চিত্র : সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: রাজ্যজুড়ে প্রতিদিনই ঘটছে একের পর এক পথদুর্ঘটনা। শহর থেকে গ্রাম, সব জায়গাতেই এই দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এর মোকাবিলায় রাজ্য সরকার একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। খড়্গপুর আইআইটি-র বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে শহর বা গ্রামের স্কুল সংলগ্ন রাস্তায় গাড়ির গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার এর বেশি হবে না। এছাড়া, জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে গাড়ির গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার এর বেশি রাখা যাবে না। পরিবহণ দফতর সম্প্রতি এই মর্মে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
[আরও পড়ুন: দিঘা মোহনার গ্রোয়িং বাঁধের কাছে ট্রলার ডুবি! অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মৎস্যজীবিরা]
খড়্গপুর আইআইটি-র রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ডানকুনি থেকে খড়্গপুরের মধ্যে জাতীয় সড়কের ধারে ৮০টি স্কুল রয়েছে। কিন্তু, এই স্কুলগুলির শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিরাপদে যাতায়াত করবে, তার জন্য কোনও পরিকল্পনা করা হয়নি। এছাড়া, গ্রামাঞ্চলের রাজ্য সড়কগুলোতে সাইকেল, অটো রিকশা, টোটো এবং ছোট গাড়ির চলাচল বেড়েছে, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে বেশি। এসব দুর্ঘটনা কমানোর জন্য যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।
[আরও পড়ুন: দিঘা মোহনার গ্রোয়িং বাঁধের কাছে ট্রলার ডুবি! অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মৎস্যজীবিরা]
আইআইটি-র বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে, স্টেট রোড সেফটি কাউন্সিল একটি মাপকাঠি তৈরি করেছে এবং তার ভিত্তিতেই পরিবহণ দফতর রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশিকা তৈরি করেছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায়, যেখানে রিকশা, টোটো বা অটো রিকশা চলে, সেখানে গাড়ির গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারের বেশি রাখা যাবে না। স্কুল, কলেজ, বাজার, হাসপাতাল বা বড় আবাসনগুলির কাছে গাড়ির গতি ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার হতে হবে।
বিশেষভাবে, ভিআইপি রোড এবং বাইপাসে গাড়ির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকবে। তিন লেনের রাস্তা এবং সার্ভিস রোডে গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার হতে পারে। তবে, নির্দেশিকা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবহণ দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নীতি কার্যকর করার জন্য পুলিশকে আরও তৎপর হতে হবে।
পরিবহণ দফতরের উপদেষ্টা ও আইআইটির অধ্যাপক ভার্গব মৈত্র জানিয়েছেন, “পথ নিরাপত্তার জন্য গতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ নেই। রাজ্যে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ পথচারী, সাইকেল আরোহী বা মোটরবাইক আরোহী আহত বা নিহত হন। তাই যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি।”