চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: আরজি করের দুর্নীতির মামলায় নতুন মোড় দেখা গেছে। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হওয়া আখতার আলিকেই এবার সিবিআইয়ের সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (RG Kar Corruption)।
মঙ্গলবার সিবিআই আধিকারিকরা আলিপুরের সিবিআই স্পেশাল কোর্টে অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেন। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই চার্জশিটে আখতার আলির পাশাপাশি শশীকান্ত চন্দক নামের আরও এক ব্যক্তির নাম রয়েছে। অভিযোগ, আখতার আলি ও শশীকান্ত চন্দক মিলিতভাবে যোগসাজশ করে দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন।
যে সময় আরজি করের দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়, সেই সময় থেকেই আখতার আলির নাম নানা আলোচনায় আসছিল। তিনিই আদালতে গিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন এবং প্রকাশ্যে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সেই আখতার আলিকেই এবার সিবিআইয়ের চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে।
এদিকে সিবিআইয়ের চার্জশিটের নাম ওঠা নিয়ে আখতার আলির জানান, ‘চার্জশিটের কপি আমি এখনও পাইনি। আমি আমার অ্যাডভোটেকেটের সঙ্গে কথা বলছি। এবং আমাকে দেখতে হবে, আমার বিরুদ্ধে কী কী চার্জশিট দিয়েছে? আমি আমার অ্যাডভোকেটের সঙ্গে কথা বলব, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি উনি ব্যাপারটা দেখবেন। দরকার হলে আমি কোর্টে মুভ করব। তারপরে আমি কিছু বলতে পারব। দেখুন এটা তো মিথ্যে অভিযোগ। মাঝখানে কোথা থেকে কী হয়েছে, সেটা আমাকে দেখতে হবে, আমাকে একটু সময় দিন। দেখে তারপরে জানাচ্ছি (RG Kar Corruption)।’
দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পরও সম্প্রতি আখতার আলিকেই দুর্নীতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ডেপুটি সুপার থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন, যার ভিত্তিতে সন্দীপ ঘোষ গ্রেফতার হন। পরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর আখতার আলি চাকরি ছাড়ার জন্য পদত্যাগপত্র পাঠান। তবে স্বাস্থ্য দফতর তাঁর ইস্তফা গ্রহণ না করে সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত নেয়।
স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, তদন্তে আখতার আলির বিরুদ্ধেও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরঞ্জাম সরবরাহের বরাত পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নিয়েছেন, পরিবারের জন্য বিমানের টিকিট কাটিয়েছেন এবং বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে একাধিকবার আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সংস্থা থেকে তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকা জমা পড়ে এবং আরেকটি সংস্থা থেকে ২ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ৪ কোটি ১৪ লক্ষ টাকার বরাত পাইয়ে দিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে (RG Kar Corruption)।