চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বঙ্গে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর থেকেই রাজ্যের প্রতিটি দফতরে দুর্নীতি ও মাফিয়ারাজ দমনে কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। এবার খোদ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ‘কলকাতা বন্দর’ (শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী পোর্ট)-কে মাফিয়ামুক্ত করতে এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত বড়ো পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের প্রচ্ছন্ন মদতে এবং দলেরই একশ্রেণির কাউন্সিলরের নেতৃত্বে কলকাতা বন্দর এলাকায় এক ভয়ানক তোলাবাজি ও মাফিয়ারাজ চলত, যা দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে পর্যন্ত বিঘ্নিত করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া সুরে জানান, ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক কারণে পূর্ব ভারতে কলকাতা বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল আশ্রিত মাফিয়াদের দাপটের জেরে এই বন্দর এলাকা দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল। মাঝেমধ্যেই বিদেশি জাহাজ থেকে মাদক এবং অন্যান্য অবৈধ জিনিসপত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটত।
শুভেন্দুর অভিযোগ, “এখানে তৃণমূলের আমলে রীতিমতো সিন্ডিকেট ও মাফিয়ারাজ চলত। চোরাপথে বিদেশি পণ্য ও মাদক পাচারের পাশাপাশি সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বা রেভিনিউ ক্ষতি করা হত। এমনকি এই মাফিয়ারা পরোক্ষভাবে দেশবিরোধী শক্তি ও বিদেশি গুপ্তচরদেরও মদত দিত বলে অভিযোগ উঠেছে।” প্রসঙ্গত, অতীতে এই বন্দর এলাকা থেকেই পাক গুপ্তচর সংস্থা ‘আইএসআই’ (ISI)-এর এজেন্টও গ্রেফতার হয়েছে, যা বন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এতদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআইএসএফ (CISF) এবং রাজ্য পুলিশের (কলকাতা পুলিশ) মধ্যে কোনও সমন্বয় ছিল না। দুটি বাহিনী যেন উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মতো অবস্থান করত, আর সেই সুযোগটাই নিত মাফিয়ারা। এই রেভিনিউ লিকেজ এবং বেআইনি ক্রিয়াকলাপের স্থায়ী অবসান ঘটাতে এবার বড়ো মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে শুভেন্দু প্রশাসন।
এখন থেকে প্রতি মাসে কলকাতা পুরনিগম, বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, সিআইএসএফ, কলকাতা পুলিশ এবং ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শীর্ষ স্তরের গোয়েন্দা বিভাগের (Intelligence Bureau) কর্তারা একযোগে টেবিলে বসবেন। এই সমন্বয় কমিটির নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে বন্দর এলাকার প্রতি ইঞ্চি জবরদখল ও অবৈধ কারবারকে সমূলে উপড়ে ফেলা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর কলকাতা বন্দর এলাকায় দীর্ঘদিনের ‘সিন্ডিকেট রাজ’ যে এবার সত্যিই খাদের কিনারায়, তা বলাই বাহুল্য।