চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার (Municipal Recruitment Scam) তদন্তে আবারও সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED) দপ্তরে হাজিরা দিলেন মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি সল্টলেকের ইডি দপ্তরে পৌঁছন। এই নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয়বার কেন্দ্রীয় এজেন্সির মুখোমুখি হলেন তিনি। এদিন ইডি দপ্তরে ঢোকার মুখে শনিবার ও রবিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হওয়া প্রকাশ্য হামলা ও জনরোষের ঘটনা প্রসঙ্গে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন রথীন ঘোষ। সোনারপুর ও চণ্ডীতলায় দলের দুই শীর্ষ পদাধিকারী ও সাংসদের ওপর আমজনতার ক্ষোভ ও বর্বরোচিত আক্রমণের ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হন রথীন ঘোষ। এই বিষয়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে বিজেপির চক্রান্তের তত্ত্ব খাড়া করেছেন, সেখানে রথীন ঘোষের গলায় শোনা গেল কিছুটা আত্মসমীক্ষার সুর। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, “কোথায় খামতি (ভুল বা ত্রুটি) রয়েছে, তা যদি আমরা ঠিকঠাক বুঝতে পারতাম, তাহলে আজ অনেক কিছুই হয়ে যেত।” রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের জনসংযোগ বা রণকৌশলে যে খামতি ছিল, পরোক্ষে সেটাই যেন মেনে নিলেন মধ্যমগ্রামের এই বর্ষীয়ান নেতা।
উল্লেখ্য, রবিবার বিকেলে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে তৃণমূলের যে জরুরি সাংগঠনিক বৈঠক বসেছিল, সেখানেও অনুপস্থিত ছিলেন রথীন। এই বিষয়ে তাঁর সাফাই, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি গতকালের বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। রথীন ঘোষ যখন ইডি দপ্তরে জেরা সামলাতে ঢুকছেন, তার মাত্র কিছুক্ষণ আগেই রাজভবনে (বা লোক ভবনে) নতুন বিজেপি সরকারের ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নিচ্ছিলেন। সেই প্রসঙ্গে রথীনবাবু নতুন মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
প্রসঙ্গ উল্লেখ্য, প্রায় তিন বছর আগে রেশন দুর্নীতি মামলায় তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর, খাদ্য দপ্তরের ভাবমূর্তি ও ‘কলঙ্ক’ ঘোচাতে মধ্যমগ্রামের এই দীর্ঘদিনের বিধায়কের ওপর ভরসা করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছিল খাদ্য দপ্তরের দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব সামলানোর মাঝেই পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ায় রথীনের। ইডির অভিযোগ, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যখন রথীন ঘোষ মধ্যমগ্রাম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে আসীন ছিলেন, তখন তাঁর সুপারিশেই ওই পুরসভায় বহু অবৈধ ও বেআইনি নিয়োগ হয়েছিল।
২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই মামলার কিনারা করতে রথীন ঘোষকে মোট ৫ বার সমন পাঠিয়েছিল ইডি। কিন্তু সে সময় নিজে প্রার্থী হওয়া এবং ভোটের প্রচারের ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে পরপর হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর দেখা যায়, তূণমূলের বিপর্যয় এবং রাজ্যে বিজেপির ঝড়ের মধ্যেও মধ্যমগ্রাম আসনটি কোনওরকমে ধরে রাখতে পেরেছেন তিনি। তবে জয়ের ব্যবধান ছিল অত্যন্ত সামান্য, মাত্র ১৩০০ ভোট।