফের এক হেভিওয়েট তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত এই প্রভাবশালী নেতার নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডল। তিনি কলকাতা পুরসভার ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের টানা তিনবারের কাউন্সিলর এবং এলাকায় প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের অত্যন্ত ‘ঘনিষ্ঠ’ ও প্রভাবশালী অনুগামী হিসেবেই পরিচিত। স্থানীয় রিজেন্ট পার্ক থানায় এক মহিলার দায়ের করা শ্লীলতাহানি ও মারাত্মক হুমকির অভিযোগের ভিত্তিতেই আজ পুলিশ এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী ওই মহিলা রিজেন্ট পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগে জানান যে, গত ২০২৪ সালেও এই বিশ্বজিৎ মণ্ডল একইভাবে তাঁর শ্লীলতাহানি করেছিলেন। কিন্তু সে সময় রাজনৈতিক দাপটের কারণে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। এরপর চলতি মাসের ৯ তারিখ ফের ওই মহিলাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে শ্লীলতাহানি করেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর এবং মুখ বন্ধ রাখার জন্য প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলাতেই আর সময় নষ্ট না করে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই নির্যাতিতা। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই ঘটনার গুরুত্ব খতিয়ে দেখে তদন্তে নামে পুলিশ এবং বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলরকে পাকড়াও করে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার আসার পর কলকাতা পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের যেভাবে একের পর এক দুর্নীতি ও অপরাধের খতিয়ান সামনে আসছে, তাতে কার্যত ধসে পড়েছে ঘাসফুল শিবিরের দাপট। বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে নিয়ে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কলকাতা পুরসভার মোট ৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলর শ্রীঘরে ঢুকলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ মে তোলাবাজির অভিযোগে ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লেকে প্রথম গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর একে একে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের শচীন সিং, ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের অরিজিৎ দাস এবং বুধবার রাতে প্রতারণা ও জোর করে টাকা আদায়ের (তোলাবাজি) পুরনো মামলায় ধরা পড়েন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশ কুমার শর্মা। আর বৃহস্পতিবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো অরূপ-ঘনিষ্ঠ বিশ্বজিৎ মণ্ডলের নাম। একের পর এক কাউন্সিলরের এই হাজতবাস ছাব্বিশের কলকাতায় তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে যে চরম খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।