চিত্র- সংগৃহীত
AK Bangla Desk: একাধিক মামলায় হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও আইনি চাপ কাটছে না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। নতুন করে দায়ের হওয়া আরও কয়েকটি এফআইআরের জেরে গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর আইনজীবীর। সেই কারণেই ফের কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন সুমিত। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান তাঁর আইনজীবী। তবে সেই আর্জি গ্রহণ করেননি বিচারপতি। আদালত জানিয়ে দেয়, মামলাটি নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই শুনানি হবে, এখনই জরুরি ভিত্তিতে শুনানি সম্ভব নয়। সুমিতের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও চারটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে আগের দু’টি মামলায় তিনি ইতিমধ্যেই আগাম জামিন পেয়েছেন। কিন্তু বাকি মামলাগুলিতে গ্রেফতারির আশঙ্কা রয়েছে বলেই দ্রুত আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার জমি-দুর্নীতির একটি মামলায় সুমিতকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ওই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। আগামী ১৪ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। এর আগে একই জমি-দুর্নীতি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুমিত। গত সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সেই আবেদন খারিজ করে দেন। যদিও চাকরি-দুর্নীতির একটি পৃথক মামলায় শর্তসাপেক্ষে তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করা হয়। হাই কোর্টের নির্দেশ ছিল, চাকরি-দুর্নীতি মামলায় ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হতে হবে সুমিতকে। পরে তদন্তের প্রয়োজনে আবার তলব করা হলে সেক্ষেত্রেও হাজিরা দিতে হবে। জমি-দুর্নীতি মামলাতেও তাঁকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এদিকে একাধিক মামলায় পুলিশ সুমিতের খোঁজ চালালেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েও তাঁকে না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পুলিশ। সেই আবেদনের ভিত্তিতে মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছিল। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেন সুমিত। হাই কোর্ট থেকে স্বস্তি না মেলায় তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান এবং সেখান থেকে জমি-দুর্নীতি মামলায় সাময়িক রক্ষাকবচ পান।