চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের অন্দরে যে মহাবিদ্রোহের সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল, বুধবার তা এক চূড়ান্ত ও নজিরবিহীন পরিণতির দিকে এগিয়ে গেল। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের কাছ থেকে অফিশিয়াল বিরোধী দলের স্বীকৃতি পাওয়ার পরই এক বিস্ফোরক সাংবাদিক বৈঠকে মুখোমুখি হন নব্য তৃণমূলের পরিষদীয় নেতারা। সেখানে উলুবেড়িয়ার বিধায়ক তথা নতুন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে সাফ জানিয়ে দেন, “অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার এই নতুন পরিষদীয় দলের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক নেই।” তবে ‘যুবরাজ’কে পুরোপুরি ছেঁটে ফেললেও, সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রতি নিজেদের আনুগত্য বজায় রেখেছেন বিদ্রোহীরা।
তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ২৮ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দলের সিংহভাগ বিধায়ক একযোগে কোনও বড় পদক্ষেপ নিলেন। রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক তথা মমতা ক্যাবিনেটের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং বর্তমান নব্য পরিষদীয় দলের চিফ হুইপ আখরুজ্জামান এদিন স্পষ্ট করে দেন, “এখানে আমরা যাঁরা রয়েছি, সকলেই তৃণমূলের প্রকৃত বিধায়ক। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা নিয়ে আমাদের মনে বিন্দুমাত্র কোনও সংশয় নেই। আমরা তাঁর মেন্টরশিপ বা পরামর্শেই প্রধান বিরোধী দল হিসাবে কাজ করতে চাই।”
মমতাকে নেত্রী মানলে আজ কেন এই বিদ্রোহ? এই প্রশ্নের উত্তরে আখরুজ্জামান একপ্রকার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “নেত্রী আমাদের দু’বার ডাকার পর আমরা গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে সঠিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করা হয়নি (শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবের সই জাল কাণ্ডকে ইঙ্গিত করে)। বাজারে প্রশ্ন উঠছিল তৃণমূল নাকি পরিষদীয় রীতিনীতিই জানে না! এতে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম দলের মুখ পুড়ছিল। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই আমরা এগিয়ে এসেছি।” এর পরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলনেত্রীর কাছে জোড়হাতে আবেদন জানিয়ে বলেন, “নেত্রীর কাছে অনুরোধ, তিনি আমাদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসাবে থাকুন। তিনি পাশে থাকলে আমরা সফলভাবে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারব।”
তৃণমূলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ইতিমধ্যে ৬০ জন বিধায়ক এই নব্য পরিষদীয় দলের সঙ্গে চলে এসেছেন বলে দাবি বিদ্রোহীদের। ঋতব্রত জানান, “আপাতত ৬০ জন বিধায়ক মনে করেছেন এটাই আসল বিরোধী দল এবং আমরাই বিধানসভায় তৃণমূলের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছি।”
ঘরের লড়াই সামলানোর পাশাপাশি নতুন শাসকদল বিজেপিকেও কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছে এই নতুন গোষ্ঠী। ঋতব্রতরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা বিধানসভায় বিজেপির সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করবেন। তবে স্রেফ বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়, মানুষের কল্যাণে সরকার কোনও ভাল বিল আনলে তা অন্ধের মতো বিরোধিতা না করে সমর্থন জানানো হবে। যুবরাজকে মাইনাস করে মমতাকে সামনে রেখে বিদ্রোহীদের এই নতুন কৌশল আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।