ad
ad

Breaking News

Prasant Barman

ফের খুলল খুনে অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের ফাইল, মাঝরাতে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে হানা এসটিএফ-পুলিশের

এই হাই-প্রোফাইল খুনের মামলায় তদন্তের গতি বাড়াতে এবং পলাতক বিডিও-কে খাঁচায় পুরতে সিটের সঙ্গে এবার যুক্ত করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ (STF)-কে।

STF Joins SIT Probe, Raids Ousted BDO Prasant Barman's New Town Flat

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরই এবার প্রশাসন তথা রাজ্য পুলিশের অন্দরে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন ‘ক্লিনিং অপারেশন’। বিগত সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং সল্টলেকের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কুমিল্যা পিটিয়ে খুনে মূল অভিযুক্ত তথা অপসারিত বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মনের ফাইল ফের নতুন করে খুলল পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে তাঁর নিউটাউনের অভিজাত ফ্ল্যাটে অতর্কিত হানা দিল বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)। এই হাই-প্রোফাইল খুনের মামলায় তদন্তের গতি বাড়াতে এবং পলাতক বিডিও-কে খাঁচায় পুরতে সিটের সঙ্গে এবার যুক্ত করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ (STF)-কে।

জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও পদে থাকাকালীন প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে সল্টলেকের নামী স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কুমিল্যাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুন করার মারাত্মক অভিযোগ ওঠে। সেই সময় তদন্তে নেমে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট একটি সিট গঠন করলেও, পূর্বতন জমানায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশান্ত গ্রেফতারি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বারবার আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও, তা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেপাত্তা ছিলেন এই আইএএস (IAS) মহলের ঘনিষ্ঠ অফিসার।

বুধবার রাতে নিউটাউনের সেই বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে যখন সিটের আধিকারিকরা হানা দেন, তখন তাঁদের সঙ্গে ছিল এসটিএফ এবং রাজ্য ফরেনসিক ল্যাবের (FSL) একটি বিশেষ দল। ধৃত ও পলাতক প্রশান্তর ফ্ল্যাটের কোণে কোণে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক নমুনা, ডিজিটাল নথি ও ডায়েরি সংগ্রহ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

জামিন পেয়েই বেপাত্তা! পুলিশের ‘রহস্যজনক’ ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ নতুন প্রশাসন

উল্লেখ্য, এই প্রশান্ত বর্মনের গ্রেফতারি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা আগে বারবার বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গত জুন মাসেই খাস নিউটাউনের বুকে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারার অভিযোগে নিউটাউন থানার পুলিশ তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে, খুনের মামলার মতো জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁকে সেই মামলায় অ্যারেস্ট না দেখিয়ে কেবল পথ দুর্ঘটনার লঘু ধারায় জামিন দিয়ে দেয়! থানা থেকে বেরোনোর পর থেকেই ফের হাওয়া হয়ে যান এই অপসারিত বিডিও।

“ভিনরাজ্যে পালালেও রেহাই নেই”, এবার কোমর বেঁধে ময়দানে এসটিএফ

নবান্নের ক্ষমতার পালাবদলের পর স্বরাষ্ট্র দফতরের নির্দেশে এই ধামাচাপা পড়ে থাকা ফাইলটি নতুন করে টেবিল থেকে বের করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রশান্ত বর্মন আইনি ফাঁক গলে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে ভিনরাজ্যে বা নেপাল সীমান্তে গা ঢাকা দিয়েছেন। সেই কারণেই এবার ওত পেতে থাকা কাউন্টার-টেররিজম ও স্পেশাল ক্রাইম উইং এসটিএফ-কে এই কেসে যুক্ত করা হয়েছে। এসটিএফ-এর এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, “প্রশান্ত বর্মনের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ও ঘনিষ্ঠদের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওড়িশা, বিহার বা ঝাড়খণ্ডে ওঁর কোনও আস্তানা থাকলে, খুব দ্রুত সেখানে স্পেশাল টিম পাঠিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। আইনের হাত থেকে কোনও প্রভাবশালীই আর রেহাই পাবেন না।”