চিত্র : নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: রাজ্যে পালাবদল! আর সেই পালাবদলের আঁচ সরাসরি এসে পড়ল রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বলয়ে। মঙ্গলবার রাত থেকেই শুরু হয় নিরাপত্তা কাটছাঁটের প্রক্রিয়া, যা বুধবার সকালের মধ্যে কার্যত চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। এতদিন যে কালীঘাট, ক্যামাক স্ট্রিট কিংবা হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িগুলি নিরাপত্তার দুর্ভেদ্য প্রাচীরে ঘেরা থাকত, তা এখন কার্যত সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত।
শান্তিনিকেতনে এখন শুধুই ফাঁকা চেয়ার
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’। এতদিন এই বাড়ির সামনে ছিল পুলিশি কিয়স্ক, ব্যারিকেড এবং ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র পুলিশি পাহারা। অথচ বুধবার সকালে সেই চিরচেনা ছবি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। পুলিশ কিয়স্কগুলি কার্যত ফাঁকা, আর সামনের চেয়ারগুলিতে বসে থাকার জন্য কোনো পুলিশকর্মীও নেই। লালবাজারের নির্দেশে মঙ্গলবার রাতেই এই বিশেষ নিরাপত্তা সরানোর কাজ শুরু হয়েছিল। এখন থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেবল একজন সাংসদ হিসেবে যেটুকু প্রটোকল পাওয়ার কথা, শুধুমাত্র সেটুকুই দেওয়া হবে বলে খবর।
উন্মুক্ত কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিট
নিরাপত্তা কাটছাঁটের তালিকায় বাদ যায়নি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনও। মঙ্গলবার সকালেই সরানো হয়েছে তাঁর বাড়ির সামনের গলি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ব্যারিকেড। এতদিন যে রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করার আগে পুলিশের অনুমতি লাগত, তা এখন সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মঙ্গলবার বিকেলে সরানো হয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসের সামনে থাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনিক প্রটোকল পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা বঙ্গ রাজনীতির ক্ষমতার অলিন্দে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিতবাহী। ভিআইপি সুরক্ষা নিয়ে নবান্নের নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন প্রশাসনিক নিয়মমাফিক, তেমনই অন্যদিকে এটি যে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, আমজনতার জন্য খুলে দেওয়া এই রাস্তাগুলিতে ভিড় বা নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে প্রশাসন আগামী দিনে কী ব্যবস্থা নেয়।