চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বঙ্গে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভা। আগামী সোমবার সকাল ১১টায় কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত এক মেগা অনুষ্ঠানে নতুন করে আরও ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নিতে চলেছেন। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এই বড় খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আগামিকাল পশ্চিমবঙ্গের জনগণের রায়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রবাদী সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হতে চলেছে। মহামান্য রাজ্যপাল শ্রী আর এন রবি মহোদয় নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।”
গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তাঁর সঙ্গে আরও ৫ জন মন্ত্রী শপথ নেন। সোমবারের এই সম্প্রসারণের পর রাজ্যে মোট মন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৪১। সূত্রের খবর, নতুনদের মধ্যে ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। নিয়মানুযায়ী বাংলায় সর্বোচ্চ ৪৪ জন মন্ত্রী থাকতে পারেন, বিজেপি সেই সংখ্যার প্রায় কাছাকাছি গিয়ে সমস্ত জেলা ও জাতিকে বার্তা দিতে চাইছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, সোমবার শপথগ্রহণ শেষ হওয়ার পরেই দফতর বণ্টন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। শোনা যাচ্ছে, বর্তমানে যে ৫ জন মন্ত্রী রয়েছেন, তাঁদের ওপর থেকে কাজের চাপ কমাতে বেশ কিছু দফতর কেড়ে নেওয়া হতে পারে। তবে ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে পরিচিত অর্থ এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে পারেন।
বিজেপির এই নতুন মন্ত্রিসভায় একদিকে যেমন অভিজ্ঞতার দাম দেওয়া হয়েছে, তেমনই রাখা হয়েছে সামাজিক আবেগ ও গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের পরিচিত মুখদের। বিশেষ করে আরজি কর কাণ্ডে নিহত ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথকে (পানিহাটি) মন্ত্রিসভায় এনে বিজেপি বড় চমক দিতে চলেছে। পাশাপাশি রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী এবং অশোক দিন্দার মতো সেলিব্রিটি বিধায়কদেরও মন্ত্রী করা হচ্ছে।
একনজরে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা ও তাঁদের কেন্দ্র:
উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল: শঙ্কর ঘোষ (শিলিগুড়ি), শিখা চট্টোপাধ্যায় (ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি), দীপক বর্মন (ফালাকাটা), মালতি রাভা রায় (তুফানগঞ্জ), ড. প্রণত টুডু (বিনপুর), সুদীপ মুখোপাধ্যায় (পুরুলিয়া)।
কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা: তাপস রায় (মানিকতলা), স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী), ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ (বেহালা পশ্চিম), শঙ্কর শিকদার (বেহালা পূর্ব), ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (বিধাননগর), পাপিয়া অধিকারী (টালিগঞ্জ)।
দক্ষিণবঙ্গ ও অন্যান্য জেলা: অর্জুন সিং (নোয়াপাড়া), জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (সিউড়ি), দুধকুমার মণ্ডল (ময়ূরেশ্বর), রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (সোনারপুর দক্ষিণ), রুদ্রনীল ঘোষ (শিবপুর), মনোজ ওঁরাও (কুমারগ্রাম), অম্লান ভাদুড়ি (ইংরেজবাজার), পার্থ ঘোষ (রানিগঞ্জ), নীলাদ্রি শেখর দানা (বাঁকুড়া), অরুণ হালদার (জামালপুর), শীতল কপাট (ঘাটাল), অশোক দিন্দা (ময়না), বিমান ঘোষ (পুরশুড়া), সঞ্জয় সিং (বালি), দেবাংশু পাণ্ডা (ফলতা), দীপঙ্কর জানা (কাকদ্বীপ), ড. রাজেশ কুমার (জগদ্দল), পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় (রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম), গৌরীশঙ্কর ঘোষ (মুর্শিদাবাদ), সত্যেন্দ্রনাথ রায় (গঙ্গারামপুর), কৌশিক চৌধুরী (রায়গঞ্জ), কলিতা মাঝি (আউশগ্রাম), গার্গী দাস ঘোষ (কান্দি)।
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, এই মন্ত্রক বণ্টনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমীকরণ নয়, বরং বিধায়কদের পূর্বের কাজের দক্ষতা, পেশাদার যোগ্যতা এবং নিজ নিজ জেলার ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের বহু তরুণ বিধায়ক এবার সরাসরি বড় দফতরের দায়িত্ব পেতে চলেছেন।