ad
ad

Breaking News

Dilip Ghosh

কলেজের ভেতরে ম্যাসাজ পার্লার-লাক্সারি বেডরুম, সুরেন্দ্রনাথ কাণ্ডে মমতাকেই কাঠগড়ায় তুললেন দিলীপ

সুদীপ-নয়নার উদ্বোধন করা ঘরেই চলত উদ্দাম নাচ-গান ও ম্যাসাজ? শিউরে ওঠার মতো তথ্য সুরেন্দ্রনাথ কলেজে!

Surendranath College Luxury Bedroom Row Dilip Ghosh Slams TMC

চিত্র : সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: পোড়া নোট উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই সংবাদ শিরোনামে ছিল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজ। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতেই সেই ঘটনার মোড় ঘুরে গেল এক চরম ও বিস্ফোরক কেলেঙ্কারির দিকে। খোদ কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরেই হদিশ মিলল এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিলাসবহুল ‘বেডরুমের’! সেখান থেকে কন্ডোম, মদের বোতল এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। আর এই নজিরবিহীন ঘটনা নিয়ে বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

বিছানা, এসি, ম্যাসাজ পার্লার, কী নেই কলেজের ভেতর!

তদন্তে জানা গিয়েছে, কলেজের ছাদে ‘টেরেস ফেসিলিটি’-র নাম করে দুটি এলাহি বেডরুমের উদ্বোধন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, এই ঘর দুটি সম্পূর্ণ নিজেদের ব্যক্তিগত বিনোদনের জন্য ব্যবহার করতেন কলেজের পরিচালন সমিতির প্রভাবশালী তৃণমূল সদস্য দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। এসি, দামি তোষক, বালিশ থেকে শুরু করে এটাচড বাথরুম, সবই ছিল সেখানে। আরও মারাত্মক অভিযোগ, এই ঘরে ওই দুই তৃণমূল নেতাকে ম্যাসাজ দিতে বাধ্য করা হতো কলেজের কিছু চাকুরিরতদের। শুধু তাই নয়, ঘণ্টা হিসেবে নাকি বহিরাগতদের কাছে ভাড়াও দেওয়া হত এই শিক্ষামন্দিরের অন্দরমহল! সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু কন্ডোম এবং ছাদ থেকে মিলেছে মদের খালি বোতল।

“মমতা সবটা জানতেন!”, সরব দিলীপ ঘোষ

বুধবার সকালে এই ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুলে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সুর চড়ান দিলীপ ঘোষ। তিনি পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা ও শিক্ষা ব্যবস্থার দফারফা হওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, “একটা রাজ্যের কী হাল করে ছেড়েছে এরা! কলেজের ভেতরে এই সমস্ত নোংরামি চলছে। কসবা কলেজে দলের ছাত্রীকে ধর্ষণ করছে নেতা, হাসপাতালে প্রকাশ্য দিবালোকে চিকিৎসককে খুন করা হচ্ছে! আর ওনারা বলবেন কিছু জানতেন না? এটা হতেই পারে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবটা জানতেন।”

যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ। এই বেডরুম বা উদ্ধার হওয়া সামগ্রী সম্পর্কে তিনি বিন্দুমাত্র কিছুই জানেন না। তবে এই ঘটনায় কলকাতার শিক্ষা মহলে যে তীব্র লজ্জার ছায়া নেমে এসেছে, তা বলাই বাহুল্য।