চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে ২.৫ কোটি টাকা প্রতারণার এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপি কর্মী এবং আরএসএস সদস্য অনিমেশ গিরি এই অভিযোগ তুলে বিজেপির রাজ্য সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রেল, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সাংসদ কোটায় সরকারি বা সরকার-সংশ্লিষ্ট চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বিপুল অর্থ নিয়েছিলেন। সেই অভিযোগ পত্র সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছে তৃণমূল (Suvendu Adhikari)।
শাসক দলের পোস্টে লেখা, “শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটাই বিজেপি এবং তাদের ‘বাংলা-বিরোধী’ মডেলের আসল রূপ: টাকা লুঠ করো এবং তারপর নিজেদের লোকেদের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করো। পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপি কর্মী এবং আরএসএস সদস্য অনিমেশ গিরি বিজেপির রাজ্য সভাপতির কাছে যে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন, তাতে এক সুসংগঠিত প্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।”
What @SuvenduWB has been accused of is not an aberration. It is the @BJP4India and Bangla Birodhi model in action: loot money and then betray your own.
A written complaint submitted to the West Bengal State President of the BJP by Animesh Giri, a BJP worker and RSS member from… pic.twitter.com/3pIdzKNrOM
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) December 14, 2025
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, “উপকার করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে এটি এমন কোনও নিছক ঘটনা নয়; বরং দেখে মনে হচ্ছে, এটি একেবারে শীর্ষ স্তর থেকে পরিচালিত ‘টাকার বিনিময়ে চাকরি’র এক পুরোদস্তুর চক্র। সেই চিঠি অনুযায়ী, রেল, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সাংসদ কোটায় সরকারি বা সরকার-সংশ্লিষ্ট চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নাকি ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বারবার আশ্বাস দেওয়া এবং কাজ না হওয়ায় সামান্য কিছু টাকা ফেরত দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও, আসল সত্য হল—টাকার সিংহভাগ, অর্থাৎ ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি (Suvendu Adhikari)।”
উদ্বেগ প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস জানায়, “চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিজেদের হকের টাকা ফেরত চাওয়ার পর অভিযোগকারী ও তাঁর পরিবার এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যখন নিজের টাকা ফেরত চাইলেই জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, তখন তা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে বাংলায় নিজেদের দলের অন্দরে বিজেপি কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।”
এই ঘটনা নিয়ে শেষে বলা হয়েছে, “এটি কেবল দুর্নীতি নয়। জবাবদিহি না দিয়ে, বিনা বাধায় ভীতি প্রদর্শন করে এমন একটি দলীয় কাঠামো তৈরি করা, যা শোষিতদের কণ্ঠরোধ করে অভিযুক্তদের সুরক্ষা জোগায়। যখন খোদ বিরোধী দলনেতা নিজের দলের কর্মীদের থেকেই কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেও দলের অভ্যন্তরে কোনও প্রশ্নের মুখে পড়েন না, তখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁরা কী ধরনের আচরণ করতে পারেন, তা সহজেই অনুমান করা যায় (Suvendu Adhikari)।”