চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ—কালো তালিকাভুক্ত অভিযুক্তদের জন্য পরীক্ষার দরজা চিরতরে বন্ধ। যাঁদের নাম দাগি তালিকায়, তাঁরা আর কোনওভাবেই নতুন করে পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। আদালতের এই রায় চাকরি হারানো হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার সামনে অনিশ্চয়তার মেঘ আরও ঘন করল। কিন্তু শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে সেই পরিস্থিতিতেই আশার সুর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার, ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে ‘শিক্ষারত্ন’ সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি জানান, চাকরি হারানোদের বিকল্প সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “যাঁদের শিক্ষকতার চাকরি চলে গিয়েছে, তাঁরা গ্রুপ সি-তে সুযোগ পেতে পারেন কি না, তা নিয়ে আমরা আইনি পরামর্শ নিচ্ছি। আমি কাউকে হতাশ হতে বলব না। বিষয়টি আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি (Teacher Scam Verdict)।”
গ্রুপ সি-তে সুযোগ পাবেন ‘অযোগ্য’রা! শিক্ষক দিবসে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? pic.twitter.com/3sVsE6EM58
— Bangla Jago Tv (@BanglaJagotv) September 4, 2025
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বর্তমানে ৫৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫,৭২৬টি পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে, আর বাকি প্রায় ২১ হাজার নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও হাতে। তবে নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া আদালতের জটিলতায় আটকে যাচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। নাম না করে বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর কটাক্ষ, “আমরা নিয়োগ করতে গেলেই কেউ না কেউ কোর্টে গিয়ে স্টে করিয়ে দেয়। এক মুহূর্তে স্টে হয়ে যায়, অথচ হাজার হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ ঝুলে থাকে।” চাকরি হারানোদের মধ্যে যাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ নেই, তাঁদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলেও এদিন জানান মমতা। তাঁদের ক্ষেত্রে বয়সে ছাড়ের পাশাপাশি অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন সুযোগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে (Teacher Scam Verdict)।
Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial
তবে যাঁরা কোনওভাবেই শিক্ষক হিসেবে ফিরতে পারবেন না, তাঁদের জন্যও বিকল্প রাস্তা ভাবা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গ্রুপ সি-তে সুযোগ দেওয়া সম্ভব কি না, তা আইন মেনেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” শিক্ষারত্ন সম্মানপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল আলাদা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান দিলেই হবে না, ছাত্রছাত্রীদের নৈতিকতা আর মূল্যবোধও শেখাতে হবে। তাহলেই আগামী প্রজন্ম সঠিক পথে এগোবে।” আদালতের রায়, নিয়োগ বাতিল, নতুন চাকরির অনিশ্চয়তা, এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের আশ্বাস অনেককেই খানিকটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া পেরিয়ে সেই আশ্বাস বাস্তবে কতটা রূপ নেবে, তার উত্তর দেবে সময়ই (Teacher Scam Verdict)।