চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের তিনতলার ছাদ ঢালাইয়ের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোডাউনের ছাদ। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান বহু শ্রমিক। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে উদ্ধার করা হলেও এখনও ভিতরে বহু শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে সেনাকেও। আনা হয়েছে গ্যাসকাটার, ক্রেন এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে জোরকদমে। বিপর্যয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এবং অগ্নিমিত্রা পাল। পৌঁছন বিধায়ক রাকেশ সিং, পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরাও। ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, দমকল, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে। সেনাও উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের প্রথম লক্ষ্য প্রাণগুলোকে বাঁচানো। দ্রুত গতিতে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।”

জানা গিয়েছে, বন্দরের জমিতে ওই চায়ের গুদামটি তৈরি হচ্ছিল। বুধবার তিনতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই নির্মীয়মাণ অংশ ভেঙে পড়ে। নিচে কাজ করা শ্রমিকরা চাপা পড়ে যান। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ভিতরে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা। রাকেশ সিংয়ের দাবি, দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও চূড়ান্ত সংখ্যা স্পষ্ট করা হয়নি। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে আটকে পড়া শ্রমিকদের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বাইরে থেকে তাঁদের নাম ধরে ডেকে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। কার কোথায় অবস্থান, কে সাড়া দিচ্ছেন—সবকিছু বুঝে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। এদিকে দুর্ঘটনার পর নবান্নের তরফে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সাহায্যের জন্য চালু করা হয়েছে কয়েকটি নম্বর—১০৭০, ৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩ ২২১৪৩৫২৬ এবং ০৩৩ ২২৫৩৫১৮৫। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছতে শুরু করেছেন। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ গোটা ঘটনার জন্য নির্মাণে গাফিলতি এবং দুর্নীতিকে দায়ী করছেন। তাঁদের অভিযোগ, বেআইনিভাবে গোডাউনটি তৈরি করা হচ্ছিল। কাটমানির বিনিময়ে এমন ব্যক্তিকে নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছিল, যার এই ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা ছিল না। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁও অভিযোগ করেন, তৃণমূল আমলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এই গোডাউন তৈরি করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের দাবি, এই নির্মাণ নিয়ে আগেই পোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কীভাবে অনুমতি মিলল, নির্মাণে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না এবং কারা এই কাজে যুক্ত ছিল—সবই তদন্তের দাবি উঠছে।