চিত্র- সংগৃহীত
জয় চক্রবর্তী: জাতীয় ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা সামনে রেখে আগামী ২৮ অগাস্ট রাজ্যজুড়ে সরকারি উদ্যোগে ব্যাপকভাবে রাখিবন্ধন উৎসব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জেলা সদর,প্রশাসনের প্রতিটি স্তরেই এই উৎসব আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং যুব পরিষেবা ও ক্রীড়া দফতরের যৌথ উদ্যোগে গোটা কর্মসূচি পরিচালিত হবে। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, ব্লক, মহকুমা এবং জেলা সদর স্তরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি পুরসভার ৪ থেকে ৫টি চিহ্নিত ও গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডেও রাখিবন্ধন উৎসব আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে ‘ত্রিবর্ণ রঞ্জিত রাখি’। জাতীয় পতাকার তিন রঙের থিমে তৈরি এই বিশেষ রাখি পরস্পরের হাতে বাঁধা ও বিনিময় করা হবে। রাজ্যের যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের তরফে এই ত্রিবর্ণ রঞ্জিত রাখি সরবরাহ করা হবে।শুধু রাখি বিনিময় নয়, অনুষ্ঠানে বাংলার সংস্কৃতিকেও তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবীন্দ্রসঙ্গীত, রবীন্দ্রনৃত্য, স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা, লোকসঙ্গীত ও বাউল গানের মতো নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। স্থানীয় শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠন, যুব ও মহিলা সংগঠন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে, কর্মসূচির জন্য জেলাগুলিকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে। তবে সেই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্ত আর্থিক বিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি, আগাম জেলা-ভিত্তিক পরিকল্পনা ও কর্মসূচির সূচি তৈরি করে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পুরো প্রস্তুতি প্রক্রিয়ায় জেলাশাসকদের ব্যক্তিগতভাবে নজরদারি করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাঁদের উপর দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ছবি-সহ বিস্তারিত ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে পাঠাতে হবে। এই মর্মে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে চিঠি পাঠিয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এবারের রাখিবন্ধন উৎসবকে রাজ্যজুড়ে বড় আকারে তুলে ধরাই সরকারের লক্ষ্য।