ad
ad

Breaking News

টি বোর্ড ইন্ডিয়া র উদ্যোগে চায়ের স্বাদ মান নির্ধারণের দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম

এগ্রিকালচার স্কিল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় এই পাঠ্যক্রম তৈরি হয়েছে।

tea-board-india-launches-ncvet-approved-tea-sommelier-course

চিত্রঃ নিজস্ব

রাহুল চট্টোপাধ্যায়:টি বোর্ড ইন্ডিয়া কার্শিয়াং-এর দার্জিলিং টি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে এনসিভিইটি অনুমোদিত চা স্বাদ ও মান নির্ধারণের দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম শুরু করল। দেশের চা শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য, পেশাদার চা-এর স্বাদ ও মান নির্ধারণ এবং ‘টি সোমেলিয়ের’বা ‘চা পরীক্ষক’ তৈরি করা। তাঁরা চায়ের গুণমান উন্নয়ন, চা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, মূল্য সংযোজন, ব্র্যান্ড গড়ে তোলা এবং ভারতীয় চা-এর বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা নেবেন। পাশাপাশি, যুবসমাজের মধ্যে চা সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এগ্রিকালচার স্কিল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় এই পাঠ্যক্রম তৈরি হয়েছে। এ এস সি আই কেন্দ্রীয় দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রকের অধীন জাতীয় বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ স্বীকৃত একটি সংস্থা। দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ গড়ে তোলার কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করা হয়েছে।
বাণিজ্য বিভাগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রক, বিষয় সম্পরূকিত বিশেষজ্ঞ এবং চা শিল্পের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি ৬০ ঘণ্টা এবং ২১০ ঘণ্টার দুটি পাঠ্যক্রম তৈরি করেছে। এগুলি জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ এবং জাতীয় দক্ষতা যোগ্যতা কাঠামো অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
প্রথম ব্যাচে ‘এসেনশিয়ালস অফ টি সোমেলিয়ের’ নামে ৬০ ঘণ্টার শংসাপত্র পাঠ্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে চা সম্পর্কে ধারণা, পেশাদারভাবে চা স্বাদ নির্ধারণ, চা ব্লেন্ডিং এবং আধুনিক চা চর্চা শেখানো হবে।
এই উপলক্ষে টি বোর্ড ইন্ডিয়ার ডেপুটি চেয়ারম্যান সি. মুরুগান, আইএএস বলেন, এই উদ্যোগ চা শিল্পে দক্ষ কর্মী সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে চায়ের গুণমান উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিকভাবে স্বাদ নির্ধারণ, গুণমান যাচাই ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
এই পাঠ্যক্রমে চা চাষ, উৎপাদন, পেশাদারভাবে চা স্বাদ নির্ধারণ, গুণমান মূল্যায়ন, চা-এর গ্রেড নির্ধারণ, ব্লেন্ডিং, চা পরিবেশনের নিয়ম এবং শিল্পের প্রচলিত পদ্ধতি সম্পর্কে শ্রেণীকক্ষের পাঠ, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হবে।
পাঠ্যক্রম সফলভাবে সম্পূর্ণ করার পর প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা চায়ের গুণমান মূল্যায়ন, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, চা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভারতীয় চায়ের প্রতি ভোক্তাদের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবেন।
টি বোর্ড ইন্ডিয়া চা শিল্পে উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উৎকর্ষ বৃদ্ধির পাশাপাশি, নতুন প্রজন্মের চা পেশাদারদের জন্য সুস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং বিশ্বের উৎকৃষ্ট মানের চা উৎপাদনে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।